বিক্ষোভে অচল হংকং

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯

বিক্ষোভে অচল হংকং

  সমকাল ডেস্ক

হংকংয়ের নাগরিকদের বিচারের জন্য প্রয়োজনে চীনের মূল ভূখণ্ডে পাঠানোর সুযোগ রেখে প্রস্তাবিত প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে হংকং। সেখানকার গণতন্ত্রপন্থিরা বিক্ষোভ শুরু করলেও তাতে এখন শামিল হয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। গতকাল বুধবার হাজারো লোকের বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়ে চীনের অধীনে আধা স্বায়ত্তশাসনে থাকা ওই অঞ্চল। খবর বিবিসি, সিএনএন ও রয়টার্সের।

বিক্ষোভকারীরা হংকংয়ের সরকারি অফিসগুলোর আশপাশের প্রধান প্রধান সড়কে অবস্থান নেওয়ায় শহরের অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থলটি অচল হয়ে পড়ে। তারা সকাল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামের কার্যালয়ের কাছে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ প্রর্দশন করেন। সেখানে কয়েকশ' দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা যেন আর অগ্রসর না হতে পারেন, সে জন্য ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ তাদের ওপর টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা ইট-পাথর ছুড়েছে বিক্ষোভকারীরাও। সংঘর্ষে ৭২ বিক্ষোভকারী ও ২১ পলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি অনেকটা ২০১৪ সালের শেষ

দিকে গণতন্ত্রপন্থিদের 'আমব্রেলা মুভমেন্টের' মতো রূপ নিয়েছে।

এদিকে ৭০ আসনবিশিষ্ট হংকংয়ের আইন পরিষদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিতর্কিত এ প্রত্যর্পণ বিল নিয়ে দ্বিতীয় দফার বিতর্ক স্থগিত করেছে। বুধবার বেলা ১১টা থেকে এ বিতর্ক শুরু হওয়ার কথা ছিল।

তবে আর কোনো বিতর্ক নয়, বিক্ষোভকারীরা চাইছেন বিলটি পুরোপুরি বাতিল করা

হোক। আগামী সপ্তাহে বিলটি নিয়ে চূড়ান্ত ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। হংকংয়ের আইন পরিষদে বেইজিংপন্থিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে

ধারণা করা হচ্ছে, বিলটি আইন পরিষদে সহজেই পাস হয়ে যাবে।

গতকাল মুখোশ পরা এক বিক্ষোভকারী বলেন, বিলটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা সরছি না। ক্যারি লাম আমাদের মূল্যায়ন করেননি। আমরা বিলটি পাস করাতে দেব না।'

১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে চীনের কাছে হংকংয়ের মালিকানা হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে বিতর্কিত এ বিলকে কেন্দ্র করে রোববার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিক্ষোভ দেখেছে এশিয়ার এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। তবে বিলটি পাসের বিষয়ে একাট্টা রয়েছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী লাম।

মূলত চীন ও তাইওয়ানে অপরাধী প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিলের বিপক্ষে বিক্ষোভকারীদের মূল ক্ষোভ চীনের সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা নিয়ে। বেইজিংয়ের দুর্বল আইন ও মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে সেখানে কাউকে ফেরত পাঠানো নিরাপদ মনে করছেন না হংকংয়ের সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, বিলটি পাস হলে তা হংকংয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপের সুযোগ বেড়ে যাবে।

প্রস্তাবিত বিলে সন্দেহভাজন অপরাধীকে চীন ও তাইওয়ানে ফেরত পাঠানোর পথ সুগম করা হয়েছে। কিন্তু চীন এ আইনের সুবিধা নিয়ে হংকংয়ের বাসিন্দাদের ওপর খবরদারি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি সেখানে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।


মন্তব্য