সারাদেশ

৯ দিন ধরে খোঁজ নেই ইউপি সদস্য সাইফুরের

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

৯ দিন ধরে খোঁজ নেই ইউপি সদস্য সাইফুরের

  কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর বায়সা ওয়ার্ডের মেম্বার সাইফুর রহমানের খোঁজ মিলছে না। 

পরিবারের অভিযোগ, গত ২৭ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। রাতে মায়ের সঙ্গে একবার মোবাইল ফোনে তার কথা হয়। তারপর থেকে ফোন বন্ধ পাচ্ছে পরিবার। ৯ দিন ধরে কোনো সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন সাইফুরের পরিবারের সদস্যরা।

তার মা আকলিমা বেগম জানান, ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে সাইফুরকে জরুরিভাবে ঢাকায় যেতে বলেন। ২৬ নভেম্বর রাতে ওই ইউনিয়নের লতিফ মেম্বারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঢাকায় যান। পরদিন দুপুরে তিনি মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে ঢোকেন। রাতে তার সঙ্গে একবার মোবাইল ফোনে কথা হয়। এরপর তার আর খোঁজ মিলছে না। 

বুধবার ঢাকা মহানগর ডিবি অফিসের নম্বর নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। সেখানকার এক কর্মকর্তা তাকে জানিয়েছেন, সাইফুর নামে কেউ অফিসে নেই। তারপর থেকে তাদের পরিবারের সকলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মেম্বার আবদুল লতিফ গাজী বলেন, ২৭ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা ঢাকায় ডিবি কার্যালয়ে যান। এরপর সাইফুর এক কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। ডিবি অফিসের সামনে থাকতে বলায় তারা অফিসটির মূল ফটক-সংলগ্ন চালাঘরে অপেক্ষা করেন। কিছুক্ষণ পরে ভেতর থেকে একজন লোক এসে সাইফুরকে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় তিনিসহ আরও দুই ব্যক্তি সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। সন্ধ্যার পর তারা চলে আসেন। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তাকে আদালতেও দেয়নি, ছেড়েও দিচ্ছে না।

এর আগে দলের মনোনয়নপত্র তুলতে ঢাকা এসে লাশ হয়ে ফিরেছিলেন একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আবু বকর। ১৯ নভেম্বর বুড়িগঙ্গায় তার লাশ পাওয়া যায়। ওই সময় সাইফুর মেম্বার আবু বকরের সঙ্গে ঢাকা এসেছিলেন।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান বলেন, মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে না। এটি তদন্ত করছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহ জামান বলেন, ডিবি কাউকে ডেকেছে কি-না তা জানা নেই। তবে সাইফুর নামে কাউকে আমরা ধরিনি।

মজিদপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুর রহমান গাজী বলেন, সাইফুরকে ডিবির কর্মকর্তা পরিচয়ে একজন বারবার ফোন করে ঢাকায় যেতে চাপ দিলে তিনি আরেক মেম্বার আবদুল লতিফ গাজীকে সঙ্গে দিয়ে তাকে ঢাকায় পাঠাই। একদিন পর আবদুল লতিফ গাজী কেশবপুরে ফিরে আসেন। এরপর থেকে নানাভাবে যোগাযোগ করে সাইফুরের খোঁজ জানতে পারেননি। 

তবে ডিবির হেফাজত থেকে ছাড়া পাওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যক্তি মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তাকে ফোন করে জানিয়েছেন, তারাও ৩ রাজমিস্ত্রি ঢাকায় ডিবি অফিসে সাইফুরের সঙ্গে ছিলেন। তাদের ছেড়ে দেওয়ার আগে সাইফুর কয়েকটি ফোন নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন।

নিখোঁজ সাইফুরের চাচাতো ভাই নুরুল্লাহ বলেন, নিহত চেয়ারম্যান আবু বকর আবুর সঙ্গে বিএনপির রাজনীতি করতেন সাইফুর। এবারই প্রথম মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। তার চাচা আব্দুল গফফার ফকিরের ২ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে সাইফুর সবার বড়। তার বয়স আনুমানিক ৩৭ বছর হবে। তবে এখনও বিয়ে করেননি।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

স্টিলের পাইপে ঢুকিয়ে সারাদেশে ইয়াবা পাচার করতেন তারা


আরও খবর

সারাদেশ

ইয়াবাসহ আটকরা -সমকাল

  টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে একটি স্টিল ওয়ার্কসপে অভিযান চালিয়ে ২৪ হাজার ৩শ’ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা।

