সারাদেশ

গাজীপুরে প্রতারক গ্রেফতার

প্রধানমন্ত্রীর সচিব পরিচয়ে এমপিদের কাছে চাঁদা দাবি

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রধানমন্ত্রীর সচিব পরিচয়ে এমপিদের কাছে চাঁদা দাবি

গ্রেফতার সাব্বির

  টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

নিজেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব বলে পরিচয় দিতেন সাব্বির মণ্ডল (২১)। আবার কখনও কখনও প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পিএস হিসেবেও পরিচয় দিতেন।

এসব পরিচয় ব্যবহার করে প্রায় ৪০ সংসদ সদস্যকে ফোন করে ও মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে চাঁদা দাবি করেছেন তিনি। এই পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে টাকাও নিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন বোর্ডবাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে এই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও আটটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সাব্বির গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার গুটিয়া সরদার পাড়ার মৃত আয়ুইব আলীর ছেলে।

র‌্যাব-১ গাজীপুর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, সাব্বির দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উপায়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব, আবার কখনও কখনও সজীব ওয়াজেদ জয়ের পিএস সামসুল ওরফে মাসুদ ওরফে মনির নামে পরিচয় দিতেন। 

এসব পরিচয় দিয়ে গাজীপুর-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. রহমত উল্লাহ, গাজীপুর-৫ আসনের এমপি মেহের আফরোজ চুমকি, বগুড়া-৫ আসনের এমপি মো. হাবিবুর রহমান, গাইবান্ধা-৩ আসনের এমপি ডা. ইউনুস সরকার, বরিশাল-৫ আসনের এমপি জেবুন্নেসা আফরোজ, খুলনা-৩ আসনের এমপি বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি আব্দুর রহমান বদি, সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, লালমনিরহাট-১ আসনের এমপি মোতাহার হোসেন, নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমান ও গোলাম দস্তগীর গাজী এবং ঢাকার এমপি অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনসহ প্রায় ৪০ এমপির কাছে কখনও মোবাইল ফোনে, কখনও এসএমএসের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তিনি। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে বোর্ডবাজার এলাকার নাসির উদ্দিনের বাড়ি থেকে সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, এসব পরিচয় ব্যবহার করে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় চাকরি দেওয়ার নামে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কথা সাব্বির স্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

বিএনপি কর্মীদের পিটুনিতে আ.লীগ নেতার মৃত্যু


আরও খবর

সারাদেশ

হাসপাতালে নিহতের মরদেহ -সমকাল

  ফরিদপুর অফিস

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের প্রচারের দ্বিতীয় দিনে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে পিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম ইউসুফ আল মামুন (৪০)। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশররাফ হোসেনের কর্মী। বিএনপি সমর্থকদের পিটুনিতে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। 

ইউসুফ আল মামুন সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গি এলাকায় একটি চায়ের দোকানে এই হত্যার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আফসার উদ্দিন বলেন, রাত সাড়ে আটার সময় নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গা এলাকার একটি চায়ের দোকানে আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির সমর্থক মজিদ ও আজিজের নির্বাচন প্রসঙ্গে ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথাকটাকাটি হয়।

তিনি বলেন, মজিদ শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করেন। এ সময় ইউসুফ তার প্রতিবাদ করলে তাকে কিল ঘুষি মারেন মজিদ ও আজিজ। এক পর্যায়ে দোকানের ঝাপের লাঠি দিয়ে ইউসুফকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান ইউসুফ। 

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লালন ফকির গুরুতর আহত হলে তাকে সদর হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের সমর্থক। 

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে অশান্ত করার জন্যই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জমিরউদ্দিন হাজি এ বিষয়ে বলেন, নিহত ইউসুফ ও আজিজ দুইজনই সমবয়সী। তারা একই সঙ্গে চলাফেরা করেন। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নির্বাচন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ থেকে দুর্ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

অন্যদিকে সমর্থকদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

কুষ্টিয়ায় পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ আ.লীগ-বিএনপির


আরও খবর

সারাদেশ

হামলার পর আটক কয়েকজন- সমকাল

  কুষ্টিয়াপ্রতিনিধি

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের নির্বাচনী কার্যালয় থেকে যুবলীগের মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি বলছে, হামলাটা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কোটপাড়ায় কোর্ট ষ্টেশন সংলগ্ন এলাকার এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে।

জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, নৌকার পক্ষে মিছিল নিয়ে তারা কোর্ট ষ্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপি প্রাথী জাকির হোসেন সরকারের অফিস থেকে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এতে যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সরুজসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। 

ঘটনার পর রাতে পুলিশ জাকিরের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়ে জন নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে নৌকার মিছিল বের হয়। মিছিলটি কোটষ্টেশনের পিছনের সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলো। ওই সড়কে বিএনপি প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের নির্বাচনী অফিস। যুবলীগের মিছিলে জাকিরের অফিস থেকে হামলা করা হয়। এতে কমপক্ষে ৬ থেকে ৭জন আহত হন।

জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘জাকিরের অফিস খেকে আমাদের মিছিলে হামলা চালানো হয়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন।'

বিএনপি প্রার্থী জাকির হোসেন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কোটপাড়ায় কোর্ট ষ্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয়তলায় আমার নির্বাচনী কার্যালয়ে পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করছিলাম এসময় হঠাৎ করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৫-২০ জন নেতাকমী লাঠিশোটা নিয়ে হামলা চালায়। দশ মিনিট থাকার পর তারা চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে অভিযান চালায়। যুবলীগের মিছিলে হামলার কোন সত্যতা নেই। এটা মিথ্যা কথা।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, যুবলীগের নৌকার মিছিলে জাকির হোসেনের লোকজন ওপর থেকে ইটপাটকেল ছুড়েছে। এতে ৬-৭ জন আহত হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। অফিসে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যাচাই বাছাই করে ছেড়ে দেওয়া হবে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

জামায়াত নেতাকে জেলে পাঠানো নিয়ে আদালতে হট্টগোল


আরও খবর

সারাদেশ

ফাইল ছবি

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিনকে নাশকতা মামলায় গ্রেফতার দেখানো ও জামিন শুনানিতে আদালতে চরম হট্টগোল করেছেন জামায়াত সমর্থিত একদল আইনজীবী। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। পরে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আদালতে জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীদের হট্টগোল করার কথা স্বীকার করলেও এর থেকে বেশি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কোর্ট ইন্সপেক্টর বিজন কুমার বড়ূয়া। এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা কিংবা জিডি এখনও হয়নি বলেও জানান তিনি। চট্টগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির আবু তাহের বলেন, জামিন ও গ্রেফতার শুনানি নিয়ে হট্টগোল করেন জামায়াত সমর্থক আইনজীবীরা।

জানা গেছে, শুক্রবার জসিম উদ্দিনকে একাধিক নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। লোহাগাড়া থানায় করা অপর একটি নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করে পুলিশ। আদালত তাকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর শুনানির সময় আদালতেই বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল সৃষ্টি করেন আইনজীবীরা।

সংশ্লিষ্ট খবর