ঐতিহাসিক সফরে ইরানে আবে

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯

ঐতিহাসিক সফরে ইরানে আবে

  সমকাল ডেস্ক

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে দুই দিনের সরকারি সফরে গতকাল বুধবার ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন। ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর এটিই জাপানের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। এ ছাড়া এমন সময় আবে তেহরান সফর করছেন যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উত্তেজনাকর সম্পর্ক বিরাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি জারি রাখার মধ্যেই শিনজো আবের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ব গণমাধ্যমে তার এই সফর ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সব মিলিয়ে আবের এ সফরকে 'ঐতিহাসিক' হিসেবে অভিহিত করেছে টোকিও ও তেহরান। খবর এএফপি, রয়টার্স ও ফার্স টুডের।

গত প্রায় ৯০ বছর ধরে ইরান ও জাপানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং দশকের পর দশক ধরে এ দুই দেশের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা চলে আসছে। তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবের তেহরান সফরের কয়েক সপ্তাহ আগ থেকেই এ সফরের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন চলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে ফের ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর জাপান এর বিরোধিতা করেছে। এ অবস্থায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে জাপান মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেও টোকিও সফরের কিছু দিন পর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর তেহরান সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহল।

জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো বৃহৎ তেল ক্রয়কারী দেশগুলো তাদের যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ দেশগুলো ইরানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কিনে থাকে। জাপানের এ আহ্বান জানানো থেকে বোঝা যায় টোকিও-ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকলেও জাপানের কর্মকর্তারা ইরানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে একমত নন।


মন্তব্য