সারাদেশ

দেড় মাসেও উদ্ধার হয়নি পদ্মার ক্যানেলে আটকে পড়া কুমিরটি

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

দেড় মাসেও উদ্ধার হয়নি পদ্মার ক্যানেলে আটকে পড়া কুমিরটি

গত বছরের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে স্থানীয় জেলেরা মাছ শিকার করতে গিয়ে কুমিরটিকে দেখতে পায় -সংগৃহীত ছবি

  পাবনা অফিস

দেড় মাসেও উদ্ধার করা যায়নি পদ্মা নদীর ক্যানেলে আটকে পড়া সেই কুমিরটি। এতে ওই এলাকার বাসিন্দারা ‘কুমির আতঙ্কে’ দিন কাটাচ্ছেন।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন কুমির ধরতে খুব শিগগির আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

পাবনার সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকতা মাহবুবুর রহমান জানান, গত বর্ষার কোনো এক সময় পাবনা সদর উপজেলার চরকোমরপুরে পদ্মা নদীর ক্যানেলে আটকা পড়ে ৬ থেকে ৭ ফুট লম্বা একটি কুমির। গত নভেম্বর মাসের শেষ দিকে স্থানীয় জেলেরা মাছ শিকার করতে গিয়ে কুমিরটিকে দেখতে পায়। এর মধ্যে কুমিরের হাতে আহত হয় বেশ কয়েকজন জেলে। ফলে আতঙ্ক দেখা দেয় এলাকার মানুষের মধ্যে। এরপর দূর দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ প্রতিদিনই ভিড় জমাতে থাকে কুমির দেখতে। স্থানীয়রা কুমিরটিকে উদ্ধারের দাবি জানায়।

তিনি জানান, পরে রাজশাহী বিভাগীয় বণ্যপ্রাণি সংরক্ষণ বিভাগকে কুমির উদ্ধারের জন্য চিঠি দেয় পাবনার সামাজিক বন বিভাগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ক্যানেলে আটকে পড়া কুমির উদ্ধারে নামে বিশেষ টিম। তবে দিনভর চেষ্টা করেও ওই সময় দেখা মেলেনি কুমিরটির। এর পরদিন ভোর থেকে আবারও কয়েকদফা জাল ফেলে কুমিরটিকে ধরার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এরপরও কুমিরটি ধরা সম্ভব হয়নি। ফলে হতাশ হয়ে ফিরে আসে উদ্ধারকারী দল। 

ওই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন বণ্যপ্রাণি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, সামাজিক বন বিভাগ পাবনার বিভাগীয় কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ও আইইউসিএন ঢাকার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে একটি দল, কুমির বিশেষজ্ঞ মোস্তাক আহমেদ ও আদনান আহমেদ, পাবনা পুলিশের ১২ সদস্য বিশিষ্ট টিম ও দোগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকতা মাহবুবুর রহমান আরও জানান, উদ্ধারকারীরা ক্যানেলের দুই দিক থেকে ছাকনির মতো করে জাল ফেলে। সম্ভবত তখন কুমিরটি চুপ করে পানির তলায় মাটির সঙ্গে মিশে ছিল। সে জন্য কুমিরটি ধরা সম্ভব হয়নি। 

তিনি আরও জানান, কুমির ধরতে আরো একটি উদ্যোগ নেওয়া হবে। সে জন্য কাজ চলছে। তবে এ সময়ে তিনি কুমিরটিকে বিরক্ত না করার পরামর্শ দেন। 

তিনি বলেন, কুমিরকে কেউ যদি বিরক্ত না করে, তবে সে কারো ক্ষতি করবে না। মাঝ ক্যানেলে গোসল করা অথবা মাছ ধরা মানুষের জন্য ঝুকিপূর্ণ হবে। তবে কুমিরটি ডাঙায় এসে কারো ক্ষতি করবে না।

সামু মন্ডল নামের এক জেলে বলেন, গত দেড় মাস ধরে ওই ক্যানেলে মাছ ধরা বন্ধ। কুমিরটি ধরা না পরায় আমরা আরও ভয় পাচ্ছি। কুমির আতঙ্গে ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সব সময় ভয় করে কুমিরটি কখন লোকালয়ে এসে পড়ে। 

