অন্যান্য

রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের সাজা আপিলেও বহাল

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯

রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের সাজা আপিলেও বহাল

রয়টার্সের দুই সাংবাদিক কিয়াও সোয়ে (বামে) ও ওয়া লোন। ফাইল ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

রাষ্ট্রের গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের দায়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দণ্ডিত দুই সাংবাদিকের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছে মিয়ানমারের উচ্চ আদালত। এর ফলে তাদের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাত বছরের কারাদণ্ডের আদেশ বহাল থাকলো। খবর রয়টার্সের

শুক্রবার মিয়ানমারের উচ্চ আদালতে এ দুই সাংবাদিকের আপিল আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক বলেন, আসামিরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি তাই তাদের আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া আসামিদের ফাঁদে ফেলে গ্রেফতার করার যে অভিযোগ সে বিষয়েও আদালত নিশ্চিত হতে পারেনি। 

রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সোয়ে’কে (২৮) সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল মিয়ানমারের নিম্ন আদালত।  

২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর দুই পুলিশ কর্মকর্তা ওই দুই সাংবাদিককে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে তাদের হাতে কিছু কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়। রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ গঠন করে পুলিশ। 

পুলিশের দাবি, বিদেশি গণমাধ্যমকে সরবরাহ করতে এসব তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে দুই সাংবাদিকের আইনজীবী বলেছেন, পুলিশই তাদের ফাঁসিয়েছে। কারণ, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়টি প্রকাশ করায় কর্মকর্তারা তাদের শাস্তি দিতে চাইছেন।

মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যার একটি ঘটনা অনুসন্ধান করেছিলেন রয়টার্সের দুই সাংবাদিক। পরে তাদের আটক করে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। রয়টার্স দাবি করে, রাখাইনে দশ রোহিঙ্গাকে হত্যার বিষয়টি উদ্ঘাটন করেন এই দুই সাংবাদিক। সে জন্যই তাদের আশা ছিল যে দুই সাংবাদিকের তৎপরতা জনস্বার্থ হিসেবেই বিবেচিত হবে। 

রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, আমরা অনুসন্ধানী রিপোর্টটি প্রকাশ করেছিলাম, কারণ, এটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ ছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে যা ছিল: উত্তর রাখাইনের ইনদিন গ্রামে সেনাবাহিনী ও কিছু গ্রামবাসী মিলে সারিবদ্ধভাবে একদল রোহিঙ্গাকে বসিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর। ওই ঘটনাই উঠে এসেছিল রয়টার্সের প্রতিবেদনে, যার তথ্য-উপাত্ত ওই দুই সাংবাদিকই সংগ্রহ করেছিলেন। রয়টার্স দাবি করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের এটিই প্রথম কোনো প্রমাণ।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় নিহতদের দাফন শুরু


আরও খবর

অন্যান্য

ছবি: রয়টার্স

  অনলাইন ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মরদেহের দাফন শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে দাফন শুরু হয়।

আজ প্রথম দিনে সিরিয়া থেকে নিউজিল্যান্ড যাওয়া এক বাবা ও তার সন্তানকে দাফন করা হয়েছে। গত বছর শান্তিতে বসবাসের জন্য নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলেন খালেদ মোস্তফা (৪৪) ও তার ছেলে হামজা (১৬)। খবর বিবিসির

ক্রাইস্টচার্চে লিনউন্ড ইসলামিক সেন্টারের পাশে সমাধিস্থলে শত শত মানুষ ভিড় করেন। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। 

নিহত ৫০ জনের মধ্যে এখনও সবার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কাজ শেষ হয়নি। আজই হস্তান্তর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।  

বৃহস্পতিবার আরও কয়েকজনকে দাফন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। লাশ শনাক্তকরণে দেরি হওয়ায় দাফন প্রক্রিয়াও দেরি হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

লাইভ ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৪ হাজার বার: ফেসবুক


আরও খবর

অন্যান্য

ক্রাইস্টচার্চে হামলা

লাইভ ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৪ হাজার বার: ফেসবুক

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা- বিবিসি

  অনলাইন ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে গুলি করে মানুষ হত্যার সময় হামলাকারী সেই দৃশ্য ফেসবুকে লাইভ প্রচার করে। ওই লাইভ ভিডিও মুছে ফেলার আগেই ৪ হাজার বার দেখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারী ব্রান্টন ট্যারেন্ট অস্ট্রেলিয় নাগরিক। নিজেকে শ্বেত শ্রেষ্টত্ববাদী হিসেবে অভিহিত করেন ২৮ বছরের ব্রান্টন। মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫০ জন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তাকে।

ফেসবকু বলছে, ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার লাইভ ভিডিওটি ছিল ১৭ মিনিটের। হামলাকারী ফেসবুক যখন সেটি লাইভ করেন তথন প্রায় ২০০ জন সেটি দেখছিলেন। এর মধ্যে একজন ভিডিওটি শেষ হওয়ার ১২ মিনিটের মাথায় এ নিয়ে রিপোর্ট করেন। হামলার মূল ভিডিওটি মুছে ফেলার আগে সেটি দেখ হয় ৪ হাজার বার।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে খবরটি পৌঁছার আগেই অবশ্য ভিডিওটি কপি করেন কেউকেউ। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুতই বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি মুছতে শুরু করে ফেসবুক।

বিবিসি জানায়, মাত্র ১২ ঘন্টায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ওই লাইভ ভিডিওটির ১২ লাখ কপি ব্লক এবং তিন লাখ কপি মুছে দেয়। ভিডিওটি নিয়ে নিউজিল্যান্ড পুলিশের সঙ্গে ফেসবুক কাজ করছে বলে জানা গেছে। 

ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস সোন্দ্রেবাই বলেন, ফেসবুকে কোথাও ভিডিওটি রয়ে গেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে কাজ করে যাচ্ছি। 

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বেলা দেড়টার দিকে এক স্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর হামলায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

হামলাকারীর নাম মুখে নেবেন না নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

অন্যান্য

ফাইল ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারীর নাম কখনও উচ্চারণ করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ড্রা আর্ডেন।

মঙ্গলবার পার্লামেন্টে দেয়া এক আবেগপূর্ণ বক্তব্যে তিনি এ প্রতিজ্ঞা করেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আর্ডেন বলেন, সে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অনেক কিছুই করতে চেয়েছিল, এর একটি কুখ্যাতি- এই কারণেই আপনারা আমাকে কখনো তার নাম উচ্চারণ করতে শুনবেন না।

পার্লামেন্টের এ বিশেষ বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ‘আসালামু আলাইকুম’বলে সম্ভাষণ করেন, যার বাংলা অর্থ ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’।

আর্ডেন বলেন, আমি আপনাদের অনুরোধ জানাবো, আপনারা তাদের নাম নিন যারা এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তার নাম নয়, যে তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। সে একজন সন্ত্রাসী, সে একজন অপরাধী, সে একজন চরমপন্থি- যখন আমি কথা বলবো, তার নামহীন থাকবে।

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বেলা দেড়টার দিকে এক স্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর হামলায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু এবং অসংখ্য আহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি রয়েছে বলে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ওই দিন জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে আল নুর মসজিদে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তখন সেখানে সফররত বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের কয়েকজন সদস্য।

ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারী ব্রান্টন ট্যারেন্ট একজন অস্ট্রেলিয় নাগরিক। নিজেকে শ্বেত শ্রেষ্টত্ববাদী হিসেবে অভিহিত করা ২৮ বছর বয়সী এই তরুণকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর