রূপগঞ্জে বেড়েছে ইঁদুরের উপদ্রব

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

রূপগঞ্জে বেড়েছে ইঁদুরের উপদ্রব

  জিয়াউর রাশেদ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

রূপগঞ্জে হ্যামিলনের সেই বাঁশিওয়ালা নেই। নেই বাঁশির মায়াবী সুর। যে সুরের মূর্ছনায় মোহিত হয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ইঁদুরেরা সব আত্মাহুতি দেবে। তাই লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে ইঁদুরের উপদ্রব। ইঁদুররা ছোট হলেও ক্ষতি করে বিশাল। প্রতিবছর ইঁদুরের কারণে রূপগঞ্জে ২৮০ টন ফসলের ক্ষতি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, বেড়িবাঁধ ও গ্রামীণ রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি করে।

উপজেলার ৩৬৫টি পোলট্রি শিল্পের ডিম ও বাচ্চা খেয়ে ফেলার কারণে বছরে ক্ষতি হয় প্রায় ছয় কোটি ৪০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এ উপজেলায় ইঁদুরের কারণে গত ১১ মাসে প্রায় ১১ কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে জানান উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায় প্রায় ৬০ ধরনের প্রাণঘাতী রোগের জীবাণু। ইঁদুর নিধন মাস উপলক্ষে গত অক্টোবরে ৬৫ হাজার ইঁদুর নিধন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সেমিনার-সিম্পোজিয়ামসহ বিভিন্নভাবে লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করার কারণে চলতি বছর ইঁদুরের উপদ্রব কিছুটা কমে এসেছে।

ফসলের ক্ষতির বাইরে ইঁদুর গ্রামীণ অবকাঠামো, বিশেষ করে বেড়িবাঁধ ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি করে। তবে টাকার অঙ্কে তা এখনও নিরূপণ করা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও খাদ্য বিভাগ ইঁদুরের কারণে তাদের তৈরি করা অবকাঠামো ও সম্পদের ক্ষতির বিষয়টি সামনে এনেছে। গ্রীষ্ফ্ম মৌসুমে ইঁদুর সাধারণত ফসলের ক্ষেতে ও গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে গর্ত করে সেখানে অবস্থান করে। বর্ষা মৌসুমে নিম্নভূমি প্লাবিত হলে এবং ফসলের জমিতে বৃষ্টির পানি পড়লেই ইঁদুর গিয়ে অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়। উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী এনায়েত কবির বলেন, ব্যাপক ক্ষতি করে এটা ঠিক, কিন্তু কী পরিমাণ ক্ষতি হয়, সে তথ্য আমার জানা নেই। বছরে একটি ডালের গুদামে ৬৫ হাজার টাকার ডাল ইঁদুরের পেটে যায় অথবা বিনষ্ট হয়। এই হিসাব অনুযায়ী, রূপগঞ্জের ৫০টি দোকান বা গুদামে বছরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানে বছরে অন্তত পাঁচ লাখ টাকার বস্তা কেটে বিনষ্ট করে। মুড়াপাড়ার পাইকারি চাল ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর দোকানের প্রায় ১২ হাজার কেজি চাল ইঁদুরের পেটে যায় অথবা বিনষ্ট হয়। ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চালের গড়মূল্য দুই হাজার টাকা হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা। আর বস্তা কাটার কারণে ক্ষতি দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। রূপগঞ্জে আড়াই হাজারের বেশি মুদি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি দোকানে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, বছরে প্রায় তিন লাখ টাকার মালপত্র ইঁদুরে নষ্ট করে। একই চিত্র দেখা গেছে পশুখাদ্যের দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, ওষুধের দোকান, কাপড়ের দোকান, বিপণিবিতান, ইলেকট্রনিক্সের দোকান, লাইব্রেরি ও বাসাবাড়িতে। ইঁদুর প্লেগ, জন্ডিস, টাইফয়েড, চর্মরোগ, রিকেটস, আমাশয়, জ্বর, কৃমিসহ প্রায় ৬০ ধরনের রোগের জীবাণু ছড়ায়, যা অনেক সময় প্রাণনাশের কারণ হতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, ইঁদুরের কারণে রূপগঞ্জে বছরে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এ কারণে কৃষি অফিসের উদ্যোগে সচেতনতা বাড়াতে নারী-পুরুষ ও কৃষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ফলে আগের চেয়ে এখন ইঁদুরের উপদ্রব কিছুটা কমে এসেছে।


মন্তব্য যোগ করুণ