সারাদেশ

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ: টেকনাফ সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ: টেকনাফ সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় শনিবার সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কবস্থানে ছিল বিজিবির সদস্যরা- সমকাল

  টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

নাফ নদ পেরিয়ে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় কক্সবাজারের টেকনাফে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। 

মিয়ানমারে ফের অস্থিতিশীলতার কারণে এ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে জানান, টেকনাফ বিজিবির ২ নম্বর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আছাদুদ-জ্জামান চৌধুরী।

বিজিবির এ কর্মকর্তা বলেন, 'রোহিঙ্গা ও মাদক ঠেকাতে সীমান্তে রাত-দিন টহল দিচ্ছেন বিজিবির সদস্যরা। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছি আমরা।'

বিজিবি জানায়, টেকনাফ উপজেলা সীমান্তের হোয়াইক্যং, উনচিপ্রাং, ঝিমংখালী, খারাংখালী, হ্নীলা, লেদা, নয়াপাড়া, দমদমিয়া, টেকনাফ সদর, নাজিরপাড়া, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মৎস্যজীবীদের নাফ নদে মাছ ধরা ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মতলব বলেন, নতুন করে মিয়ানমারে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা রোহিঙ্গাদের ওপর প্রভাব পড়লে আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে উখিয়া প্রতিনিধি জানান, গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের বোচিডং চিন্দিফ্রাং থেকে সাত সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবার পালিয়ে এসে কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। 

এ ছাড়া গত এক সপ্তাহে ভারত থেকে কুমিল্লা হয়ে দুই দফায় ৯৩ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুতুপালং ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিম।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

জাকারিয়া আসবেন, তবে...


আরও খবর

সারাদেশ

রক্তাক্ত ক্রাইস্টচার্চ

জাকারিয়া আসবেন, তবে...

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে শুক্রবার বন্দুকধারীর হামলায় নিহত নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জাকারিয়া ভূঁইয়ার মা-বাবা ও স্ত্রীর আহাজারি -সমকাল

  পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি

সেই ২০১৬ সালের আগস্ট মাসের কথা। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে নববধূর সাজে সেজেছিলেন রিনা আক্তার। তখন তার বয়স ২০ বছর। হাতে মেহেদির রঙ না ফুরাতেই বিয়ের ১৭ দিনের মাথায় বিদেশে পাড়ি জমান তার স্বামী জাকারিয়া ভূঁইয়া। অনেক টাকা হবে, সুখ হবে। আরও কত আশা জাগিয়ে ভাগ্যান্বেষণে গিয়েছিলেন তিনি। তারপর শুধু অপেক্ষা। বিনাতারের দুই পাড়ে বসে স্বপ্নের পৃথিবী গড়া। রিনার শুধু এক কথা- তুমি কবে আসবে? আসব, আসব করে সান্ত্বনা দিয়ে গেছেন জাকারিয়া। এ নিয়ে রিনার শ্বশুরালয়েও কত কথা। এভাবে কেটে গেছে প্রতীক্ষার ৩১ মাস। কয়েকদিন আগে জাকারিয়া কথা দিয়েছিলেন, সামনে রোজার ঈদে বাড়ি আসবেন। তারপর শুরু হয় মধুর অপেক্ষা। তবে গত শুক্রবার রিনার সেই অপেক্ষার শেষ ঘটাল শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীর বুলেট।

নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে জাকারিয়াকে হত্যার খবর পেয়ে হৃদয় ভেঙে গেছে রিনার। তার বুনে রাখা ৩১ মাসের স্বপ্নের পৃথিবী ভেঙে যাওয়া কাচের ঘরের মতো তছনছ হয়ে গেছে। তাকে আর সান্ত্বনা দেয় কে? এমন সান্ত্বনার কোনো ভাষা জানা আছে কারও। স্বামীর ঘরবাড়িকেই আঁকড়ে ধরে আড়াই বছর পার করে দিয়েছেন প্রোষিতভর্তৃকা রিনা। যখন তার আসার সময় হলো, তখন এলো তার মৃত্যুর সংবাদ। সাদার শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে গিয়ে গোঁয়ার ব্রেন্টন টারেন্ট এক নিরীহ রিনার জীবনটা শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিল। বিশ্ব বিবেকের ক্যানভাসে রিনার ভাঙা হৃদয়ের ছবি আঁকবে কি কেউ? অবশ্যই না। এ কষ্ট শুধু তার হয়েই থাকবে।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গাজারিয়া ইউনিয়নের সরকারচর গ্রামের আব্দুল আলীর মেয়ে রিনা। একই ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামের আব্দুল বাতেন ভূঁইয়ার ছেলে জাকারিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তার। তাদের সংসার মাত্র ১৭ দিনের। তারপর আড়াই বছর ধরে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে রয়েছেন তার স্বামী। গত রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জাকারিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলে তার বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে।

গতকাল সরেজিমনে জাকারিয়ার বাড়িতে দেখা যায়, পরিবারের সবাই শোকে বিহ্বল। আহাজারি শুনে বোঝা গেল রিনার কষ্টের কারণ। স্বামীর ছবিটি বুকে জড়িয়ে সে কি কান্না তার। বুক চাপড়ে বলছেন, আমার স্বামীকে এনে দাও। তার গগনবিদারি চিৎকারে সবাই স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছেন। তার এই করুণ পরিণতির বিষয়টি শোকের মধ্যেই সবাইকে অন্যভাবে ভাবাচ্ছে।

