করতোয়া নদীতে কচুরিপানার ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

উল্লাপাড়ার বড়হরে করতোয়া নদীতে কচুরিপানার ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা-সমকাল

   কল্যাণ ভৌমিক, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

উল্লাপাড়ার বড়হরে করতোয়া নদীতে নির্মাণাধীন সড়ক সেতুর পাশে প্রচুর কচুরিপানা জড়ো হয়ে পানির ওপরে পড়েছে পুরু স্তর। উপর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, নিচে ১৫ থেকে ২০ ফুট পানি। আর স্থানীয় লোকজনও কচুরিপানার ওপর দিয়েই অনায়াসে হেটে পার হয়ে যাচ্ছেন। বুঝতেও পারছেনা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এই পারাপার।

কচুরিপানাপূর্ণ এই স্থানের আধা কিলোমিটার দূরে বড়হর মূল খেয়াঘাট। দূরবর্তী খেয়াঘাটে না গিয়ে বছরের বেশি সময় ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় চালিত নৌকায় স্থানীয় লোকজন এপার-ওপার চলাচল করেন। বেশ কিছুদিন হলো এখানে কচুরিপানা জমে যাওয়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে স্থানীয় লোকজন এখন কচুরিপানার স্তরের ওপর দিয়েই পার হচ্ছেন।

ঈদের পর কচুরিপানাপূর্ণ এ এলাকাটি এখন যেন দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। দূরবর্তী লোকজন এখানে এসে কৌতূহলবশত এই কচুরিপানার স্তরের ওপর দিয়ে মানুষের পারাপারের দৃশ্য উপভোগ করছেন। সেইসঙ্গে কয়েকদিন ধরে বিকেলবেলা পার্শ্ববর্তী গ্রামের যুবকরা কচুরিপানার স্তরের ওপর ফুটবলও খেলছে। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে অনেক মানুষ এ খেলা দেখছে। বর্তমানে নদীর এই স্থানের গভীরতা ২০ থেকে ২৫ ফুট বলে স্থানীয়রা জানান।

নদীর পার্শ্ববর্তী নূরগঞ্জ পেচারপাড়া গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক জানান, সড়ক সেতু নির্মাণের কারণে কচুরিপানা নদীতে ভেসে যেতে পারছে না, এক জায়গায় জমে গেছে। ফলে মোটা স্তর পড়ে এখানে পারাপারের রাস্তার মতো তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখানে নদীর গভীরতা অনেক বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের কচুরিপানার ওপর দিয়ে পারাপার যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় কচুরিপানার স্তর ফাঁক হয়ে ডুবে যেতে পারে মানুষ।

এ ব্যাপারে বড়হর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হক নান্নুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানকে অবহিত করেছেন।

এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এরই মধ্যে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লোকজন যাতে কচুরিপানার স্তরের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল না করে সেজন্য এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও কিছু লোক কৌতূহলবশত কচুরিপানার ওপর দিয়েই পারাপার হচ্ছে। নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, ওই স্থান থেকে দ্রুত কচুরিপানা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা নিতে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন।


মন্তব্য