সারাদেশ

ভুয়া ওয়ারেন্টে রাজমিস্ত্রী মান্নানের ১৪ দিন কারাবাস

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ভুয়া ওয়ারেন্টে রাজমিস্ত্রী মান্নানের ১৪ দিন কারাবাস

  রাজবাড়ী প্রতিনিধি

ভুয়া ওয়ারেন্টে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে ১৪ দিন হাজতবাস করতে হয়েছে রাজমিস্ত্রী আব্দুল মান্নান খাকে। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ধুঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা। 

পঞ্চগড় থেকে ডাকযোগে আসা ওয়ারেন্টের সূত্র ধরে ২৬ আগস্ট রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর তিনি রাজবাড়ী কারাগার থেকে মুক্তি পান। হতদরিদ্র আব্দুল মান্নানের কারাবাসের চেয়েও বড় কষ্ট তার পরিবারের সুনাম নষ্ট ও আর্থিক ক্ষতি।

আব্দুল মান্নানের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, তার ভাই নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। তার সঙ্গে কারও কখনও ঝগড়াঝাটিও হয়নি। গত ২৬ আগস্ট দুপুরে রাজবাড়ী সদর থানার তিন পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে বলে ধরে নিয়ে আসে। ওই দিনই রাজবাড়ী আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি জানার পর একজন আইনজীবীর পরামর্শে ৩০ আগস্ট পঞ্চগড়ে যান তিনি। পরদিন পঞ্চগড় আদালতে গিয়ে মুহুরির সাহায্য নিয়ে যাচাই-বাছাই শুরু করেন। দেখা যায় এ নামে কোনো মামলা নেই। আইনি জটিলতা কাটিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর তার ভাই রাজবাড়ী কারাগার থেকে মুক্তি পান। 

এ ১৪ দিনে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৩০ হাজার টাকার মতো। তাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এ টাকা পাহাড়সমান। তাদের সম্মানও ক্ষুণ্ণ হয়েছে। কেউ শত্রুতাবশত এ কাজ করেছে বলে ধারণা তার। যেই করুক তদন্ত করে তার শাস্তি দাবি করেন রফিকুল।

পঞ্চগড় আদালতের দায়রা মামলার রেজিস্টার যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, দায়রা ৪৫২/২০১৩ নম্বর মামলা রেজিস্টারে নিবন্ধিত হয়নি। ২০১৩ সালে ১৪৩টি মামলা নিবন্ধিত হয়েছে। তাছাড়া প্রাপ্ত স্মারকে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়নি। পরে আদালতের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে গ্রেফতারি পরোয়ানাটি জাল, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং সৃজনকৃত। কোনো একটি সংঘবদ্ধ চক্র শুধু আসামিকে হয়রানি করতেই এ কাজটি করেছে। অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না হলে বিধি অনুযায়ী মুক্তি দেওয়ার জন্য রাজবাড়ী জেল সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ পেয়ে গত রোববার আব্দুল মান্নানকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। রাজবাড়ী কারাগারের জেল সুপার আনোয়ারুল হক বলেন, আদেশনামা পেয়ে আব্দুল মান্নানকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার হাতে আসার পর আব্দুল মান্নানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে পরে জানা গেছে পরোয়ানাটি সঠিক নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরোয়ানা সতর্কতার সঙ্গে তামিল করা হবে বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ী বারের আইনজীবী অভিজিৎ সোম বলেন, এ ধরনের গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের সময় যাচাই-বাছাই করা উচিত। একজন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হওয়া কোনোমতেই কাম্য নয়।

মন্তব্য


অন্যান্য