সারাদেশ

ঈশ্বরগঞ্জে সুহৃদের কম্বল বিতরণ

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ঈশ্বরগঞ্জে সুহৃদের কম্বল বিতরণ

শীতার্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয় কম্বল— সমকাল

  ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

চারিদিকে ব্র‏‏হ্মপুত্রের অথৈ পানি। খরস্রোতার সঙ্গে লড়াই করে বসত নতুনচর গ্রামের মানুষের। নদের সঙ্গে লড়াইয়ে বরাবরই হার মানতে হচ্ছে সেখানের মানুষদের। কখনও ভাঙন, আবার কখনও বন্যা মোকাবেলা করেই চলছেন সেখানের বাসিন্দারা। দ্বীপের মতো এলাকাটিতে সরকারি সহায়তা পৌঁছায় না বললেই চলে। ব্র‏হ্মপুত্রের জেগে ওঠা চরে বসতি গড়া অসহায় শীতার্ত মানুষগুলোর মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে কম্বল নিয়ে হাজির হয় সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অধীনে পড়েছে উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারপর নতুনচর গ্রামটি। নতুনচর গ্রামটি ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, গৌরীপুর ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী স্থানে অবস্থিত। ওই গ্রামে তিন শতাধিক পরিবারের বাস। এখানে বসবাসরতরা সবাই নদী ভাঙনের কবলে পরে নতুন চরের বসতি গড়েছে। গেল বছর বন্যায় তলিয়ে যায় গ্রামটি। নিদারুণ দুর্ভোগে পড়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয় পরিবারগুলো। পানি কমার পর ফিরে আসে শেষ আশ্রয়স্থলে। এ বছর পানির কবলে পড়েনি নতুনচরের মানুষ। তবে ব্র‏হ্মপুত্রের দ্বীপটিতে শীতে কষ্টে দিনাতিপাত করছে মানুষগুলো। শীতার্ত চরাঞ্চলের এই মানুষগুলোর মাঝে উষ্ণতা ছড়াতে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ঈশ্বরগঞ্জ শাখা কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নেয়।

অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণের জন্য গত একমাস ধরে চলে প্রস্তুতি। সুহৃদ সমাবেশের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা সুহৃদ সমাবেশের উদ্যোগে এগিয়ে আসে। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় ২ শতাধিক কম্বল নিয়ে শনিবার সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা যায় নতুনচর গ্রামে।

কম্বল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন গ্রামের বাসিন্দারা— সমকাল

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টাল দিকে ঈশ্বরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বর এলাকা থেকে যাত্রা শুরু হয় ‘অসহায় মানুষের পাশে আমরা’ সুহৃদ সমাবেশের এই স্লোগানের গাড়ি। সড়ক পথে মরিচারচর চৌধুরী বাড়ির ঘাট থেকে ট্রলারে যেতে হয় নতুন চরে। ট্রলারে নতুন চরে যেতে সময় লাগে অন্তত আধা ঘণ্টা। নতুনচরে সুহৃদ টিমের পৌঁছাতে বেজে যায় বেলা ২টা। স্থানীয় মসজিদের মাইকে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম ঘোষণা করেন সুহৃদের কম্বল চলে এসেছে।

এর আগে শনিবার সকালে অসহায় মানুষের তালিকা করে তাদের কাছে স্লিপ পৌঁছানো হয়। স্লিপ নিয়ে একে একে নারী, পুরুষ জড়ো হন ব্র‏হ্মপুত্রের তীরে। সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা সুশৃঙ্খলভাবে অসহায় মানুষগুলোকে কাতার করে বসিয়ে দেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, সুহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা ফেরদৌস কোরাইশী টিটু, সুহৃদ সমাবেশের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন কামাল, সমকালের ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান, সুহৃদ সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, রুহুল আমিন রিপন, রাকিবুল ইসলাম শুভ, মহিউদ্দিন রানা, মো. মোস্তাকীম, রাজব দাস, মোজাম্মেল হক হিরণ, মশিউর রহমান টিটু, মোস্তাকীম পলাশ, আরিফুল হক, আল আমিন মর্তুজা, তরিকুল হাসান রাজন, অজয় গৌঁড়, মোহাইমিনুল ইসলাম শিহাব প্রমুখ।

স্লিপ নিয়ে কম্বল বিতরণ উদ্বোধন করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম। এর পর একে একে স্লিপ সংগ্রহ করে অসহায় মানুষগুলোর হাতে কম্বল তুলে দেয় সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা। সুহৃদ সমাবেশের সদস্যদের হাত থেকে কম্বল পেয়ে খুশিতে বাড়ি ফেরেন অসহায় মানুষগুলো।

গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, গ্রামটির প্রতি ওপর মহলের নজর কম। এখানে সব অসহায় মানুষের বসবাস। সমকাল সুহৃদ সমাবেশ অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

