সারাদেশ

ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ের ঘটনায় নজর রাখছেন হাইকোর্ট

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ের ঘটনায় নজর রাখছেন হাইকোর্ট

  সমকাল প্রতিবেদক

পাবনায় গণধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূর মামলা না নিয়ে থানায় আসামির সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ প্রশাসনের সার্বিক বিষয়ে নজর রাখছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে বুধবার এ ঘটনার প্রকাশিত খবর উপস্থাপন করে ওই ওসির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে স্বপ্রণোদিত আদেশ চান সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী। 

এ সময় বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে আমরাও বিষয়টা নজরে রাখছি। বুধবার আদালতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ তুলে ধরেন আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গাজী ফরহাদ রেজা ও রোহানী সিদ্দিকা। জামিউল হক আদালতে বলেন, থানায় বসে গণধর্ষণের শিকার নারীকে ধর্ষণের হোতার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন ওসি। আদালত বলেন, বিষয়টি আমরা টিভিতে দেখেছি, মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি আটক হয়েছেন। ওসিকেও শোকজ করা হয়েছে। তখন আইনজীবী বলেন, পত্রিকায় দেখেছি ভুক্তভোগী ও বিয়ের কাজিকে ওসির লোকজন ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে তদন্ত ভিন্ন মোড় নিতে পারে। আদালত বলেন, আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। প্রশাসন যেহেতু ব্যবস্থা নিচ্ছে, আগে দেখি তারা কী ব্যবস্থা নেয়। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আগামী সপ্তাহে আসেন, আমরা দেখব।

পাবনা সদর থানায় মামলা না নিয়ে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর সঙ্গে এক অভিযুক্তের বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর গত সোমবার ওসি ওবাইদুল হকের কাছে ব্যাখ্যা চায় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় মামলা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

গত শুক্রবার রাতে সদর থানায় জোর করে তাকে বিয়ে দেওয়া হয় বলে ওই নারী অভিযোগ করেন। আর যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে পুলিশ তাদের বিয়ে দিয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ হয়।

পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নে স্বামী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন ওই নারী। তার অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ গত ২৯ আগস্ট তাকে অপহরণ করে নিয়ে সহযোগীসহ ধর্ষণ করে। দু'দিন পর তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিন দিন আটকে রাখা হয় এবং সেখানে আরও ৪-৫ জন ধর্ষণ করে। ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানালে গত বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে গৃহবধূ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযুক্ত রাসেলকে আটক করে। এরপর থানায় গৃহবধূর আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।

পাবনা অফিস জানায়, গৃহবধূ গণধর্ষণ এবং থানায় অভিযুক্ত একজনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনার অন্যতম আসামি আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঘন্টুর অফিসেই ওই নারীকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে টেবুনিয়া খাদ্য গুদাম এলাকা থেকে মামলার চার নম্বর আসামি ঘন্টুকে গ্রেফতার করা হয়।

গত সোমবার গৃহবধূর মামলা নেওয়ার পর মঙ্গলবার পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষণের আলামত জব্দ করে পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গৃহবধূকে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাটির পুলিশি তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আলামত জব্দ ও অপরাধস্থল চিহ্নিত করে ঘিরে রাখা হয়েছে।

এসপি আরও জানান, মামলা না নিয়ে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ওসি ওবাইদুল হককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ ব্যাপারে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। কমিটির প্রতিবেদন এবং ওসির কারণ দর্শাও নোটিশের জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিসির কাছে মহিলা পরিষদের স্মারকলিপি :গৃহবধূর বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পাবনা জেলা শাখা। বুধবার মহিলা পরিষদ নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের কাছে এ স্মারকলিপি দেন।

এ সময় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার জলি, অর্থ সম্পাদক রেহানা করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুন নাহার জোসনা, লিগ্যাল এইড সম্পাদক শরিফা খাতুন সুখী, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রোজিনা আকতার ও প্রকল্প সমন্বয়কারী এ এম এস কিবরিয়া উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য


অন্যান্য