রুশ আঁতাতের তদন্ত হুমকির মুখে

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

রুশ আঁতাতের তদন্ত হুমকির মুখে

   সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্সকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ আঁতাতের তদন্তে বাধা না দেওয়ার জেরেই তাকে বরখাস্ত করা হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে দলত্যাগ করা তালিকায় সর্বশেষ নাম যোগ হলো সেশন্সের। খবর বিবিসি, সিএনএনের।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তার নিয়ে চলা তদন্ত থেকে সেশন্স নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে বারবার তার শীর্ষ আইন কর্মকর্তার সমালোচনা করে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরইমধ্যে পদত্যাগের চিঠি দিলেন সেশন্স। তার পদত্যাগের পর বুধবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, তার কাজের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্সকে ধন্যবাদ জানাই আমরা এবং তার শুভকামনা করি! ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সেশন্সের চিফ অব স্টাফ ম্যাথু হুইটেকার। এ পদে স্থায়ী নিয়োগ পরে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আলাবামার সাবেক সিনেটর ও প্রায় প্রথম থেকেই ট্রাম্পের সমর্থক সেশন্স তার পদত্যাগপত্রে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তটি যে তার নিজের ছিল না তা পরিস্কার করেছেন। তারিখবিহীন এক চিঠিতে তিনি লিখেছেন, প্রিয় প্রেসিডেন্ট মহোদয়, আপনার অনুরোধে আমি আমার পদত্যাগ পত্র জমা দিচ্ছি। চিঠিতে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমরা আইনের শাসন পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করেছি।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ট্রাম্পের এক সংবাদ সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ জন কেলি সেশন্সকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের তরফে একে পূর্ব ঘোষিত বৈঠক বলে দাবি করা হলেও রোজেনস্টেইনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এরপর শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখনও সেই ঘোষণা আসেনি।

সেশন্সের সঙ্গে বিবাদের শুরুটা হয়েছিল ২০১৭ সালের মার্চ মাসে। তখনই সেশন্স রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে যে তদন্ত হচ্ছিল সেখান থেকে সরে আসেন এবং এই দায়িত্ব তার অধীন রড রোজেনস্টেইনকে দেন। এরপর থেকেই প্রকাশ্যে ট্রাম্প ও সেশন্সের বিরুদ্ধে নানা ধরনের সমালোচনামূলক কথা বলতে থাকেন।

২০১৭ সালে নিউইয়র্ক টাইমসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি এই তদন্ত থেকে সরে যাবেন এই কথা আমাকে আগে বললে আমি তাকে এই দায়িত্ব দিতাম না। আমি অন্য কাউকে এই কাজের জন্য নিতাম।

সেশন্স তদন্তভার থেকে সরে যাওয়ার পর বিশেষ কাউন্সিল রবার্ট মুলারের চলমান তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অসন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প।


মন্তব্য যোগ করুণ