শহরজুড়ে যেন ট্রাক টার্মিনাল

পঞ্চগড়

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

শহরজুড়ে যেন ট্রাক টার্মিনাল

পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ' ট্রাকে পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রফতানি হচ্ছে- সমকাল

   সফিকুল আলম, পঞ্চগড়

পঞ্চগড় ট্রাক টার্মিনালে ট্রাক রাখার জায়গার অভাব। তাই টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়কের দু'পাশে এলোমেলো করে পার্কিং করা হচ্ছে শতশত পণ্যবাহী ট্রাক। এ ছাড়া পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কসহ যত্রতত্র ট্রাক পার্কিংয়ের ফলে গোটা শহর যেন এখন এক ট্রাক টার্মিনাল। যত্রতত্র ট্রাক পার্কিংয়ের ফলে সড়ক মহাসড়কে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা।

১৯৯৬ সালে জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকায় ৫০ শতক জমির ওপর নির্মাণ করা হয় পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল। সে সময় মাত্র দুই থেকে আড়াইশ' ট্রাক পঞ্চগড় থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করত। বর্তমানে এখান থেকে দেড় থেকে দুই হাজার ট্রাক নিয়মিত যাতায়াত করে। অথচ টার্মিনালের জায়গা বাড়েনি এক ইঞ্চিও। পর্যাপ্ত জায়গার অভাবসহ দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোর উন্নয়ন না হওয়ায় ট্রাক চালক, পথচারীসহ স্থানীয় পৌরবাসীর মাঝে এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আমদানিকৃত পাথরসহ পঞ্চগড়ের পাথর এবং বালি পরিবহনে জেলায় প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার পাথরবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। পৌরসভার একমাত্র টার্মিনালটির আশপাশে প্রতিদিন সকাল এবং বিকেলে এক হাজারের বেশি পাথরবাহী ট্রাক পার্কিং করা থাকে। ট্রাক টার্মিনালের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র পার্কিংয়ের ফলে ট্রাক টার্মিনাল এলাকাসহ শহরে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম দূর্ভোগে পড়ছেন মানুষ।

একমাত্র ট্রাক টার্মিনালটি পঞ্চগড়-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে টার্মিনাল ভবন। ভবনের ছাদ এবং ঘরের দেয়াল ভেঙে গেছে। যে কোনো সময় সেখানে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পরিবহন মালিক, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা। অবিলম্বে পাশের জমি অধিগ্রহণপূর্বক টার্মিনালের জায়গা সম্প্রসারণ এবং নতুন ভবন নির্মাণের দাবি তাদের।

স্থানীয় ট্রাকচালক আরিফ হোসেন বলেন, 'স্থানীয় পৌরসভা প্রতি বছর এই ট্রাক টার্মিনাল উচ্চ মূল্যে ইজারা দিয়ে নিয়মিত খাজনা আদায় করছে। অথচ আমাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। টার্মিনালে ট্রাক রাখার জায়গা নেই। এ জন্য বাধ্য হয়ে আমরা টার্মিনালের বাইরের সড়কে ট্রাক পার্কিং করি।'

টার্মিনাল সংলগ্ন তেলিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা হাসিবুল করিম বলেন, 'প্রতিদিন সকাল এবং বিকেলে সড়কের ওপর শত শত ট্রাক এলোমেলো দাঁড়ানো থাকে। এতে সড়কটি অবরুদ্ধ হয়ে যায়। চলাচলে আমাদের সমস্যা হলেও প্রশাসন নির্বিকার।'

পঞ্চগড় মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, 'বর্তমানে পঞ্চগড়ে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ট্রাক যাতায়াত করে। অথচ জেলার একমাত্র ট্রাক টার্মিনালে ট্রাকের ধারণক্ষমতা ৫০ থেকে ৬০টি। টার্মিনালের একমাত্র ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিষয়টি বারবার পৌরসভাসহ জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

পঞ্চগড় পৌরসভা মেয়র তৌহিদুল ইসলাম বলেন, জরুরিভাবে টার্মিনালটির স্থান সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এডিবি অর্থায়নে পঞ্চগড় পৌরসভায় একটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। এই প্রকল্পের অধীনে ট্রাক টার্মিনাল নিয়েও একটি প্রকল্প দেওয়া আছে। পঞ্চগড় পরিদর্শনে আসার পর প্রকল্প পরিচালকের কাছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ পৌরসভার পক্ষ থেকে যৌথভাবে টার্মিনাল সম্প্রসারণের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দাবি জানানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে আশা করা যায় সমস্যার সমাধান হবে।


মন্তব্য