সারাদেশ

পাবনায় গণপিটুনিতে শাহীন-কালুর মৃত্যুর খবরে 'এলাকায় স্বস্তি'

প্রকাশ : ১৭ আগষ্ট ২০১৯

পাবনায় গণপিটুনিতে শাহীন-কালুর মৃত্যুর খবরে 'এলাকায় স্বস্তি'

গণপিটুনিতে সর্বহারা পার্টির দুই সদস্যের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা— সমকাল

  পাবনা অফিস

পাবনার সাঁথিয়ায় গণপিটুনিতে নিহত শাহীন ওরফে হল্কা শাহীন ও মাছিম ওরফে কালুর 'জ্বালাতনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল'। সর্বহারা দলের এই দুই সক্রিয় সদস্যের মৃত্যুর খবরে এলাকায় 'স্বস্তি ফিরে এসেছে'।

শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিটন মোল্লা সমকালকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শাহীন ও কালু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এদের জ্বালাতনে অতিষ্ঠ ছিল এলাকাবাসী। তাদের মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এই দুই সন্ত্রাসী নিহত হওয়ায় এলাকাবাসী আনন্দ-উল্লাস করছে।  

ক্যানাল পাড়ের বাসিন্দা নন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য চাঁদ আলী, সিদ্দিক করাতির মেয়ে সুলতানা, আমিন উদ্দিনের স্ত্রী শিলা, রাসেলের স্ত্রী দিশা, লুৎফর রহমানের স্ত্রী সাদিয়াসহ অনেকেই জানান, শাহীন ও কালু অনেক দিন ধরে ছোন্দহ, দাড়ামুদা, চুলকাটিসহ বিভিন্ন গ্রামে গৃহবধূদের স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়া, চাঁদাবাজি, ধর্ষণের পাশাপাশি অটোরিকশা ভ্যান ডাকাতি করে নিয়ে যেত।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাত ১টার দিকে চরমপন্থিদল পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির চার সদস্য সাঁথিয়া উপজেলার ছোন্দহ ক্যানেলপাড়া গ্রামের সিদ্দিক করাতির বাড়িতে হানা দিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কার ডাকাতি করে ফিরে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের ধরতে অভিযান শুরু করে। পুলিশ ও গ্রামবাসীর হাত থেকে বাঁচতে ডাকাতরা ক্যানেলের পানিতে ঝাঁপ দেয়। দু'জন পালাতে সক্ষম হলেও ধরা পড়ে যান বাকি দু'জন। কচুরিপানার ভেতর লুকিয়ে থাকা দুইজনকে ধরে গণপিটুনি দেয় জনতা। পরে পুলিশ জনতার রোষানল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় দু'জনকে উদ্ধার করে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালের নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন– সাঁথিয়া উপজেলার জোড়গাছা গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে শাহীন ওরফে হল্কা শাহীন (৪৫) ও দারামুদা গ্রামের তছিরের ছেলে মাছিম ওরফে কালু (৩৫)।

সাঁথিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘ডাকাতির খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গণপিটুনির শিকার দুই ডাকাতকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই।'

তিনি জানান, নিহত শাহীন ও কালুর বিরুদ্ধে সাঁথিয়াসহ পাবনার বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই ও বিস্ফোরক আইনে প্রায় ১২টি মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় এদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি শাটারগান উদ্ধার করেছে।

মন্তব্য


অন্যান্য