জনগণের দাবি আগাম ভোট

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

জনগণের দাবি আগাম ভোট

  সমকাল ডেস্ক

শ্রীলংকায় রাজনৈতিক সংকট চলছে। প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনার আদেশে বরখাস্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। তবে বরখাস্ত হওয়া বিক্রমাসিংহে ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ। 'এক দেশে দুই প্রধানমন্ত্রী' নিয়ে তাদের সমর্থকদের মধ্যেও তীব্র দ্বন্দ্ব চলছে। নিজ নিজ নেতাকে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে প্রমাণ করার জন্য বিক্ষোভ-পাল্টা বিক্ষোভ করছেন তারা। আগামী সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে দুই প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ভোটাভুটি হওয়ার কথা। কিন্তু এরইমধ্যে দুই নেতার ক্ষমতার দ্বন্দ্বে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে জনজীবনে। সংকট মোকাবেলার দাবি জানিয়ে রাজধানী কলম্বোতে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভে নামছেন সাধারণ নাগরিকরা। তারা দাবি জানাচ্ছেন, আগাম নির্বাচনের। আগামীদিনের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা আগাম নির্বাচন দিয়ে জনগণকেই নির্ধারণ করতে দিতে বলা হচ্ছে বিভিন্ন বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে। খবর আলজাজিরার।

কলম্বোতে প্রায় ১০ লাখ লোকের সমাবেশ থেকে রাজনীতিবিদদের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত জনগণের অভিযোগের অন্ত নেই। ৮৩ বছর বয়সী ব্যবসায়ী একে পিয়াদাসা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব রাজনীতিবিদকে আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না। আমরা ভালো নেই। বরং আগাম নির্বাচন দেওয়া হোক। আমরা আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে দায়িত্ব দেব।

বোঝাই যাচ্ছে, রাজনীতির চাওয়ার সঙ্গে জনগণের চাওয়ার অনেক অমিল। রাজনীতিবিদরা যেখানে তাৎক্ষণিক ক্ষমতাভিলাষ চরিতার্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, সেখানে জনগণ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। পিয়াদাসার মতে, রাজনীতিবিদরা আমাদের কোনো রকম সাহায্যেই আসছেন না। তারা তাদের ক্ষমতার স্পৃহা নিয়েই ব্যস্ত। শ্রীলংকার সাধারণ মানুষ মুদ্রাস্ম্ফীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং করভারে জর্জরিত। তাদের অভিযোগ, রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষের কথা ভাবছেন না। তারা নিজেদের স্বার্থেই ব্যস্ত। কতটা ক্ষোভ যে জনগণের মনে জমা হয়েছে, তা বুধবার কলম্বোর রাজপথে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্য দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন তারা।

গত ২৬ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসান। একই সঙ্গে পার্লামেন্ট স্থগিত করেন তিনি। কিন্তু তার এ নির্দেশ মানতে নারাজ বিক্রমাসিংহে। তিনি নিজেকে এখনও দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী দাবি করে সরকারি বাসভবনে অবস্থান করছেন।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে স্থগিতাদেশ তুলে দিয়ে আগামী ১৪ নভেম্বর ফের পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সেখানে বিবদমান প্রধানমন্ত্রীদ্বয় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন।

তবে শ্রীলংকায় নতুন করে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার দাবি উঠেছে সমাবেশ থেকে। ৬০ বছর বয়সী এক নারী বলেন, সব সমস্যার সমাধার হতে পারে নতুন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। পার্লামেন্টে কে সংখ্যাগরিষ্ঠ সেটার দরকার নেই। রাজনীতিবিদদের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে তাদের মধ্যে কে বেশি জনপ্রিয়। তার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে আরও কয়েকজনের বক্তব্যে। বিভিন্ন পেশার এসব মানুষ মনে করেন, নতুন নির্বাচনের মাধ্যমেই সংকট নিরসন সম্ভব।

একজন ধর্মীয় সংখ্যালঘু মুসলিম, একজন জাতিগত সংখ্যালঘু তামিল নারী বলেছেন, রাজনীতিবিদরা নিজেদের সমস্যা সমাধান করতে পারবেন না। তাদের উচিত হবে, জনগণের কাছে যাওয়া। জনগণ তাদের পছন্দের জনকে নির্বাচনের মাধ্যমে বেছে নেবে। এখন যেভাবে চলছে, সেভাবে হলে সমস্যা কখনও মিটবে না।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা কলম্বোয় সাধারণ জনগণের সঙ্গে আলাপ করতে গেলে প্রায় সবার মুখেই একই কথা শোনা যায়।

পার্লামেন্টে ভোটাভুটির চেয়ে একটা সাধারণ নির্বাচনকেই তারা বেশি স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এমন মনোভাব দেখিয়েছে তারা।


মন্তব্য যোগ করুণ