যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা

যেভাবে উঠে এলেন মার্কিন কংগ্রেসের দুই মুসলিম নারী

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৮

যেভাবে উঠে এলেন মার্কিন কংগ্রেসের দুই মুসলিম নারী

  অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন কংগ্রেসে প্রথমবারের মতো দুইজন মুসলিম নারী জয়ী হয়েছেন। একজন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিব এবং অন্যজন সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর। তারা দু'জনই ডেমোক্রেট। মঙ্গলবারের ভোটে মিনসোটা থেকে নির্বাচিত হন ইলহান ওমর এবং মিশিগানের ভোটাররা নির্বাচিত করেন রাশিদা তালিবকে। 

নির্বাচিত এই দুই ডেমোক্রেট প্রার্থীর জীবনের গল্পে বেশ মিল রয়েছে। দু'জনের পরিবারই শরণার্থী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। পরে নিজেদের যোগ্যতায় তারা আজকের অবস্থায় আসেন। 

গৃহযুদ্ধ চলাকালীন আট বছর বয়সে ওমর তার পরিবারের সঙ্গে সোমালিয়া থেকে পালিয়ে কেনিয়ায় চলে যান। এরপর কেনিয়ার ক্যাম্পে তার জীবনের চার বছর কেটে যায়। ওমরের বয়স যখন ১২ বছর তখন তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিনসোটায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। 

এক সাক্ষাৎকারে ওমর বলেছিলেন, ১২ বছর বয়সে তিনি যখন সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তখনই রাজনীতির প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। আর এই আগ্রহটা তৈরি হয়েছিল দাদার কারণে। তার দাদা ডেমোক্রেটিক মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। 

ওমর আফ্রিকান-আমেরিকান সিভিল গ্রুপসহ মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার আদায়ের নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ৩৭ বছর বয়সী ওমর ২০১৬ সালে প্রথম সোমালি-আমেরিকান হিসাবে মিনসোটার আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস তৈরি করেন। 

অন্যদিকে ৪২ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিবও ওমরের মতো প্রগতিশীল রাজনীতিসহ মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার বিষয়ক নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে মিশিগানের আইন পরিষদের সদস্য হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছিলেন রাশিদা। 

এক সাক্ষাৎকারে রাশিদা নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ নিয়ে বলেন  ‘মুসলিম ভাইদের জন্য আমি লড়াই করছি; যারা অন্যায়, অবিচারের শিকার হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।’

নির্বাচনে বিজয় প্রসঙ্গে রাশিদা বলেন, ‘আমরা যখন ভাবছিলাম এটা অসম্ভব ঠিক সে সময়ই আমরা ইতিহাস বদলে দিলাম। আর আপনি যখন বিশ্বাস করবেন এবং আমার মতো কাউকে বিশ্বাস করবেন তখন এটা সম্ভব’। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও রয়টার্স

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ট্রাম্পের জরুরি আইনের বিরুদ্ধে ১৬ অঙ্গরাজ্যের মামলা


আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা

  এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জরুরি আইন জারিকে অসাংবিধানিক হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে তা বাতিল দাবিতে১৬ অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ণ ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল কোর্টে করা এই মামলায় বাদী হয়েছেন নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, কলরাডো, কানেকটিকাট, দেলওয়ারে, হাওয়াই, ইলিনয়, মেইন, ম্যারিল্যান্ড, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউজার্সি, নিউ মেক্সিকো, ওরেগণ, ভার্জিনিয়া এবং মিশিগান। সবকটি অঙ্গরাজ্যই ডেমক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে।

উল্লেখ্য, মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে উঁচু দেয়াল নির্মাণের জন্যে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু কংগ্রেস সে অর্থ না দেয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প গত শুক্রবার জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। ট্রাম্পের ধারণা এই জরুরি আইনের পর দেয়াল নির্মাণের অর্থ বরাদ্দে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেয়াল নির্মাণে কংগ্রেসের অনুমতি লাগবেই। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সীমান্ত এলাকায় জরুরি আইন জারি করে সেই অনুমোদনকে গৌন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। আর এর মধ্যদিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবিধানিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রকে।

জরুরি অবস্থা জারির সময় দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের ক্ষেত্র তৈরির জন্যে জাতীয় জরুরি আইন জারির প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু খুব দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করতে জরুরীরি আইনের বিকল্প নেই।

