ধর্ষণের ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে বিয়ে, এখন চেনে না

   মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক নারীকে বিয়ে করেছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার তিল্লি ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মুরসালিন বাবু। বিয়ের আগে ভিডিওটি দিয়ে জিম্মি করে এক সন্তানের মা ওই নারীকে বাধ্য করেছেন স্বামীকে তালাক দিতে। কিন্তু এখন তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিচ্ছেন না মুরসালিন। এ অবস্থায় সব কুল হারিয়ে ওই নারী গতকাল বুধবার পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের ছেলে মুরসালিন বাবু।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার পাড়তিল্লি এলাকার ওই নারীর বিয়ে হয়। তার এক ছেলে রয়েছে। ছেলে হওয়ার কিছুদিন পর তার স্বামী সৌদি আরবে যান। বিদেশ যাওয়ার পর থেকেই ওই নারীর স্বামী ঠিকমতো তাকে সাংসারিক খরচপত্র দিত না। এরই মধ্যে মুরসালিন বাবু ওই নারীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। ওই নারী প্রস্তাবে রাজি না হলে সে বিভিন্ন সময় তাকে উত্ত্যক্ত করত। চার বছর আগে মুরসালিন একদিন তার বাড়িতে ওই নারীকে যেতে বলে। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় বাধ্য হয়ে ওই নারী সেখানে গেলে মুরসালিন বাবু তার অজান্তে খাবারের মধ্যে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করে তাকে ধর্ষণ করে ও সে দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। এর পর মুরসালিন বাবু ফের ওই নারীকে তার বাড়িতে ডেকে সেই ভিডিও দেখায় ও স্বামীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করতে চাপ দেয়। অন্যথায় ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ওই নারী নিরুপায় হয়ে তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে ২০১৫ সালে তার স্বামীকে তালাক দেন। এর পর ২০১৬ সালের ৭ জুন ঢাকায় এসে কাজি অফিসে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর মুরসালিন সৌদি আরব যান। পরে ওই নারীকেও সৌদি আরব নিয়ে যায়। ৪০ দিন তাকে সেখানে রেখে দেশে পাঠিয়ে দেয়। গত মাসে দেশে এসে মুরসালিন বাবু ওই নারীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ওই নারী যোগাযোগের চেষ্টা করলে মুরসালিনের লোকজন তাকে হত্যার হুমকি দেয়। আইনের আশ্রয় নিলে তার আগের ঘরের সন্তান ও পরিবারের লোকদের হত্যা করে লাশ গুম করারও হুমকি দেয়।

মুরসালিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে ওই নারী জানান, অভিযোগের বিষয়টি জানাতে গতকাল তিনি সাটুরিয়া থানায় যান। তিনি তার একমাত্র সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে আছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মুরসালিন বাবু জানান, তার বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। তিল্লি ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, ঢাকায় থাকার কারণে ওই নারীর অভিযোগ তিনি দেখেননি।


মন্তব্য