সারাদেশ

যশোরে প্রেমিকের 'প্রতারণায়' কলেজছাত্রীর করুণ পরিণতি

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯

যশোরে প্রেমিকের 'প্রতারণায়' কলেজছাত্রীর করুণ পরিণতি

অভিযুক্ত প্রেমিক শামীম।

  যশোর অফিস

প্রেমিকের প্রতারণার শিকার হয়ে যশোরে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ওই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন সৈয়দ শামীম নামে এক যুবক। এতে মেয়েটি অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে শামীম তাকে বিয়ে না করে পালিয়ে যায়। পরে গর্ভধারণ সংক্রান্ত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তির পর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত কলেজছাত্রীর বাবা কোতয়ালী থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্ত শামীমের ভাই নাসিমকে আটক করেছে। তবে শামীম পালিয়ে যাওয়ায় তাকে এখনও আটক করতে পারেনি।

পুলিশ জানায়, উপশহর এস ব্লকের বাসিন্দা সৈয়দ রওশন আলীর ছেলে শামীমের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন শামীম। একপর্যায়ে ছাত্রী জানতে পারেন, তিনি অন্তঃস্বত্ত্বা। তখন শামীমকে বিয়ে করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু শামীম এতে রাজি না হয়ে গা-ঢাকা দেন। এদিকে  ওই ছাত্রী গর্ভধারণ সংক্রান্ত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত বুধবার তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে দু'দফা অস্ত্রপচারের পর রাখা হয় আইসিইউতে। পরে শুক্রবার সকালে তিনি মারা যান।

নিহতের মামা ফিরোজ আহমেদ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য এহসান উল্লাহ সমকালকে বলেন, আমার ভাগনি খুবই সহজ-সরল ও ভদ্র মেয়ে। তাকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শামীম। তারপর বিয়ে না করে পালিয়ে যায়। এরপর অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে ওই ছাত্রীকে চিকিৎসা প্রদানকারী গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. নার্গিস আক্তার সমকালকে বলেন, জরায়ুর পরিবর্তে তার পাশের নাড়িতে বাচ্চা হয়। তাকে দু'দফা অস্ত্রপচারও করা হয়। কিন্তু বয়স কম হওয়ায় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ না করায় পরে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিয়েও তাকে বাঁচানো যায়নি।

যশোর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সমীর কুমার সরকার জানান, ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা বাদি হয়ে কোতয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। এতে শামীম ছাড়াও তার ভাই ও বাবাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ শামীমের ভাই নাসিমকে আটক করেছে। শামীমকেও আটকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই ছাত্রীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

মন্তব্য


অন্যান্য