হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা

   মোকলেছুর রহমান, ধামরাই (ঢাকা)

হাতি দিয়েছে সালাম। আর সালামের জবাবে দিতে হবে টাকা! এভাবেই ঢাকার ধামরাইয়ের বিভিন্ন দোকানে ও সড়কে যানবাহন থামিয়ে হাতি দিয়ে প্রকাশ্যে চলছে চাঁদাবাজি। আর টাকা না দিলেই হাতির পিঠে বসা মাহুতের ইশারায় হাতি বিকট শব্দে হুঙ্কার দিয়ে ভয় দেখায়। যে হাতির বনে থাকার কিংবা চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের প্রদর্শনের জন্য রাখার কথা, সেই হাতি নিয়ে অভিনব পন্থায় একটি চক্র চাঁদাবাজি করছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকরা অতিষ্ঠ  হয়ে পড়েছেন।

রোববার ধামরাই পৌর বাজারের কায়েতপাড়া, আইঙ্গন, সোমভাগ, গোয়ালদী, কালামপুর বাজারসহ কয়েকটি বাজারে হাতি দিয়ে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করতে দেখা গেছে দুই ব্যক্তিকে। তাদের নাম জানতে চাইলে তারা বলতে রাজি হননি। তবে তারা জানান, এটা সার্কাসের হাতি। সারা বছর তো সার্কাস থাকে না, তাই মাঝেমধ্যে হাতি নিয়ে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ান তারা। কৌতূহলী মানুষ যা দেয়, তাই সাদরে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ১৫ দিন ধরে প্রতিদিনই ধামরাইয়ের বিভিন্ন জায়গায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। হাতির পিঠে বসা মাহুতের ইশারায় হাতিটি শুঁড় লম্বা করে দোকানের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে সালাম দেয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা সাধ্যমতো টাকা দিলেও মাহুতের ইশারায় হাতি ১০ টাকার নিচে কোনো টাকা নেয় না। এরপর হাতি বিকট শব্দে হুঙ্কার দেওয়ার পর শুঁড় দিয়ে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। অনেক দোকানে ভাংচুর করা হয়। পরে ব্যবসায়ীরা তাদের চাহিদামতো ১০, ২০, ৫০ টাকা দিয়ে রক্ষা পান। অন্যথায় ভয় দেখিয়ে রাস্তাঘাট বন্ধ করে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল আটকে নীরব চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।

কালামপুর বাজারের একতা মিষ্টি দোকানের মালিক নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, 'শুঁড় উঁচু করে হুঙ্কার দিয়ে যেভাবে দোকানে ঢুকিয়ে দেয়, দেখলেই ভয় করে। টাকা না দিয়ে উপায় নেই। প্রথমে পাঁচ টাকা দিয়েছিলাম, নেয়নি। পরে আরও পাঁচ টাকা বাড়িয়ে দিতে হয়েছে।'

রোববার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাইপাস ধামরাই-কালামপুর সড়কে যানবাহন থামিয়েও হাতি দিয়ে টাকা তুলতে দেখা যায়। এতে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় এনআরবিসি ব্যাংকের একটি মাইক্রোবাসের চালক টাকা না দিতে চাওয়ায় তার গাড়ির সামনে প্রায় ১০ মিনিট হাতিটি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। পরে ২০ টাকা দেওয়ার পর ছাড়া পান। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই ধামরাইয়ে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, 'হাতির মাহুতদের এর আগে একবার সতর্ক করা হয়েছিল, এ ধরনের কাজ না করার জন্য। আমরা এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখব। যদি এখন আবার তারা এ ধরনের চাঁদাবাজি করে, তাহলে মাহুতসহ হাতি আটক করে থানায় সোপর্দ করা হবে।


মন্তব্য