পাবনা সদর উপজেলার চরআশুতোষপুর গ্রামের আরমান আলী বলেন, এক সময় পদ্মার যে শাখা খালটি মাছ ধরা থেকে শুরু করে, কাপড় কাঁচা, বাসন মাজাসহ বিভিন্ন কাজে এলাকাবাসী ব্যবহার করতো, সে খালে এখন কুমির। ফলে আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গেছে সব কাজ। 

পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন সমকালকে বলেন, আটকে পড়া কুমিরটি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা হচ্ছে। খুব শিগগির কুমিরটি ধরতে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে কুমিরটি সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল বাস


আরও খবর

সারাদেশ

দুর্ঘটনা কবলিত বাস -সমকাল

  লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অন্তত ২০ যাত্রী আহত হয়েছেন। 

সোমবার সকালে জেলার সদর উপজেলার যাদৈয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের মধ্যে মো. নিজাম উদ্দিন, রোকেয়া, নাজমা বেগম, আব্দুল্লাহ রাহাত, দুলাল মিয়া ও আবুল বাশারের নাম জানা গেছে। তাদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে ছেড়ে আসা আনন্দ পরিবহনের একটি বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে আহত অবস্থায় প্রায় ২০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহত যাত্রীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত


আরও খবর

সারাদেশ

  টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে 'বন্দুকযুদ্ধে' এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার গভীর রাতে টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ জানায়, নিহত সামছু ওরফে বার্মায়া সামছু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। তিনি হ্নীলা পশ্চিম সিকদা পাড়ার মৃত মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। 

এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তারা হলেন- এএসআই রাসেল, মো. ফয়েজ ও মো আমির। তাদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

সোমবার সকালে খুদে বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস। 

তিনি জানান, আটক সামছুকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পুলিশ জানতে পারে তার কাছে ইয়াবা ও অস্ত্র সংরক্ষিত আছে। তারই সূত্রে সোমবার রাতে তাকে নিয়ে পুলিশের একটি দল টেকনাফের লেদা চেকপোস্টে ইয়াবা উদ্ধারে যায়। এ সময় সামছুর দলের লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে তাকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও ৪০ রাউন্ড পাল্টা গুলি চালায়। 

ওসি আরও জানান, এক পর্যায়ে পাচারকারীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সামছুকে। এ সময় তাকে উদ্ধার করে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ইয়াবা উদ্ধার অভিযানে গোলাগুলিতে এক শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার ইয়াবা বড়ি, দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ ১০টি মামলা রয়েছে। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে  পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শাঁখারি কার্ত্তিকের 'বাড়ি' বাঁচানোই দায়


আরও খবর

সারাদেশ
শাঁখারি কার্ত্তিকের 'বাড়ি' বাঁচানোই দায়

চলনবিলের সুখ-দুঃখ ৫

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তপন দাশ, চলনবিল থেকে ফিরে

শাঁখারি কার্ত্তিক চন্দ্র সেন। বাড়ি ডেফলচড়া শাঁখারিপাড়া। পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নে এ গ্রাম; চলনবিলের ঠিক দক্ষিণ ধারে। শাঁখা বিক্রি করেই সংসার চালাতে হয় কার্ত্তিককে। কিন্তু এখন ব্যবসা তার মাথায়ই নেই। বাড়িতে বসবাস করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামের প্রভাবশালীরা তাকে তুলে দিতে চাইছে। ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যানও তার কথা কানে তুলছেন না। কার্ত্তিকের সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন তিনি তার ব্যবসার কথা বলবেন, নাকি বাড়ি বাঁচানোর কথা বলবেন- তা ভেবে পাচ্ছিলেন না।

