ব্রিটেনের তেলের ট্যাঙ্কার আটকের 'চেষ্টা' ইরানের

  সমকাল ডেস্ক

ইরানের কয়েকটি সশস্ত্র নৌকা পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে তেলবাহী একটি ব্রিটিশ ট্যাঙ্কারকে নিজেদের জলসীমায় নিয়ে গিয়ে আটক করার চেষ্টা করেছিল। তবে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীর জাহাজের তাড়া খেয়ে তারা পিছু হটেছে। যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন। ইরানের এ ধরনের কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে অভিযোগ করেন এই মুখপাত্র। তবে ইরান ব্রিটিশ হেরিটেজ নামের এই তেলের ট্যাঙ্কার আটক-প্রচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাশিয়া বলেছে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক উত্তেজনা আরও উস্কে দিচ্ছে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সশস্ত্র ইরানি নৌকাগুলো ব্রিটিশ হেরিটেজকে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে নিজেদের সীমানায় নিয়ে গিয়ে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও পারস্য উপসাগরে কয়েকটি ইরানি বোট একটি ব্রিটিশ তেল ট্যাঙ্কারকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন। বুধবার পারস্য উপসাগরে ইরানি জলসীমার কাছে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ওই কর্মকর্তারা। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালির উত্তর দিকের প্রবেশমুখে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর বলে ধারণা করা পাঁচটি বোট তেলবাহী জাহাজ ব্রিটিশ হেরিটেজকে থামতে বলে। কিন্তু একটি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ তাদের সতর্ক করলে তারা সরে পড়ে।

তিনি বলেন, সেখানে থাকা রাজকীয় নৌবাহিনীর এইচএমএস মন্ট্রোস (যুদ্ধজাহাজ) তাদের বন্দুকগুলো ওই বোটগুলোর দিকে তাক করে রেডিও মারফত তাদের

সতর্ক করে। এরপর তারা সেখান থেকে চলে যায়। আরেকজন কর্মকর্তা এটাকে হয়রানি ও বিঘ্ন সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, তাদের ধারণা অনুযায়ী ব্রিটিশ হেরিটেজ ট্যাঙ্কারটি পারস্য উপসাগর ছেড়ে হরমুজ প্রণালির দিকে যাওয়ার সময় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড করপোরেশনের কয়েকটি নৌকা সেটির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। বুধবার এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। এর মাধ্যমে উপসাগরে চলমান সংবেদনশীল এই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর এর পেছনে রয়েছে ওয়াশিংটন।

গত সপ্তাহে ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিন জিব্রাল্টারের কর্তৃপক্ষকে একটি ইরানি তেলের ট্যাঙ্কার আটক করতে সহায়তা করে। কারণ তাদের কাছে প্রমাণ ছিল যে, সেটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে সিরিয়ার দিকে যাচ্ছিল। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় একজন ইরানি কর্মকর্তা বলেছিলেন, ওই ইরানি জাহাজ না ছাড়লে প্রতিশোধ হিসেবে একটি ব্রিটিশ জাহাজ আটক করা উচিত। এ বিষয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য তেহরানে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকেও ডেকে পাঠায় ইরান। তারা বলেছে, এটি এক ধরনের দস্যুবৃত্তি। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কও খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। জুন মাসে দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা হওয়ার ঘটনায় প্রায় নিশ্চিতভাবে ইরান জড়িত বলে মন্তব্য করার পর দু'দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে।


মন্তব্য