মহাসড়কজুড়ে হাট

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯

মহাসড়কজুড়ে হাট

  এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা

মহাসড়কজুড়ে হাট বসায় উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় হাট পাবনার বেড়ার করমজা সিঅ্যান্ডবি চতুরহাটে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। প্রতি শনি এবং মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাটবার ছাড়াও প্রতিদিন সকালে পাবনা-ঢাকা-পাবনা-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের ওপর কাঁচাবাজার বসানোর কারণে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে হাটের দিন কাঁচাবাজারের সঙ্গে সঙ্গে মৌসুমি ফলের দোকান বসানোর ফলে মহাসড়কে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে নছিমন, করিমন, অটোরিকশা, অটোভ্যান, সিএনজি, লেগুনা, পিকআপ ও ট্রাক পার্কিংয়ের মহোৎসব। ফলে মহাসড়কের উভয় দিকে আটকা পড়ছে দূরপাল্লার শত শত যানবাহন। তীব্র যানজটে অসহনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

প্রায় প্রতিদিন ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের দুই কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বেড়া সিঅ্যান্ডবি জিরো পয়েন্ট অর্থাৎ, বগুড়া-নগরবাড়ী বাসস্ট্যান্ডের দু'পাশের আইল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছেন ফল ও পুরনো কাপড় ব্যবসায়ীরা। তাদের কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত পথ চলতে হয় পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের। প্রতিনিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনা। পাবনা জেলার প্রধান প্রধান হাটগুলোর অবস্থাও সিঅ্যান্ডবি চতুরহাটের মতোই। বগুড়া-পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কের পাবনা জেলা অংশের বেড়া, কাশীনাথপুর, বনগ্রাম, মুলাডুলি, পুষ্পপাড়া, আতাইকুলা, চিনাখড়া ও টেবুনিয়াতেই মহাসড়কজুড়ে হাট বসছে সবচেয়ে বেশি। প্রত্যেক হাটবারে সংলগ্ন মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। তবে সবচেয়ে বেশি যানজট দেখা দিচ্ছে আতাইকুলা, বেড়া ও কাশীনাথপুরে। হাটবারে এ তিনটি স্থানে যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে থাকতে হয়। কাশীনাথপুরে হাট বসে প্রতি রোব ও বৃহস্পতিবার। হাটের মূল অংশে ফাঁকা জায়গা বলতে কিছুই নেই।

হাটের ইজারাদার আলম মোল্লা জানান, ৪ একর ৮ শতাংশ আয়তনের এই হাটের ২ একর জায়গাই দখল হয়ে গছে। আর এভাবে দখলের কারণেই হাট প্রসারিত হয়ে মহাসড়কে চলে গেছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসন বরাবর একাধিকবার আবেদন করেও কোনো কাজ হচ্ছে। এদিকে হাটের মাঝখানে অনেকটা জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে ৫০টি দোকান নিয়ে একটি মার্কেট। সেই মার্কেটের এক দোকানের মালিক আব্দুল খালেক বলেন, একসময় এ জায়গা ফাঁকা ছিল। ১৭ বছর আগে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এ জায়গার দখল কিনে নিয়ে তিনি দোকান করেছেন।

হাট কমিটি সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ একর আয়তনবিশিষ্টি এ হাটের তিন একর জায়গাই দখল হয়ে গেছে। হাট কমিটির সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, হাটে এত জায়গা থাকতেও শুধু দখলদারদের কারণে মহাসড়কে গিয়ে হাট বসছে।

সাঁথিয়া ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাটের অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করতে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। উচ্ছেদের জন্য দ্রুত সুপারিশ পাঠানো হবে। বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাদের বলেন, হাট থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের বিশেষ সভায় উত্থাপন করা হবে।

পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। হাট কমিটি যদি এর পরও মহাসড়কে হাট বসায় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য