সারাদেশ

'বগুড়ার উপ-নির্বাচন দিয়ে ইভিএম জায়েজ করতে চায় সরকার'

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯ | আপডেট : ১২ জুন ২০১৯

'বগুড়ার উপ-নির্বাচন দিয়ে ইভিএম জায়েজ করতে চায় সরকার'

বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। ছবি: সমকাল

  বগুড়া ব্যুরো

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেছেন, খালেদা জিয়ার এই আসনে ফেয়ার ভোট করে সরকার ইভিএমকে জায়েজ করতে চায়। নির্বাচনের পর তারা যাতে বলতে পারে, খালেদা জিয়ার আসনে ইভিএম দিয়ে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। সরকারের এমন পরিকল্পনার কারণে প্রশাসন ও পুলিশের আচরণেরও অনেক পরিবর্তন এসেছে।

আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য এ উপ-নির্বাচন নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। বগুড়া জেলা বিএনপির এই আহ্বায়ক বলেন, ইভিএম মানুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি যন্ত্র। এই মেশিনে ভোট কারচুপি করতে কর্মী বাহিনীর প্রয়োজন হয় না, এমনকি মারামারিরও দরকার হয় না। তাই সরকার কৌশলে এই ইভিএম মেশিনকে জাস্টিফাই করতে খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৬ (সদর) আসনকেই বেছে নিয়েছে।

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের এক মাস আগে থেকে প্রশাসন ও পুলিশের আচরণ ছিল যুদ্ধেংদেহী। কিন্তু এখন তাদের বডি ল্যাংগুয়েজসহ সার্বিক আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। যদিও কিছু কিছু স্থানে ধানের শীষের নির্বাচনী পোস্টার ছেঁড়া হয়েছে। লিফলেট বিতরণের সময় হামলার মতো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এরপরও বলব, এ উপ-নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের সদিচ্ছার একটা ছায়া দেখতে পাচ্ছি।

প্রশাসন ও পুলিশের আচরণের পরিবর্তন আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী। হয়তো সরকারের মধ্যে এক ধরনের বোধদয় তৈরি হয়েছে বলেই এসব পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। তাছাড়া অতীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চারপাশে যারা ছিলেন তারা এখন নেই। নতুন নেতৃত্ব এসেছে। এটাও একটা কারণ হতে পারে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন থেকে দূরে থাকার ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত নির্বাচনেও তারা ছিল না। তাদের ছাড়াই বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এই নির্বাচনে তারা যদি আসে তাহলে আমরা স্বাগত জানাবো। আর না এলে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, ফজুলল বারী তালুকদার বেলাল, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য


অন্যান্য