জর্ডান উপত্যকা দখলের ঘোষণা

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জর্ডান উপত্যকা দখলের ঘোষণা

  সমকাল ডেস্ক

ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরের জর্ডান উপত্যকা ও ডেড সির (মৃত সাগর) উত্তরাংশ দখল করে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ অঞ্চলটি পশ্চিমতীরের মোট আয়তনের এক-তৃতীয়াংশ। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জিতলে তিনি এ পরিকল্পনা বাস্তাবায়ন করবেন। অর্থাৎ পুনর্নির্বাচিত হলে তিনি ওই এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব কায়েম করবেন। মঙ্গলবার ইসরায়েলের বন্দর শহর আশদোদে এক নির্বাচনী সমাবেশে নেতানিয়াহু এ ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন, জর্ডান, তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাতিসংঘ ও আরব দেশগুলো। 'আগ্রাসন' হিসেবে অভিহিত করে নেতানিয়াহুর এ পরিকল্পনাকে 'বিপজ্জনক পদক্ষেপ' বলে নিন্দা করেছে আরব লীগ। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

নেতানিয়াহুর এ বক্তব্য ইসরায়েলি টেলিভিশনগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। অনেক বিশ্নেষক মনে করেন, কট্টরপন্থি ইহুদিদের ভোট ঝুলিতে ভরতেই এমন বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন নেতানিয়াহু। কারণ কট্টরপন্থি ইহুদিরা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিতীরকে ইসরায়েলের অঙ্গীভূত করতে সরকারকে চাপ দিয়ে আসছিল। মঙ্গলবারের সমাবেশে নেতানিয়াহু বলেন, 'আজ আমি আমার পরিকল্পনা ঘোষণা করছি। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর জর্ডান উপত্যকা ও ডেড সির উত্তরাংশে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব কায়েম করতে চাই।' ওই এলাকাগুলোকে 'ইসরায়েলের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত' হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ইসরায়েলের মানবাধিকার সংস্থা বিসেলেমের হিসাব অনুযায়ী, জর্ডান উপত্যকা ও ডেড সির উত্তরাংশে ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনির বসবাস। ১১ হাজার ইসরায়েলিও সেখানে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন। নেতানিয়াহু বলেন, 'এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমি আপনাদের কাছ থেকে অর্থাৎ ইসরায়েলের নাগরিকদের কাছ থেকে পরিস্কার রায় পেলে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিতে পারব।'

এর প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু যদি এ পরিকল্পনা বাস্তাবায়ন করেন তাহলে 'ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সব চুক্তি ও সেসব চুক্তির বাধ্যবাধকতা মানার সমাপ্তি ঘটবে।' ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পশ্চিমতীর দখলে নেয় ইসরায়েল। তবে পশ্চিমতীরকে নিজেদের অংশে অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বিরত থাকে ইসরায়েল। ১৯৯০ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি করে ফিলিস্তিন। পশ্চিমতীরকে নিজেদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রূপকল্প হিসেবে হাজির করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে ৫৭ জাতির অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক ডেকেছে সৌদি আরব। দেশটি বলেছে, নেতানিয়াহুর এ সিদ্ধান্ত 'বিপজ্জনক'। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে 'ধ্বংস' করে দেবে। ২২ আরব দেশের জোট আরব লীগ বলেছে, নেতানিয়াহুর এ পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ইইউ এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের পরিকল্পনা দ্বি-রাষ্ট্রিক সমাধানের পদক্ষেপকে ব্যাহত করবে। নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দী ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টির নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, 'এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।'

এদিকে আশদোদে নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য দেওয়ার সময় রকেট হামলার সতর্কতা জানিয়ে বাজানো সাইরেন শুনে মঞ্চ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন নেতানিয়াহু। কয়েক মিনিট নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পর নেতানিয়াহু মঞ্চে ফিরে ফের ভাষণ শুরু করেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজা থেকে দুটি রকেট ছোড়া হয়েছিল এবং তা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা দিয়ে প্রতিরোধ করা হয়। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল বুধবার ভোরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে গাজায় হামলা চালানো হয়।


মন্তব্য