নিয়ম না মেনে এলপি গ্যাস বিক্রি

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিয়ম না মেনে এলপি গ্যাস বিক্রি

   সুজানগর (পাবনা) সংবাদদাতা

সুজানগর উপজেলার আনাচে-কানাচে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করেই অবাধে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। ওষুধের দোকান, মুদি দোকান, কাপড়ের দোকান, কীটনাশকের দোকান, খাবারের দোকান, এমনকি পানের দোকানেও চলছে গ্যাস সিলিন্ডার বেচাকেনা। মার্কেটের ভেতরের সরু গলি, বদ্ধ-উন্মুক্ত সব জায়গাতেই চলছে এলপি গ্যাসের অবাধ বেচাকেনা। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহারের বিধান থাকলেও তা মানছেন না কোনো বিক্রেতাই। এ কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বিস্ম্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় স্থানে পাকা মেজেসহ আধাপাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক সক্ষমতা-সংক্রান্ত লাইসেন্সসহ অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। একজন ব্যবসায়ী ওইসব শর্ত পূরণ করলেই শুধু এলপি গ্যাস বিক্রির নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। লাইসেন্স ছাড়া কোনো দোকানে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা যাবে না। ২০০৩ সালের দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি লাইসেন্স না নিয়ে বিস্ম্ফোরক দ্রব্যের ব্যবসা করেন তার তিন বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সব মালপত্র বাজেয়াপ্ত করা যাবে। কিন্তু এ আইন মানছেন না বেশিরভাগ ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা বলেন, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে হলে বাধ্যতামূলক বিস্ম্ফোরক লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু বিস্ম্ফোরক লাইসেন্স নিতে অনেক টাকা খরচ হয়। তাই অনেকেই অবৈধভাবে এলপি গ্যাস বিক্রি করছেন। শুধু তাই নয়, একজন ব্যবসায়ী অন্য একটি দোকানের লাইসেন্স দিয়ে অবৈধভাবে এ ব্যবসা করে যাচ্ছেন। সুজানগর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিস্ম্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া কোনো দোকানি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারবেন না।

সুজানগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) শাহজাহান আলী মণ্ডল জানান, প্রশাসনের তদারকি বাড়ানো হলেই লাইসেন্সবিহীন গ্যাস সিলিন্ডারের এ ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব, অন্যথায় নয়।

সুজানগর উপজেলা গ্যাস ডিলার মালিক সমিতির সভাপতি মকছেদ আলী বলেন, লাইসেন্সবিহীন এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধ করার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে রাজশাহী বিভাগের বিস্ম্ফোরক পরিদর্শক বরাবর অভিযোগ করার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিৎ দেবনাথ বলেন, লাইসেন্স ছাড়া যেসব দোকানি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন, খুব শিগগির মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সুজানগর বাজার বণিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীনুজ্জামান শাহীন জানান, যেসব ব্যবসায়ীর বিস্ম্ফোরক লাইসেন্স নেই, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স করে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য