যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা

‘ধরিয়ে দিন’ পোস্টারে লাইক পড়লে ধরা দেবেন আসামি!

প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৯

‘ধরিয়ে দিন’ পোস্টারে লাইক পড়লে ধরা দেবেন আসামি!

  অনলাইন ডেস্ক

জোস সিমস নামের এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, প্রতিরক্ষা মূলক আদেশ লংঘন, শান্তি লংঘন এবং মিথ্যা রিপোর্ট করা নিয়ে চারটি মামলা ঝুলছিল। প্রতিটি মামলার জন্য তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ারা জারি করেছিল আদালত। কিন্তু কোনোভাবেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারছিল না।অবশেষে পুলিশের কাছে ধরা দিতে অদ্ভুদ এক শর্ত রাখল সিমস। পুলিশও সেই শর্ত মেনে সেই অনুযায়ী কাজ করলো।

বিচিত্র এই ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের টরিঙ্গটন প্রদেশে। জানা গেছে, চারটি মামলার আসামী জোস সিমসকে ধরতে যখন টরিঙ্গটন হিমশিম খাচ্ছিল তখনই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পুলিশের এক কর্মকর্তাকে সিমস জানান, তার ছবিযুক্ত ‘ধরিয়ে দিন’ পোস্টারটি ফেসবুকে শেয়ার দেওয়ার পর যদি ১৫ হাজার লাইক পড়ে তাহলেই তিনি পুলিশের কাছে ধরা দেবেন। 

যদিও নিজের ছবিযুক্ত ওই পোস্টারে সিমস প্রথমে ২০ হাজার লাইক দাবী করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেন-দরবার করে তিনি ১৫ হাজার লাইক পেলে আত্মসমর্পন করতে রাজী হন। 

পরে পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ধান চেয়ে ওই অভিযুক্তের দুটি ছবি শেয়ার করা হয়। সেখানে ক্যাপসনে একজন পুলিশ কর্মকর্তা লেখেন  ‘জোসে সিমস নামের ওই ব্যক্তি আমাকে বলেছে, সে আমাদের কাছে ধরা দেবে, যদি তার এই ছবিটি ফেসবুকে ১৫হাজার লাইক পায়! যদিও আমি তাকে ১০ হাজার লাইকের কথা বলেছিলাম, কিন্তু সে চেয়েছিল ২০ হাজার লাইক।কাজটা একটু কঠিন ঠিকই! তবে সম্ভব।’

ওই পোস্টে আরও বলা হয়, ‘যদি কেউ জানেন সিমস কোথায় লুকিয়ে আছে তাহলে তা পুলিশকে জানান, সেই সঙ্গে সবাইকে এই ১৫ হাজার লাইকের বিড়ম্বনা থেকে বাঁচান’। 

গত সপ্তাহে ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার দুই দিনের মধ্যে ২৬ হাজারেরও বেশি লাইক পড়ে ওই পোস্টে। কিন্তু অভিযুক্তের খোঁজে এমন পোস্টকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। কেউ কেউ পুলিশের রসবোধ নিয়ে মজা পেয়েছেন। এ কারণে অনেকেই অভিযুক্তের ছবি শেয়ার করেছেন।কেউ কেউ আবার পুলিশের সমালোচনা করে বলেছেন,   ‘এমন করে একজন অপরাধীকে আরও জনপ্রিয় করতে সাহায্য করা হল’। 

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিমস নিজেকে এক কথার মানুষ বলে উল্লেখ করেছেন। এ কারণে তারা আশা করছেন, সিমস তার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে পুলিশের কাছে ধরা দেবেন। 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পোস্টারটি ২৭ হাজার লাইক পাওয়ার পর অভিযুক্ত আত্মসমর্পন করেনি। সূত্র : টাইমসনাও,হাফপোস্ট 

মন্তব্য


অন্যান্য