সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সোনারগাঁয়ের ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিআর বিলকিসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অধিক পরিমাণ টাকা নিয়ে নতুন পোশাক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। পোশাক পরিবর্তন না করার জন্য ওই স্কুলের অভিভাবকরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে বৃহস্পতিবার সোনারগাঁয়ের ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এ ছাড়া অভিভাবকরা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ও শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বিশ্বাসের কাছে অনুলিপি প্রদান করেছেন। এর আগেও শিক্ষার্থীরা ইউএনওর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদের সীমানা ঘেঁষে ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অজুহাতে প্রধান শিক্ষক বিআর বিলকিস মনগড়াভাবে স্কুল পরিচালনা করছেন। এ বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের মতামতের কোনো প্রাধান্য দেওয়া হয় না। তার মতামতের বিপক্ষে কোনো অভিভাবক মতামত দিলেই তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়।

মাসুদুর রহমান নামে এক অভিভাবক বলেন, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবার মতামতের বিরুদ্ধে এ স্কুলের পোশাক পরিবর্তন করেছেন। এখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বছরের শেষ দিকে এসে পোশাক পরিবর্তন করলে অনেকের পক্ষে ৮০০ বা এক হাজার টাকা দিয়ে তা কেনা সম্ভব নয়। শুধু বাণিজ্যের জন্যই তিনি সবার মতামতের বিরুদ্ধে পোশাক পরিবর্তন করছেন।

অনু রানী দাস ও সুরাইয়া বেগম নামে অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করেন। তিনি পড়াশোনার মান উন্নয়নের নামে টাকা আদায় করে থাকেন। তিনি কারও কথার মূল্য দেন না। তাকে কিছু বললেই তিনি ধমক দিয়ে কথা বলেন।

অভিভাবক আছমা বলেন, প্রধান শিক্ষক আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য অন্য জায়গা থেকে পোশাক তৈরি করে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করছেন। তাছাড়া পুরনো পোশাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতের ছোঁয়া রয়েছে। এ স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মারগুবা ইয়াসমিন অধরা হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় সারাদেশে প্রথম হয়ে ওই পোশাক পরে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নিয়েছে।

প্রধান শিক্ষক বিআর বিলকিস বলেন, পোশাক বিক্রির অভিযোগ সত্য নয়। শতাধিক শিক্ষার্থীকে সভাপতি পোশাক ফ্রি দিয়েছেন। ডিসেম্বর মাসে নোটিশের মাধ্যমে অভিভাবকদের অবগত করেই পোশাক পরিবর্তন করেছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পোশাক পরিবর্তনের সময় ডিসেম্বর মাসে। তবে তা পরিবর্তনের বিষয়টি স্কুলের শিক্ষকদের আওতায় থাকে। অভিভাবকদের বছরের প্রথমে পোশাকের কাপড় ও রঙ বাছাই করে অভিভাবকদের ডেকে পোশাক তৈরি করতে বলে দেবেন। স্কুল পোশাক বিক্রির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে তিনি যদি পোশাক বিক্রি করে থাকেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। বছরের শেষ সময়ে পোশাক পরিবর্তনের কোনো নিয়ম নেই। তাদের ডেকে পোশাক বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হবে।


মন্তব্য