সারাদেশ

পরকীয়ার কারণে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আটক স্বামীর স্বীকারোক্তি

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

পরকীয়ার কারণে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আটক স্বামীর স্বীকারোক্তি

  নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীতে মুঠোফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পারভীন আক্তারকে (১৮) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী মো. শেখ সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে নোয়াখালী পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) কার্যালয়ের পরিদর্শক তৌহিদুল আনোয়ারের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের চান্দগাঁও থানার মৌলভী পুকুরপাড় এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

শনিবার দুপুরে নোয়াখালী পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান পিবিআই নোয়াখালী কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাসু দত্ত চাকমা। এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম জানায়, পরকীয়ার কারণে সে স্ত্রীকে হত্যা করেছে।

জানা যায়, নোয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের মো. জহিরুল হকের মেয়ে পারভীন আক্তার তিন বছর আগে চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেয়। সেখানে নড়াইল জেলার ইটনা ইউনিয়নের ডিগ্রিরচর গ্রামের মো. শেখ সেলিমের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেলিমও একই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। 

সেলিম জানায়, পরিচয়ের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ঈদুল ফিতরের তিন দিন আগে সেলিম তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের কথা গোপন রেখে পারভীন আক্তারকে বিয়ে করে ঢাকায় চলে যায়। এ ঘটনার পর সেলিমের প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম সেলিমকে খোঁজাখুঁজি করে ঢাকায় গিয়ে তার দেখা পান। এর পর সেলিমের দ্বিতীয় বিয়ের কথা ফাতেমা জানতে পারেন। তিনি এ বিয়ে মেনে নিলেও ফাতেমার পরিবার তা মানতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে কলহ দেখা দেয়। 

এ ঘটনার পর পারভীনও সেলিমের সঙ্গে থাকতে রাজি হয়নি। তিন মাস আগে পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে পারভীন চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীর গ্রামের বাড়ি চলে আসে। কিন্তু পারভীন বিয়ের কথা পরিবারের কাছে গোপন রাখে। 

সেলিম জানতে পারে, তার স্ত্রী পারভীনের সঙ্গে স্থানীয় সাদ্দাম ও শাহেদ নামে দুই যুবকের প্রণয়ের সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে পারভীন ও সেলিমের মধ্যে মুঠোফোনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতো। সেলিম জানায়, পারভীন তাকে তার মা-বোনকে জড়িয়ে অশালীন কথা বলত। এর পর সেলিম পারভীনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৯ জানুয়ারি সেলিম সোনাপুর জিরো পয়েন্টে এসে হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে একটি ধারালো বড় ছুরি কিনে সন্ধ্যায় পারভীনের বাড়ির পাশে গিয়ে মুঠোফোনে কল দিয়ে ডেকে নেয়। পারভীন বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে সেলিমের কাছে যায়। বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে একটি ধান ক্ষেতের পাশে নিয়ে সেলিম পারভীনকে তার সঙ্গে চট্টগ্রাম যেতে বলে। 

এতে পারভীন রাজি না হয়ে সেলিমের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পূর্বমুহূর্তে তাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সেলিম লাশ ধান ক্ষেতের পাশে ফেলে রাখে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

তারাকান্দায় সহোদর দুই কৃষককে হত্যার দায়ে চারজনের মৃত্যুদণ্ড


আরও খবর

সারাদেশ

  ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহের তারাকান্দার কোদালধর এলাকার সহোদর দুই কৃষককে হত্যার মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন  আদালত।

বুধবার দুপুরে বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো: এহ্সানুল হক এই আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- একই এলাকার রামচন্দ্রপুরের জমির উদ্দিনের ছেলে লিয়াকত আলী (৫৫), লিয়াকত আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫), জমির উদ্দিনের ছেলে আবুল কাসেম(৫০) ও সিরাজ আলীর ছেলে হোসেন আলী (৬২)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে ২০০১ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে ধারালো রাম দা-বল্লমের আঘাতে আসামিরা মৃত হাফিজ উদ্দিনের দুই ছেলে আব্দুর রশিদ ও গিয়াস উদ্দিনকে হত্যা করে পালিয়ে যান। ওই দিনই নিহত গিয়াস উদ্দিনের ভাই আব্দুল খালেক বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় ২২ জনের নামে মামলা করেন।

কয়েকদিন পর বিভিন্ন জায়গা থেকে ২২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৫ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য ও যুক্তি-তর্ক শুনে বিচারক এ আদেশ দেন। 

রাষ্ট্র পক্ষের অ্যাডভোকেট শেখ আবুল হাসেম, বাদী পক্ষের অ্যাডভোকেট আব্দুর গফুর, বিশ্বনাথ পাল ও আসামি পক্ষের অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান মামলা পরিচালনা করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মহাসড়ক অবরোধ করে রাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ


আরও খবর

সারাদেশ

   রাবি প্রতিনিধি

ঢাকায় বাস চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহতের প্রতিবাদে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনের আমতলা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে প্রক্টোরিয়াল বডির আশ্বাসে তারা বিক্ষোভ বন্ধ করেন।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দেন। তাদের হাতে বিভিন্ন  প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

আন্দোলনে ৮ দফা দাবি জানানো হয়। তাদের দাবিগুলো হলো- আবরারের ‘হত্যাকারী’কে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেওয়া, জাবালে নূরের সকল বাস বন্ধ করা, রাস্তায় রাস্তায় চেকিং সিস্টেম বন্ধ করা,  প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্টপেজ রাখা, প্রত্যেক বাস চালকের ছবি এবং লাইসেন্স শো করা, শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া কার্যকর করা, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওভারব্রিজ নির্মাণ এবং প্রতিটি জেব্রা ক্রসিংয়ের পাশে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা।

এর আগে একই দাবিতে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল ও মানববন্ধন করে লোকপ্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা অভিযুক্ত বাস চালকের দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরে আগুনে পুড়ল ২০ ঘর


আরও খবর

সারাদেশ

আগুনে পুড়ে যাওয়া নগদ অর্থ -সমকাল

  টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফের অনিবন্ধিত লেদা রোহিঙ্গা শিবিরে আগুন লেগে ২০টি ঘর পুড়ে গেছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ঘরগুলো আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মতলব। 

তিনি জানান, বুধবার সকালে লেদার স্থানীয় একজনের জমিতে গড়ে উঠা রোহিঙ্গা শিবিরের এইচ বল্কে এক রোহিঙ্গা নারীর ঘর থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।  তবে তার আগেই ২০টি ঘর পুড়ে গেছে।     

রোহিঙ্গারা জানায়, বুধবার সকালে হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগনের সুত্রপাত হয়। প্রথমে হাসিনা বেগমের  ঘরে আগুন লাগে। পরে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ২০টি ঝুপড়ি ঘর পুড়ে যায়।

তারা আরও জানায়, আগুনে কোন হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ঘরে থাকা নগদ টাকা ও চালসহ পণ্য সামগ্রী পুড়ে গেছে। 

টেকনাফ নিবন্ধিত নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের পাশে আবদুল সালাম নামে এক স্থানীয়ের জমিতে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ঘর থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিবিরে যাতে কোন অপ্রতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা নজরদারি রাখছে। 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস পাঠানো হয়েছে। 

তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন বলেও জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর