সারাদেশ

ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

খাঁন ও রাণী বাহাদুরের সংসারে নতুন অতিথি

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

খাঁন ও রাণী বাহাদুরের সংসারে নতুন অতিথি

  মাহমুদুর রহমান মাহমুদ চকরিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে বনগরু দম্পতি 'খাঁন বাহাদুর' ও 'রাণী বাহাদুরে'র সংসারে আবারও এসেছে নতুন অতিথি। এবার একটি স্ত্রী শাবকের জন্ম দিয়েছে মা বনগরু। এর আগে গত বছর এই দম্পতির সংসারে আসে একটি পুরুষ শাবক। এ নিয়ে পার্কে বনগরুর সংখ্যা দাঁড়াল চারটি। সম্প্রতি পার্কের বেষ্টনীতে শাবকটির জন্ম হয়। বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে চলে যাওয়া স্তন্যপায়ী এই প্রাণীর অবরুদ্ধ অবস্থায় দ্বিতীয়বার প্রজনন আরও একটি মাইলফলক বলে মনে করছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

বনগরু বা গৌর নামে পরিচিত এই প্রাণীটিকে ভারতীয় বাইসনও বলা হয়।

বাংলাদেশে অনেকে এটিকে গয়াল বলে ভুল করলেও গয়াল আলাদা প্রাণী। বনগরুর বৈজ্ঞানিক নাম ইড়ং মধঁৎঁং (বস গোরাস)। এর আদিনিবাস বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। বাংলাদেশে এটি অতি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ন (আইইউসিএন) ১৯৮৬ সালে বিশ্বজুড়ে এটিকে 'লাল তালিকা'য় (বিপন্ন প্রাণীর তালিকা) অন্তর্ভুক্ত করে।

ডুলাহাজরার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাঁন বাহাদুর ও রাণী বাহাদুরের সংসারে জন্ম নেওয়া দ্বিতীয় শাবকটিও পার্কের দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আনন্দের খোরাক। এটিকে লালন-পালনের মাধ্যমে বড় করে তোলা হবে।

জানা গেছে, ছয় বছর আগে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা থেকে পাচারের সময় সেনাবাহিনীর একটি দল বনগরুর একটি পুরুষ বাচ্চা উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেটি এই পার্কে হস্তান্তর করা হয়। পার্ক কর্তৃপক্ষ এর নাম রাখে 'খাঁন বাহাদুর'। কয়েক বছর পর তার সঙ্গী হিসেবে পার্কে আসে একটি স্ত্রী বনগরু। এর নাম দেওয়া হয় 'রাণী বাহাদুর'। এটি পার্কে হস্তান্তর করেন বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা। তিনি লালন-পালন করার জন্য এটি সংগ্রহ করেছিলেন।

পার্কের বন্যপ্রাণী পরিতোষক মো. দিদারুল আলম বলেন, খান বাহাদুর ও রাণী বাহাদুরের মধ্যে ভাব জমে ওঠে। পরে তাদের প্রজননে আসে সফলতা।

পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বনগরু দম্পতির দ্বিতীয় শাবকটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও সবল রয়েছে। এটিকে নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। শাবকটি মায়ের দুধ পান করছে।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তত্ত্বাবধায়ক) মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে বনে এখন আর এই বনগরুর দেখা মেলে না। এ অবস্থায় পার্কের আবদ্ধ পরিবেশে পর পর দু'বার বিলুপ্ত প্রজাতির এ বনগরুর প্রজনন একটি মাইলফলক।

মন্তব্য


অন্যান্য