৩৬ ঘর শাঁখারি নিয়ে ডেফলচড়া গ্রাম। কার্ত্তিক সেন তাদেরই একজন। কিন্তু তিনি যেন এই গ্রামের 'বাসিন্দা' হয়ে উঠতে পারছেন না। কারণ একটাই- তিনি থাকেন খাস জায়গায়। চার শতক জায়গার ওপর শোলার বেড়ার ছোট্ট একটা ঘর। ওপরে বাঁশের চাটাই। নীল পলিথিনে মোড়ানো। বারান্দার একপাশে রান্নার চুলা। একটু বৃষ্টিতেই ঘরে জল ঢোকে। শীতে ঢোকে ঠান্ডা বাতাস। ঘরের সামনে একচিলতে উঠান। এই-ই কার্ত্তিকের বাড়ি। এই এক ঘরেই স্ত্রী পূর্ণিমা, দুই ছেলে মিহির ও সবুজকে নিয়ে মাথা গুঁজে থাকেন তিনি। ছেলেরা বড় হয়েছে, তবু আলাদা থাকতে দেওয়ার সুযোগ নেই।

এটা কার্ত্তিকের বাবার ভিটা নয়। তাকে এখানে বসিয়েছিলেন তার কাকিমা। ডেফলচড়া মৌজার এ বাড়িটির দাগ নম্বর-১৭১। ২১-২২ বছর এই খাসজমিতেই কার্ত্তিকের বসবাস। শত চেষ্টা করেও জায়গাটা নিজের নামে রেজিস্ট্রি করতে পারেননি। অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। বারবার উপজেলা ভূমি অফিসে গেছেন। কিন্তু সব চেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন গ্রামের ক'জন প্রভাবশালী। এই একটি মাত্র ঘরেও বিদ্যুতের তার লাগাতে দেননি তারা।

আমরা তিন-চারজন সবেমাত্র কার্ত্তিক সেনের বাড়ির উঠানে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পেছনে এসে দাঁড়ালেন গ্রামের পাঁচ-সাতজন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের জিজ্ঞাসা- আপনারা কারা? এ বাড়িতে বিদ্যুতের মিটার লাগানো যাবে না।

বলার চেষ্টা করলাম, আমরা বিদ্যুতের লোক নই। আমরা শুধু কার্ত্তিক বাবুর সঙ্গে কথা বলতে এসেছি।

এবার তাদের গলার স্বর চড়া। মধ্যবয়সী মোটাসোটা একজন বললেন- আমি রাজকুমার সেন। এ গ্রামের প্রধান। আমার জায়গায় আমি তাকে থাকতে দিয়েছি। তার সঙ্গে কোনো কথা বলা যাবে না। মিটার লাগান আর যা-ই করেন, আমার সঙ্গে কথা বলতে হবে।

সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর রাজকুমার আরও উত্তেজিত হয়ে উঠলেন, 'ও রকম কত সাংবাদিক লুঙ্গির ট্যামোরে গুঁজে রাখি।' এবার তাড়াশের সমকাল প্রতিনিধি আতিকুল ইসলাম বুলবুল ও আরেক সাংবাদিক আবদুস সালামের আঁতে ঘা লাগল। তারা প্রতিবাদ করলেন। বেঁধে গেল হাউকাউ। অনেক কষ্টে বোঝানো গেল- আমরা কার্ত্তিকের সঙ্গে শুধু শাঁখা তৈরি নিয়ে কথা বলতে এসেছি। কথা শেষ হলেই চলে যাব। এবার তারা কিছুটা শান্ত হলেন। নানা কথা বলতে বলতে চলে গেলেন। আমরা ফিরলাম কার্ত্তিকের জীবনকথায়। তার কারুকার্যময় শাঁখা বানানো আর বিক্রির গল্পে।

কার্ত্তিক জানালেন, তারা শাঁখায় নকশা করে বিক্রি করেন। শঙ্খ আসে শ্রীলংকা থেকে ঢাকা, খুলনায়। মহাজনরা সেখান থেকে এনে শঙ্খ কেটে জোড়া জোড়া বিক্রি করেন। তারা নেন এখানকার মহাজনের কাছ থেকে। কখনও ২৫ জোড়া, কখনও ৫০। ভালোগুলো কিনতে হয় ২০০-৩০০ টাকা জোড়া। খারাপগুলো ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এ রকম 'কাঁচা' শাঁখা কিনে তার নকশা করেন। সাদামাটা নকশার হলে দিনে ২০টা পর্যন্ত শাঁখার ফিনিশিং দেওয়া যায়। স্বর্ণ দিয়ে বাঁধানো বা পাথর লাগানোর জন্য যেসব শাঁখা, সেগুলো দিনে দু-তিনটার বেশি বানানো যায় না। শাঁখাভেদে দামেও পার্থক্য। সাধারণগুলো বিক্রি করেন ৩০০-৪০০ টাকা জোড়া। নকশাদারগুলো এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। বিক্রি করতে যান অনেক দূরে। চাটমোহর, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, তাড়াশ, বোনারিনগর ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়ার হিন্দু গ্রামগুলোতে। কোনো দিন পাঁচ জোড়া, কোনো দিন সাত জোড়া বিক্রি হয়। লাভ থাকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

