মা ইলিশ ধরতে প্রস্তুত হচ্ছেন জেলেরা

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

   নিরঞ্জন সুত্রধর, শিবালয় (মানিকগঞ্জ)

শিবালয়ের পদ্মা ও যমুনা নদীতে মা ইলিশ ধরতে প্রস্তুত হচ্ছেন মৌসুমি জেলেরা। উপজেলার পদ্মা-যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকার মৌসুমি জেলেরা নৌকা ও মাছ ধরার কারেন্ট জাল কিনে প্রস্তুত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। নদীতে মা ইলিশ আসা শুরু হলেই তা ধরতে তারা নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়বেন।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রভাবশালী, মৎস্য অফিসের একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কতিপয় পুলিশের সহযোগিতায় এই মৌসুমি জেলেরা মা ইলিশ ধরে। ইউএনও, মৎস্য কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নদীতে অভিযান পরিচালনা করতে যাওয়ার আগেই তারা তাদের সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ মাছ শিকারিকে আটক করা সম্ভব হয় না। আবার অভিযানে আটককৃত জেলেদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য কিছু দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধিসহ প্রভাবশালী ব্যক্তি তদবির করার জন্য ব্যস্ত থাকেন। এ কারণে জাটকা বা মা ইলিশ ধরা রোধ করা সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় দেখা গেছে, অভিযানে আটক জেলেদের কিছু জনপ্রতিধির অনুরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কিছু টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার পর তারাই আবার নদীতে মা ইলিশ ধরেন। এভাবে একই জেলে বারবার আটক হওয়ার নজিরও আছে।

এলাকাবাসী জানান, অভিযানে আটক জেলেদের অভিযান চলাকালে ছেড়ে না দেওয়া ও আটক ট্রলারগুলো জব্দ করে তা ভেঙে ফেলা হলে জাটকা ধরা অনেকাংশেই কমে আসবে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর মা ইলিশ ধরা রোধে ৩৯টি মোবাইল কোর্ট, ৪৫টি অভিযান পরিচালনা, ৪৯টি মৎস্য আড়ত ও ৯৯টি বাজার পরিদর্শন করা হয়।

আটক ১৪৪ জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল ও দুই লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ১৯৯টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এ উপজেলায় প্রায় দুই হাজার ২২৮ কার্ডধারী জেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই হাজার ২২৯ জেলেকে ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে অভিযান চলাকালে মাত্র ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল আলম জানান, এ উপজেলায় জেলের সংখ্যা আরও বেশি। তবে গত বছর দুই হাজার ৮২৯ পরিবারকে ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে চাল দেওয়া হয়েছে। জেলেদের ভিজিডি কার্ডের সংখ্যা কম হওয়ার কারণেও কিছুটা সমস্যা হয়। আগামী ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ ধরা রোধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এর আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন নিয়ে জাটকা ধরা বন্ধে আলোচনা সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা সহযোগিতা করলে জাটকা ধরা বন্ধে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ সফলতা আসবে বলে আশা করছেন সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে কিছু জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীর তদবিরের কারণে সমস্যা হয়।


মন্তব্য