১৬ অঙ্গরাজ্যের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের এটর্নি জেনারেল জেভিয়ার বিসেরা। এক টুইট বার্তায় জেভিয়ার বলেছেন যে, ট্রাম্প  জাতীয় জরুরি অবস্থার যে ভুয়া অজুহাত দেখিয়েছেন; আমরা তাকে চ্যালেঞ্জ করেছি। এহেন আদেশ জারির মাধ্যমে জনসাধারণের সাথে তামশা করা হয়েছে, ট্যাক্সের অর্থ অপচয় ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সংবিধান প্রদত্ত গণতান্ত্রিক অধিকারকে অবদমিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র সংবিধান যে ক্ষমতা দিয়েছে কংগ্রেসকে, তাও কেড়ে নেয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে জরুরি অবস্থা জারির মধ্য দিয়ে। কংগ্রেসের অনুমোদন ব্যতিত প্রেসিডেন্টের কোন ক্ষমতাই নেই সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে অর্থ ব্যয় করার।

এর আগে ওয়াশিংটনে আরেকটি মামলা করেছে ‘সিটিজেন ফর রেসপন্সিবিলিটি এ্যান্ড এ্যাথি' নামক একটি নাগরিক সংস্থা। সে মামলায় বিচার বিভাগকে অভিযুক্ত করা হয়েছে যে, তারা প্রেসিডেন্টকে এমন আদেশ জারি থেকে বিরত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ছাত্রীকে খুশী করতে তার মতোই চুল কাটলেন শিক্ষক


আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা

  অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের কতটা ভালোবাসতে পারেন তারই প্রমাণ মিললো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এক স্কুলের শিক্ষকের কাজে।

জানা গেছে, ‘মিডোর এলিমেন্টরি’  নামের একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক শ্যানন গ্রিম একদিন লক্ষ্য করেন প্রিসিলা পেরেজ নামের তার এক ছাত্রী খুব মন খারাপ করে আছে। শ্যানন মন খারাপের কারণ জানতে চাইলে প্রিসিলা জানায় ‘ স্কুল মোটেও মজার নয়। আমার কান্না করতে ইচ্ছে করছে।’

৫ বছরের ছোট্ট প্রিসিলার মুখে এ ধরনের কথা শুনে শ্যানন বুঝতে চেষ্টা করলেন কেন সে এমন কথা বলছে। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারলেন, প্রিসিলা চুল কাটার পর তার বন্ধুরা তাকে ছেলে বলে খেপাচ্ছে।এ কারণে সে প্রতিদিন মাথায় টুপি পড়ে স্কুলে আসছে। যতক্ষন স্কুলে থাকছে মাথা থেকে টুপি সরাচ্ছে না।চুল নিয়ে বন্ধুরা ব্যঙ্গ করাতেই ছোট্ট প্রিসিলার মনে স্কুলের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ছাত্রীর মন ভাল করতে শ্যানন দারুন এক উপায় বের করলেন। বন্ধুরা যাতে প্রিসিলাকে আর না খেপায় এজন্য শ্যানন নিজের চুলও ছোট করে ফেলেন ছাত্রীর মতো করে। 

শ্যানন বলেন, ‘ছাত্রদের মধ্যে যাতে ভালোবাসা তৈরি হয় ও তারা পরস্পরের প্রতি সহযোগিপূর্ণ হয় সেটা বোঝাতেই আমি এমনটা করেছি।’ সূত্র : ইনসাইড এডিশন

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

যমজ কিন্তু বাবা ভিন্ন!


আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
যমজ কিন্তু বাবা ভিন্ন!

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সায়মন এবং গ্রিম বার্নি-এডওয়ার্ডস তাদের যমজ দুই সন্তানের সঙ্গে- বিবিসি

  অনলাইন ডেস্ক

যমজ ভাই-বোন আলেকজান্ডার এবং ক্যালডার। কিন্তু তাদের একজন নন বরং ভিন্ন দুই ব্রিটিশ ব্যক্তি। আলেকজান্ডার হলেন সায়মনের মেয়ে, আর তার ভাই ক্যালডার হলেন গ্রিমের ছেলে। কিন্তু কিভাবে জোড়া বাচ্চাদের ভিন্ন বাবা থাকা সম্ভব এ নিয়ে বিবিসি বাংলা রোববার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 