কার্ত্তিকের বয়স বর্তমানে ৫৮। ৩০ বছর ধরে শাঁখার ব্যবসা করছেন। এ ছাড়া তিনি অন্য কাজ জানেনও না, করেনও না। ছোট ছেলেকে নিজের কাজ শেখাচ্ছেন। বড়টা আরএফএলের দরজার ডিজাইন করে। এ দিয়েই চলছে সংসার। কিন্তু বড় অশান্তিতে আছেন বলে জানালেন তিনি। দু-চার দিন পরপর গ্রামের লোকজন এসে বাড়ি থেকে তুলে দিতে চায়। ঘরটা মেরামত পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না।

কার্ত্তিক আরও জানালেন, গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে, অর্থাৎ ১০-১৫ দিন আগে রাজকুমারের কাছে গিয়েছিলেন। বিদ্যুতের মিটার লাগানোর 'অনুমতি' চেয়েছেন। জবাবে রাজকুমার বলেছেন, 'আমি আর কিছু বলব না। বড়জন আসুক। সে যা বলে তা-ই হবে।' কিছুক্ষণ পর বড় ভাই বিজয় সেন এলেন। বললেন, 'মিটারের নাম কেটে হয় আমার নামে, না হয় রাধিকার নামে করে আনো। তারপর মিটার লাগবে।' এর কিছু পর রাধিকার ছেলে রাজীব এসে বলে, 'কোনো কিছু বুঝি না। তুমি এখান থেকে চলে যাও।' বিজয়-রাজকুমাররা ডেকে এও বলেছে- এখান থেকে এক বছরের মধ্যে চলে যেতে হবে। স্ট্যাম্পের ওপর লিখিত দিতে হবে, ' আমি এক বছর পর চলে যাব।'

আপনার ওপর এত জোর-জুলুম কেন? গ্রামের মানুষকে জানান না? কার্ত্তিকের উত্তর, 'জানায়্যা লাভ নাই। রাজকুমাররা গ্রামের প্রধান। তাগোর ওপর দিয়্যা কেউ কথা কয় না। তারা অনেক খাস জায়গা খাচ্ছে। এবার আমার বাড়ির উপুর চোখ পড়ছে।'

-চেয়ারম্যানকে জানাননি?

-জানাইছি। কোনো লাভ নাই। সেও তাদের পক্ষে। ছেলেকে পাঠাইছিলাম। চেয়ারম্যান বলছে- ওয়াপদার বাঁধে গিয়া বাড়ি কর। আর কার কাছে যাব? কারও কাছে যায়্যা কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।

কার্ত্তিকের অভিযোগ সম্পর্কে হান্ডিয়াল ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের কাছে টেলিফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। বলেন- আমাকে মৌখিকভাবে বলেছে, কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারপরও আমি ওই গ্রামের মেম্বার দাদাকে বলেছি, প্রধানদের ডেকেছি। কিন্তু পরে আর কোনো পক্ষই আসেনি।

-আপনি ভূমিহীন কার্ত্তিককে ওয়াপদার বাঁধে চলে যেতে বলেছেন। অথচ রাজকুমাররা নাকি অনেক খাস জায়গা দখল করে খাচ্ছে। কার্ত্তিকের বাড়িটাও নেওয়ার চেষ্টা করছে।

চেয়ারম্যানের উত্তর, 'আমি তাদের ওয়াপদা বাঁধে যেতে বলিনি। আর আমি সব সময় ভূমিহীনদের পক্ষে। তাদের অবশ্যই সহযোগিতা করব। উনি কাগজপত্র নিয়ে আমার কাছে আসুক। সবকিছু দেখে নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ নেব।' তবে তিনি এও বলছেন, রাজকুমাররা কী করেছে, তা তিনি জানেন না।

সংশ্লিষ্ট খবর