নিজ বাড়িতে ডাকাতির সাজানো নাটক

ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার ময়নুলের

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

   রানীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা

নওগাঁর রানীনগরে খুন ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আটক ময়নুল। ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকলেও নিজের অপরাধ আড়াল করতে এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে ওই রাতেই নিজের বাড়িতে ডাকাতির নাটক সাজায় ময়নুল। আটক ময়নুলকে গত বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

রানীনগর থানার ওসি এএসএম সিদ্দিকুর রহমান জানান, ডাকাতিকালে বাধা দিতে গেলে খুন হয় আমগ্রামের মোফাজ্জল হোসেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, পার্শ্ববর্তী শিলমাদার গ্রামেও ময়নুল হকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টিকে আমলে নিয়ে শিলমাদার গ্রামে ময়নুলের বাড়িতে গেলে আমগ্রামের ঘটনার সঙ্গে ময়নুলের ঘটনার মিল পাওয়া যায়। এরপর তদন্তকালে তিনি জানতে পারেন, গ্রামের লোকজন তো দূরের কথা নিজের বাড়ির লোকজনও জানে না ময়নুলের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। এ বিষয়টি জানার পর আমগ্রামে ডাকাতি ও খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহ করে ময়নুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়। তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে খুন ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। খুন ও ডাকাতির সঙ্গে কারা জড়িত ছিল তাও জানিয়েছে।

গত সোমবার রাতে উপজেলার আমগ্রামে মজিবর রহমান আকন্দের বাড়িতে ডাকাতরা হানা দেয়। এ সময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে গ্রামবাসীর সঙ্গে মজিবর আকন্দের ভাগ্নে মোফাজ্জল হোসেন (৫৫) ছুটে এসে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে ডাকাতের ছুরিকাঘাতে মোফাজ্জল নিহত হন এবং ডাকাতদের মারধরে চারজন আহত হন। এ সময় ডাকাতরা প্রায় ৩০ হাজার টাকা ও আট আনা স্বর্ণের গহনা লুট করে। গ্রামের লোকজন ঘিরে ধরার চেষ্টা করলে ডাকাতরা কয়েকটি ককটেলের বিস্ম্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মজিবর রহমান আকন্দের ছেলে আবদুল মজিদ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রানীনগর থানায় ১৫-২০ জন অজ্ঞাতপরিচয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন।


মন্তব্য