অন্যান্য

সেই সৌদি তরুণীকে আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়াকে অনুরোধ জাতিসংঘের

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯

সেই সৌদি তরুণীকে আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়াকে অনুরোধ জাতিসংঘের

রাহাফ মোহাম্মদ আল-কানুন

  অনলাইন ডেস্ক

নিজের পরিবার ছেড়ে পালানো এক সৌদি তরুণীকে একজন 'বৈধ শরণার্ধী' বলে ঘোষণা করে জাতিসংঘ তাকে আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়াকে অনুরোধ করেছে।

ওই তরুণীকে আশ্রয় দেয়া যায় কীনা, সেটি বিবেচনার জন্য জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা অস্ট্রেলিয়াকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর পর অস্ট্রেলিয়া তা 'বিবেচনার' আশ্বাস দিয়েছে বলে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রাহাফ মোহাম্মদ আল-কানুন নামের এই তরুণী ব্যাংককের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। তিনি দাবি করছেন, তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করায় তার জীবন এখন হুমকির মুখে।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমার পরিবার অতি তুচ্ছ অপরাধেও আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। সৌদি আরবে ধর্মত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। রাহাফ এখন হোটেল কক্ষ থেকে তার অবস্থা জানিয়ে নিয়মিত টুইট করছেন।

জাতিসংঘের ঘোষণার পর তিনি লেখেন, কাউকে আপনার পাখা ভেঙে দিতে দেবেন না। আপনি স্বাধীন, লড়াই করে আপনার অধিকার আদায় করুন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে, রাহাফ মোহাম্মদ আল কানুনকে আশ্রয় দেবার ব্যাপারটি তারা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুযায়ীই বিবেচনা করবে।

সৌদি তরুণীটি থাইল্যান্ড হয়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু থাই কর্তৃপক্ষ তাকে সেখান থেকে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

এই সৌদি তরুণী নিজের হোটেল কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন, যাতে থাই কর্তৃপক্ষ তাকে ফেরত পাঠাতে না পারে। শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা এতে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘ তাকে শরণার্থীর স্বীকৃতি দেয়ায় এখন কোন না কোন দেশকে তাকে আশ্রয় দিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়া সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা তাদের অনুরোধ জানিয়েছে, রাহাফ মোহাম্মদ আল-কানুনকে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় দেয়ার কথা বিবেচনার জন্য।

থাই সরকার ইতোমধ্যে রাহাফ মোহাম্মদ আল-কানুনকে ব্যাংকক বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তার সঙ্গে দেখা করতে ব্যাংককে ছুটে এসেছেন তার বাবা এবং ভাই।

থাই কর্তৃপক্ষ বলছে, কেবল মাত্র জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষেই তার সঙ্গে দেখা করা যাবে। অন্যদিকে জাতিসংঘ বলছে, এই সিদ্ধান্ত আসলে পুরোপুরি মিস মোহাম্মদ আল-কানুনের ওপর।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

নেদারল্যান্ডসে ট্রামে গুলিতে নিহত ৩


আরও খবর

অন্যান্য

  অনলাইন ডেস্ক

নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট শহরে একটি যাত্রীবাহী ট্রামে বন্দুকধারীর গুলিতে তিনজন মারা গেছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন পাঁচজন। 

উট্রেখট শহরের মেয়র বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

স্থানীয় সময় সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এটিকে ‌সন্ত্রাসী হামলা মনে করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনার পর থেকে গোকমেন টানিস নামে ৩৭ বছর বয়সী এক তুর্কি নাগরিককে খুঁজছে পুলিশ। তাকে এ হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হচ্ছে।

নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ হামলাকারী খুঁজছে এবং ঠিক কী ঘটেছিল তা জানার চেষ্টা করছে। 


সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সন্দেহজনক প্যাকেট, নিউজিল্যান্ডে বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা


আরও খবর

অন্যান্য

দুনেদিন এয়ারপোর্ট- ছবি স্টাফ ডট কো

  অনলাইন ডেস্ক

সন্দেহজনক একটি প্যাকেট পাওয়ার পর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে নিউজিল্যান্ডের দুনেদিন বিমানবন্দর।