রিনার বাবা কেঁদে কেঁদে বলছেন, জীবনের শুরুতেই মেয়েটার জীবনে এত বড় আঘাত আসবে, তা কে জানত। আমার জামাই কার কী ক্ষতি করেছিল।

জাকারিয়ার পরিবারের দাবি, সরকার যেন জাকারিয়ার লাশটি শিগগিরই দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেয়। তার মা-বাবা, স্ত্রী ও স্বজনরা অধীর অপেক্ষায় রয়েছে শেষবারের মতো তাকে দেখবেন বলে।

এদিকে, জাকারিয়ার পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পলাশের সাংসদ ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দীলিপ, পলাশ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন তাদের বাড়ি যান। নিউজিল্যান্ড থেকে শিগগিরই লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

পরের
খবর

শিবগঞ্জে দপ্তরির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ


আরও খবর

সারাদেশ
শিবগঞ্জে দপ্তরির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

স্কুলে বিক্ষোভ-ভাংচুর

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

শাহজাহান আলী বাদশাহ

  শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে তেলকুপি উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি শাহজাহান আলী বাদশাহর বিরুদ্ধে ওই স্কুলের সাবেক এক শিক্ষার্থীকে ব্ল্যাকমেইল করে তিন বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা স্কুলে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। এ সময় ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। ওই দপ্তরিকে সাময়িক বরখাস্ত করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত দপ্তরি পলাতক রয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বড় বোন জানান, বর্তমানে স্থানীয় একটি কলেজে অধ্যয়নরত তার ছোট বোন তেলকুপি উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত। ওই স্কুলের দপ্তরির বড় ছেলে তার বোনের বন্ধু হওয়ায় তারা একে অপরের বাড়িতে যাওয়া-আসা করত। তিন বছর আগে তার ছোট বোন ওই স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ত। একদিন সে দপ্তরি বাদশাহর বাড়িতে গেলে বাদশাহ কৌশলে তার কিছু নগ্ন ছবি তোলে। এসব ছবি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। ভুক্তভোগী মেয়েটি স্কুলের লেখাপড়া শেষ করে কলেজে ভর্তি হয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে বাদশাহ আরও অপেক্ষা করতে বলে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নানকে মেয়েটির বাবা লিখিত অভিযোগ দেন। এতে বলা হয়, তার মেয়েকে ব্ল্যাকমেইল করে দীর্ঘদিন থেকে বাদশাহ ধর্ষণ করে আসছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক সাত দিনেও কোনো ব্যবস্থা নেননি।

রোববার বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল সকালে ক্লাসে না গিয়ে দপ্তরির বিচার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে স্থানীয়রাও যোগ দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় বিদ্যালয়ে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রধান শিক্ষক জরুরি সভা করে অভিযুক্ত দপ্তরিকে সাময়িক বরখাস্ত করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তবে প্রধান শিক্ষক জানান, তিনি গত ১৬ মার্চ লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভার মাধ্যমে রোববারই বাদশাহকে সাময়িক বরখাস্ত করেন ও পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

আন্দেলনকারীরা জানান, দপ্তরি বাদশাহকে সাময়িক বহিস্কার করা হলেও তিনি এলাকার প্রভাবশালী ও বিদ্যালয়ের কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের আত্মীয়। তাই তার শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি সিকদার মশিউর রহমান জানান, ঘটনাটি যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রধান শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মামলা দায়েরের জন্য সংশ্নিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত শাহজাহান আলী বাদশাহর বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার সৎ মা জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার ছেলে পরিবার নিয়ে কোথায় গেছে তাও তিনি জানেন না।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম জানান, মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

১২ টাকার ইনজেকশন এক হাজার টাকায় বিক্রি


আরও খবর

সারাদেশ

ফাইল ছবি

  বরিশাল ব্যুরো

'ইফিড্রিল' নামে একটি ইনজেকশনের দাম মাত্র ১২ টাকা। অজ্ঞাত কারণে ইনজেকশনটি বরিশালের ফার্মেসিগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না। এ সংকটের সুযোগ নিয়ে এক ফার্মেসি মালিক এক হাজার টাকায় ইনজেকশনটি কিনতে বাধ্য করেছেন এক রোগীর স্বজনকে। 

সোমবার দুপুরে এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ফার্মেসি মালিককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছেন। তার আগে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন রোগীর স্বজন মো. রুবেল হাওলাদার। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী হচ্ছেন নগরীর ইসলামিয়া হাসপাতালের সামনে অবস্থিত 'মেডিসিন কর্নার' ফার্মেসির মালিক মনিরুল ইসলাম।

বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জয়দেব চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার দুপুরে রুবেল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি বিকেল সাড়ে ৩টায় অভিযানে যান। অভিযোগের সত্যতা মেলায় মালিক মনিরুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রোগীর স্বজন রুবেল হাওলাদার বলেন, চিকিৎসক জরুরি ভিত্তিতে ওই ইনজেকশনটি আনতে বলেন। আমি অনেক দোকান ঘোরার পরও কোথাও না পেয়ে মেডিসিন কর্নার থেকে এক হাজার টাকায় কিনি। এত দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে চিকিৎসককে সবকিছু খুলে বলি। এ সময় চিকিৎসক জানান, এই ইনজেকশনের দাম মাত্র ১২ টাকা। তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেন।

হরুবেল হাওলাদার জানান, মেডিসিন কর্নারে ইনজেকশনটি পাওয়ার পর মালিক মনিরুল ইসলাম এক হাজার টাকা দাম চান। এত দামের কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, নিলে নেন, নইলে চলে যান।

সংশ্লিষ্ট খবর