আ'লীগ নেতার দুই পা ভেঙে দিল মাদক কারবারিরা


আরও খবর

সারাদেশ

  সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দিয়েছে মাদক কারবারিরা। 

শুক্রবার সকালে পিরোজপুর ইউনিয়নে মঙ্গলেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, পিরোজপুর ইউনিয়নের কোবরানপুর গ্রামের রাসেলের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে আসছে। এক মাস আগে রুহুল আমিনের ছেলে লুৎফরকে মাদক দেওয়ার চেষ্টা করে রাসেল ও তার সহযোগী আবদুর রহিম। এ ঘটনায় রুহুল আমিন গালমন্দ করেন আবদুর রহিমকে। এরপর লুৎফরকে একা পেয়ে পিটিয়ে আহত করে আবদুর রহিম। এ ঘটনায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে বিচার দাবি করেন রুহুল আমিন। এতে রাসেল ও তার সহযোগীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল রুহুল আমিনকে পিটিয়ে আহত করে। এরপর শুক্রবার সকালে আবার দ্বিতীয় দফায় রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গিট্টু হৃদয়, কমল, সোলায়মান, আবদুর রহিম, নুরুদ্দিন, ইমরানসহ অর্ধশতাধিক লোক হকিস্টিক ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রুহুল আমিনের দুই পা ভেঙে দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাসেল বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গত বছর মাজহারুল ইসলাম নামের এক যুবককে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে তারা। 

অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাদকের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তার এক বন্ধুকে পিটিয়ে আহত করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন পাল্টা হামলা চালিয়েছে। 

সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, হামলার খবর শুনেছেন। অভিযোগ পেলে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

২১ বছর পর গ্রেফতার আজিবুন নেছা


আরও খবর

সারাদেশ
২১ বছর পর গ্রেফতার আজিবুন নেছা

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯

  বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি

দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আজিবুন নেছা নামের ষাটোর্ধ্ব এক নারী ২১ বছর পলাতক থাকার পর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাধু গ্রামের তোরাব আলীর স্ত্রী। শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিশ্বনাথ থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এসআই জবা রানী দেব ও এসআই পরিমল শীল জানান, ১৯৯৯ সালে দায়ের করা সাধু গ্রামে ঘর পোড়ানো মামলায় আজিবুন নেছাকে অভিযুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন শুনানি শেষে আদালত ২০০৫ সালে আজিবুন নেছাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। এতে আজিবুন নেছার ২ বছরের সাজা হয়।

এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা সমকালকে বলেন, ২১ বছর ধরে ওই আসামির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে সিলেট থেকে তাকে গ্রেফতারের পর সাজাপ্রাপ্ত ওই নারীকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

এবার ভিন্ন চিত্র দেখলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত


আরও খবর

সারাদেশ

ওসমানী বিমানবন্দর

এবার ভিন্ন চিত্র দেখলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯

  সিলেট ব্যুরো

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেটে এসেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সে দিন যথারীতি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা গিয়েছিল। ২০০৯ সালে অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর প্রত্যেকবার সিলেটে এলেই এমন চিত্র দেখেছেন তিনি। তবে 'সাবেক' হওয়ার মাত্র এগারো দিন পর ওসমানী বিমানবন্দরে নেমে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখলেন মুহিত। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছে দেখলেন তাকে অভ্যর্থনা জানাতে অপেক্ষা করছেন মাত্র দু'জন!

শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টায় নভো এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সিলেট আসেন সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত। বিমান থেকে নেমে একটি হুইল চেয়ারে করে ভিআইপি লাউঞ্জে পৌঁছান তিনি। এ সময় মুহিতকে অভ্যর্থনা জানান সাবেক এপিএস জনি ভট্টাচার্য। এ ছাড়া প্রায় জনশূন্য ভিআইপি লাউঞ্জে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য ও সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম। এদের নিয়েই সাবেক অর্থমন্ত্রী সরাসরি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যান। শুক্রবার দুপুরে সিলেট স্টেডিয়ামে ঢাকা ডায়নামাইটসের সঙ্গে সিলেট সিক্সার্সের বিপিএল ম্যাচ ছিল। সিলেট সিক্সার্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত এবং চেয়ারম্যান তার ছেলে সাহেদ মুহিত।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তার ছোটভাই ড. এ কে আবদুল মোমেন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে ড. মোমেন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এ আসনে টানা তিনবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হয়েছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এক দশক ধরে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে মুহিত ঢাকা থেকে সিলেট ফিরলে ভিড় লেগে থাকত ওসমানী বিমানবন্দরে। ভিআইপি লাউঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পড়ে যেত হুড়োহুড়ি-ধাক্কাধাক্কি। প্রতি বার মোটর শোভাযাত্রা সহকারে পারিবারিক বাড়ি হাফিজ কমপ্লেক্সে তাকে নিয়ে যাওয়া হত।