সায়মন এবং গ্রিম বার্নি-এডওয়ার্ডস যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তারা বাবা হতে চান তখন তাদের সামনে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তারা হাতে গোনা ব্রিটিশ দম্পতির একজন যারা ভিট্রো ফার্টিলাইজেশান বা আইভিএফ-গর্ভাধান পদ্ধতির সময় দুইজনের থেকে একটি করে ভ্রূণ বেছে নেয়। এবং এই দুটি ভ্রূণ একই সাথে একই সময়ে একজন সারোগেট মায়ের শরীরে ইমপ্ল্যান্ট করা হয়।

দীর্ঘ এবং জটিল প্রক্রিয়া

এই প্রক্রিয়াটির লক্ষ্য ছিল পর পর দুইবারের গর্ভধারণ থেকে দুজনের ডিএনএ সম্বলিত দুটি বাচ্চা ভূমিষ্ঠ করা। তবে একটি সংস্থা একজন সারোগেট মায়ের থেকে একইসঙ্গে দুটি শিশু জন্মদানের সম্ভাবনার কথা জানান। সেই সারোগেট মাকে খুঁজে পেতেও সহায়তা করে সংস্থাটি।

সায়মন এবং গ্রিম যুক্তরাজ্যে থাকলেও এই প্রক্রিয়ার জন্য তাদের দেশের বাইরে যেতে হয়েছিল।

সায়মন বলেছেন, 'আমরা আমাদের গর্ভাধানের চিকিৎসা করিয়েছি যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসে। এবং সেখানকার একজন সারোগেট মাকে পেয়ে যাই আমরা।'

সারোগেট মায়ের শরীরে অর্ধেক সায়মন ও অর্ধেক গ্রিমের শুক্রাণু ফার্টিলাইজ করা হয়। তাদের শক্তিশালী ভ্রূণটি থেকে গর্ভধারণ করেন এই মা। আর সন্তান ভূমিষ্ঠ করা হয় কানাডায়।

একটি কানাডিয়ান সারোগেট মা

সুতরাং, দুইটি ভ্রূণের মধ্যে রয়েছে একজন মা ও দুইজন ভিন্ন বাবার নমুনা। এই দুটি একই সাথে বেড়ে উঠতে থাকে সারোগেট মায়ের গর্ভের ভেতরে। কানাডার বাসিন্দা এই সারোগেট মায়ের নাম মেগ স্টোন।তিনি সায়মন এবং গ্রিমের সন্তান জন্ম দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সায়মন বলেন 'আমরা আমাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ করতে কানাডাকে বেছে নিয়েছিলাম কারণ তাদের আইনি কাঠামো আমাদের পছন্দ হয়েছে ।

তিনি বলেন, 'এটা অনেকটা যুক্তরাজ্যের মতোই, যেখানে সারোগেসিকে কোন ব্যবসা নয় বরং কল্যাণকর কাজ হিসেবে দেখা হয়।'

কিন্তু যমজ শিশু প্রসবের ছয় সপ্তাহ আগেই দুই বাবা যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন। কিন্তু প্রতিনিয়ত কানাডা থেকে একটা ভাল খবরের প্রতীক্ষায় উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতেন তারা ।

তাদের একটাই প্রশ্ন ছিল, সন্তানের পৃথিবীর মুখ দেখা সফল হবে তো?

কানাডিয়ান সারোগেট মায়ের সঙ্গে দুই বাবা  

অপেক্ষার অবসান

অবশেষে তাদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসে প্রতীক্ষিত সেই ফোন কল।

গ্রিম বলেন, 'আমাদের মাথার মধ্য দিয়ে অনেক আবেগ-অনুভূতির বিস্ফোরণ হচ্ছিল। আমরা এতো খুশি হয়েছিলাম যেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।'

এই সারোগেট মায়ের সঙ্গে সব সময় সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ রাখার ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর এই দুই বাবা। যদিও সারোগেট মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কোন নিয়ম নেই। তবে এমনও হতে পারে যে এই দুই বাবা আরও সন্তান ধারণ করতে চাইবেন।

সায়মন এবং গ্রিম তাদের জোড়া সন্তান নিয়ে ভীষণ খুশি। তাও আবার দুজনের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। এ কারণে এই দুই বাবার কণ্ঠে এখন একটাই কথা "নেভার সে নেভার", 'কখনও হবেনা বলবেনা।'