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার ঘটনার একদিনের মাথায় দেশটির দুনেদিন শহরের ওই বিমানবন্দরটিতে এ ঘটনা ঘটল।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবৃতি দিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সেটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। পুলিশও ঘটনাস্থলে রয়েছে। প্যাকেটটিতে কী রয়েছে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

এরআগে শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে বন্দুকধারী এক যুবক দুটি মসজিদে হামলা চালায়। এতে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। ওই যুবক দুনেদিন শহরে বাস করতো বলে জানা গেছে। ওই ঘটনার পর দেশটিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

যেভাবে ধরা পড়ল হামলাকারী


আরও খবর

অন্যান্য
যেভাবে ধরা পড়ল হামলাকারী

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯

ব্রেন্টনকে আটকের ভিডিওর স্ক্রিনশট

  অনলাইন ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা চালিয়ে ৪৯ জন খুনের ঘটনায় আটক ব্রেন্টন টারান্ট ওই হামলার প্রধান সন্দেহভাজন।

শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও আরেকটি মসজিদে হামলার পর ২৮ বছর বয়সী এই যুবক ও আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

আটক ব্রেন্টন টারান্টকে এরই মধ্যে আদালতে হাজির করে তার বিরুদ্ধে একটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। এইক সঙ্গে তাকে হেফাজতে রেখে আগামী ৫ এপ্রিল আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া তথ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা বিভিন্ন বিষয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের ভাষ্যমতে আল নুর মসজিদে হামলায় অংশ নেন ব্রেন্টনই।

কীভাবে এই হামলাকরীকে আটক করা হয়েছে দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই তথ্য।

বেলা দেড়টার দিকে দুটি মসজিদের হামলার পর বিশেষ সতর্কতা জারি করে নিউজিল্যান্ড পুলিশ। বার্তাও পাঠানো হয় পুলিশ সদস্যদের কাছে। ওই সতর্ক বার্তার মাত্র ৩৬ মিনিটের মাথায় ব্রেন্টনকে অনেকটা নাটকীয়ভাবে আটক করতে সক্ষম হন স্থানীয় দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

ব্রেন্টনকে আটক করা দুই পুলিশ কর্মকর্তার প্রশসংসা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আডের্ন। তিনি বলেন, যদি সঠিক সময়ে সন্দেহভাজন ব্রেন্টনকে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আটক না করতেন তবে সে হয়তো আরও মানুষকে হত্যা করতো।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ওই হামলাকরীর গাড়িতে আরও অস্ত্র দেখা গেছে। তার নিশ্চয়ই আরও হামলার পরিকল্পনা ছিল।

হামলাকারী ব্রেন্টনকে যখন দুই পুলিশ কর্মকর্তা পাকড়াও করছিলেন তখন ব্যস্ততম সেই রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়া একটি গাড়ি থেকে কেউ একজন সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।

অনেকটা অস্পষ্ট ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার এক পাশে থেমে থাকা উজ্বল রঙের একটি গাড়ি। তাকে ধাক্কা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশের একটি গাড়ি। পুলিশের গাড়িটি যে গাড়িটিকে চাপ দিয়ে আছে; সেটির সামনে চাকা শূন্যে উঠে আছে। এর পেছনেই পুলিশের আরও কয়েকটি গাড়ি।

ওই ভিডিওতে আরও দেখা যায়, দুইজন পুলিশ সদস্য একজন ব্যক্তির দিকে তাক করে অস্ত্র উঁচিয়ে আছেন। এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা ওই ব্যক্তির কাছে গিয়ে তাকে উল্টে দিচ্ছেন পুলিশের একজন সদস্য।

প্রধানমন্ত্রী আডের্ন বলেন, ওই ব্যক্তিকে ধরতে যে দুই পুলিশ সদস্য কাজ করেছেন তারা স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশের সদস্য। সতর্ক বার্তা দেওয়ার ৩৬ মিনিটের মাথায় তাকে আটক করা হয়।

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশও ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার প্রশসংসা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধমে তাদের ভিডিও দেখে পুলিশ সদস্যদের জন্য গর্ব প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর