সারাদেশ

'মা আর মনি কয়ে ডাকল না'

প্রকাশ : ০৭ আগষ্ট ২০১৯ | আপডেট : ০৭ আগষ্ট ২০১৯

'মা আর মনি কয়ে ডাকল না'

ডেঙ্গুতে নিহত জয়া সাহার দুই মেয়ে দিঘি (বড়) ও দিয়া (ছোট)- সমকাল

  অলোক বোস, মাগুরা

'ফরিদপুর চিকিৎসা নিতি যাওয়ার সুমায় মা কয়ছিল, মনি আমি দুই-তিন দিনের মধ্যি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসবানে, তুমি ছোট বুনটার দিক খেয়াল রাখো। মারে ফরিদপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে গেল। মা আমার সাথে আর কথা কলো না। মা ঠিকই বাড়ি ফিরল, কিন্তু আর মনি কয়ে ডাকল না।' ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিল আর কথাগুলো বলছিল দিঘি (১১)। সে মাগুরা সদর উপজেলা পুটিয়া গ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া জয়া সাহার বড় মেয়ে।

দিঘির ১৪ মাস বয়সী ছোট বোনের নাম দিয়া। পুটিয়া গ্রামের চঞ্চল মিত্রের স্ত্রী জয়া সাহা গত রোববার ভোরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে মারা যান। এর তিন দিন আগে তিনি পুটিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে জ্বরে আক্রান্ত হন। শনিবার সকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর আরোগ্য সদনে নেওয়া হয়। সেখানে রক্ত পরীক্ষা করলে তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। কিন্তু ততক্ষণে তার শরীর থেকে রক্তক্ষরণ, বমিসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শরীরের প্লাটিলেট সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে আসে। এ সময় শনিবার বিকেলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুর থেকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলেও রোববার ভোরে জয়া সাহা মারা যান। চঞ্চল মিত্র বলেন, হঠাৎ করে অসময়ে স্ত্রীর মৃত্যুতে দুটি কন্যাসন্তান নিয়ে তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন।

জয়া সাহার ভাই মিলন সাহা সমকালকে বলেন, সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও বোনকে বাঁচাতে পারেননি। তারা ভাবতেও পারেননি, প্রত্যন্ত গ্রামে এডিস মশার অস্তিত্ব থাকতে পারে। এ বিয়য়ে আগে থেকে সরকারের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীকে সতর্ক করা উচিত ছিল। শুধু জয়া সাহার মৃত্যু নয়, গত এক সপ্তাহে এ গ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন আটজন। জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। পুটিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, ফারদিন নামের তার এক ভাস্তে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে। তার বৃদ্ধ বাবা-মা জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, রোববার রাতে সমকাল পত্রিকার অনলাইনে 'মাগুরার পুটিয়া গ্রাম ডেঙ্গু আতঙ্ক' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়, যা প্রশাসনের নজরে আসে। এ সংবাদের সূত্র ধরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি টিম নিয়ে তিনি পুটিয়া গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। এ গ্রাম থেকে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু ও আটজন আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকে নতুন করে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ভয়ের কিছু নেই, ফগার মেশিন দিয়ে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে স্প্রে করা হচ্ছে।

মন্তব্য


অন্যান্য