চলছে কবিরাজি চিকিৎসার রমরমা বাণিজ্য

বগুড়া

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

   এসএম কাওসার,বগুড়া

জেলার গাবতলী উপজেলার পাঁচমাইল এলাকার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ূয়া সৌরভ রিকশা থেকে পড়ে পায়ে তীব্র আঘাত পায়। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বুজরুকবাড়িয়ায় কবিরাজপাড়ায়। সেখানে আবদুল হান্নান নামে এক কবিরাজ সৌরভের পা ব্যান্ডেজ করে দেন। কিন্তু কয়েক দিন পর সৌরভের পা ফুলে অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, সৌরভের পায়ের হাড় ফেটে গেছে। আরও আগে এলে ছেলেটিকে এত ভুগতে হতো না। কবিরাজের পেছনে অহেতুক খরচ করা টাকাটাও বেঁচে যেত।

একই অবস্থা জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল এলাকার গৃহবধূ সেলিনা খাতুনের। বিয়ের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সন্তান না হওয়ায় যান বুজরুকবাড়িয়ায় কবিরাজপাড়ায়। সেখানে আবদুল জলিল নামে এক কবিরাজ জানান, তার ওপর জিন আসর (ভর) করেছে। প্রায় ছয় মাস ধরে জিন ছাড়ানোসহ নানা চিকিৎসা দেন কবিরাজ আবদুল জলিল। বিনিময়ে হাতিয়ে নেন ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু ফল শূন্য।

সেলিনা খাতুনের কৃষক স্বামী রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আবদুল জলিল একজন ভণ্ড কবিরাজ বলে জেনেছি। তবুও স্ত্রীর পীড়াপীড়িতে তার কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।'

এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে ওই কবিরাজপাড়ার কবিরাজদের বিরুদ্ধে। তারা সেখানে প্রায় তিন যুগ ধরে এই অপচিকিৎসা করে আসছেন। অসচেতনতা, অন্ধবিশ্বাস আর অজ্ঞতার কারণে এখনও প্রতিদিন গড়ে সেখানে ২৫ জন রোগী যাচ্ছেন।

এলাকাবাসী জানান, সেখানে আবদুল হান্নান, আবদুল মান্নান, শামসুল সরকার, আবদুল জলিল, মানিক, মাফুসহ ১০ জন কবিরাজ পৃথকভাবে কবিরাজি চিকিৎসা করছেন। তারা গ্রামের মানুষদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ঝাড়ফুঁক, পানি পড়া, তাবিজ-কবজের মাধ্যমে তাদের এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসী কবিরাজদের অপচিকিৎসা বন্ধে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ সমাবেশও করেছেন। সবশেষ ৮ জানুয়ারি তারা জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের কাছে স্মারকলিপি দেন।

কবিরাজদের আস্তানা বন্ধের দাবি জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাইল হোসেন সরকার, যুবলীগ নেতা লতিফুল করিম, হিরন আহম্মেদ, আমজাদ হোসেন, আবদুর রশিদ প্রমূখ। তারা বলেন, এসব প্রতারক কবিরাজের ভুল চিকিৎসার ফলে গ্রামের অনেক অশিক্ষিত, সহজ-সরল নারী-পুরুষ শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেছে। কিডনি ড্যামেজ বা ফুসফুসে ক্যান্সারের মতো নানা জটিল রোগের শিকার হয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে কবিরাজ শামসুল সরকার সমকালকে বলেন, 'মানুষ আমাদের নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়। এই চিকিৎসা আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসছে। ভুল চিকিৎসা হলে এত রোগী  আসত না।'


মন্তব্য