বুধবার সকালে টেকনাফ পৌরসভার বিজি রোড  নামক এলাকার নুর মোহাম্মদ মার্কেট থেকে তাদের আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৫, টেকনাফ ক্যাম্পের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট মির্জা শাহেদ মাহতাব (পিপিএম)। 

তিনি বলেন, স্টিলের ওয়ার্কসপের আড়ালে ইয়াবার চালান পাচার করছে এমন গেপান সংবাদের ভিত্তিতে এমন খবর ফেয়ে, বুধবার সকালে তিনিসহ র‌্যাবের একটি দল টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লানপাড়ার নুর মোহাম্মদ মার্কেটে অভিযান চালিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে লুকানো স্টিলের পাইপের ভেতর থেকে ২৪ হাজার ৩শ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী গাজীপুরের কলোমাচর এলাকার মকুল আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (৩৪) ও ফেনী জেলার পশ্চিম চিলিনিয়া এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে মোশাররফ হোসেনকে (৩৩) আটক করা হয়। 

লে. মির্জা বলেন, আটকরা স্বীকার করেছে দীর্ঘদিন ধরে স্টিলের ওয়ার্কসপের আড়ালে কৌশলে ইয়াবা ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছিল তারা। তারা বেশ কিছুদিন আগে নুর মোহাম্মদ মার্কেটে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে স্টিলের পাইপে ঢুকিয়ে ইয়াবার চালান সারাদেশে পাচার করতো। অবশেষে তৎপরতার কারণে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে তারা।

আটকদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

তারাকান্দায় সহোদর দুই কৃষককে হত্যার দায়ে চারজনের মৃত্যুদণ্ড


আরও খবর

সারাদেশ

  ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহের তারাকান্দার কোদালধর এলাকার সহোদর দুই কৃষককে হত্যার মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন  আদালত।

বুধবার দুপুরে বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো: এহ্সানুল হক এই আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- একই এলাকার রামচন্দ্রপুরের জমির উদ্দিনের ছেলে লিয়াকত আলী (৫৫), লিয়াকত আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫), জমির উদ্দিনের ছেলে আবুল কাসেম(৫০) ও সিরাজ আলীর ছেলে হোসেন আলী (৬২)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে ২০০১ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে ধারালো রাম দা-বল্লমের আঘাতে আসামিরা মৃত হাফিজ উদ্দিনের দুই ছেলে আব্দুর রশিদ ও গিয়াস উদ্দিনকে হত্যা করে পালিয়ে যান। ওই দিনই নিহত গিয়াস উদ্দিনের ভাই আব্দুল খালেক বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় ২২ জনের নামে মামলা করেন।

কয়েকদিন পর বিভিন্ন জায়গা থেকে ২২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৫ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য ও যুক্তি-তর্ক শুনে বিচারক এ আদেশ দেন। 

রাষ্ট্র পক্ষের অ্যাডভোকেট শেখ আবুল হাসেম, বাদী পক্ষের অ্যাডভোকেট আব্দুর গফুর, বিশ্বনাথ পাল ও আসামি পক্ষের অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান মামলা পরিচালনা করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মহাসড়ক অবরোধ করে রাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ


আরও খবর

সারাদেশ

   রাবি প্রতিনিধি

ঢাকায় বাস চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহতের প্রতিবাদে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনের আমতলা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে প্রক্টোরিয়াল বডির আশ্বাসে তারা বিক্ষোভ বন্ধ করেন।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দেন। তাদের হাতে বিভিন্ন  প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

আন্দোলনে ৮ দফা দাবি জানানো হয়। তাদের দাবিগুলো হলো- আবরারের ‘হত্যাকারী’কে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেওয়া, জাবালে নূরের সকল বাস বন্ধ করা, রাস্তায় রাস্তায় চেকিং সিস্টেম বন্ধ করা,  প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্টপেজ রাখা, প্রত্যেক বাস চালকের ছবি এবং লাইসেন্স শো করা, শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া কার্যকর করা, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওভারব্রিজ নির্মাণ এবং প্রতিটি জেব্রা ক্রসিংয়ের পাশে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা।

এর আগে একই দাবিতে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল ও মানববন্ধন করে লোকপ্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা অভিযুক্ত বাস চালকের দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর