সারাদেশ

পাওনা টাকা চাওয়ায় ফুটন্ত পানিতে ঝলসে দিল মুখ

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৯

পাওনা টাকা চাওয়ায় ফুটন্ত পানিতে ঝলসে দিল মুখ

  গাজীপুর প্রতিনিধি

বেচাকেনায় ব্যস্ত ছিলেন মুদি দোকানি কামাল হোসেন। ক্রেতার ভিড় ঠেলে দোকানের সামনে গিয়ে পুনরায় বাকিতে জিনিস চায় মনির হোসেন। বকেয়া টাকা পরিশোধ করে পুনরায় বাকিতে জিনিস নেওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করেন কামাল। এতেই ক্ষেপে যায় মনির হোসেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে দোকানের সামনের চুলায় থাকা ফুটন্ত পানির কেটলি হাতে নিয়ে মনির ছুড়ে মারে কামালের মুখে। মুহূর্তের মধ্যে কামালের মুখ ঝলসে যায়।

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার শরীফপুর কোনাপাড়া এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কামালকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠান। এ ঘটনার পরই পালিয়ে যায় মনির।

জানা যায়, কামাল হোসেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার কৈয়ারচালা গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরের শরীফপুর আনু মার্কেট এলাকায় ভাড়া থেকে মুদি ব্যবসা করেন। তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার স্থানীয় একটি সোয়েটার কারখানায় চাকরি করেন। তাদের আট বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। কামালের দোকান থেকে ওই এলাকার মিজানুর রহমান মির্জার ছেলে মনির হোসেন প্রায় সময়ই বাকিতে জিনিস নিত। কখনও সে টাকা পরিশোধ করত না।

স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার সব দোকানিই মনিরের কাছে টাকা পান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগের বকেয়া পরিশোধ না করেই মনির পুনরায় কামালের দোকানে জিনিসপত্র কিনতে যায়। এ সময় কামাল বকেয়া পরিশোধের অনুরোধ জানালে ক্ষেপে যায় মনির। শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। একপর্যায়ে কামালকে বেদম মারধর করা হয়। পরে দোকানের সামনে জ্বলতে থাকা চায়ের কেটলির ফুটন্ত পানি কামালের মুখে ছুড়ে মারে মনির।

স্থানীয় লোকজন জানান, মনির দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদকের ব্যবসা করে আসছে। তার একটি বাহিনীও রয়েছে। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খোলে না।

কামালের স্ত্রী আকলিমা বলেন, পাওনা টাকা চাইলেই মারধর করার হুমকি দিত মনির।

গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কামালের স্ত্রী বাদী হয়ে মনির ও তার বাবাকে আসামি করে বুধবার মামলা করেছেন।

মন্তব্য


অন্যান্য