ছাতকে ডায়রিয়ার প্রকোপ

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছাতকে ডায়রিয়ার প্রকোপ

  ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা। মহিলা ওয়ার্ডে শিশুদের ভিড়, কান্নাকাটির দৃশ্য দেখা গেল। নির্ধারিত শয্যা ছাড়াও মেঝেতে শুয়ে আছে একাধিক রোগাক্রান্ত শিশু। তাদের বেশিরভাগ হাম, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত। হাসপাতালের কর্তব্যরত সেবিকারা কেউ স্যালাইন দিচ্ছেন, আবার কেউ ইনজেকশন দিতে ব্যস্ত রয়েছেন। এই চিত্র ছাতক উপজেলা সদর হাসপাতালের। এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড গরমসহ বিরূপ আবহাওয়ার কারণে প্রতিদিনই ১৫-২০ শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। রোগাক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাঁশটিলা গ্রামের শতাধিক রোগী হামে আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া কালারুকা, ছাতক সদর, ইসলামপুরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নিয়েছেন। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় সেবাদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ হাসপাতালটিতে মেডিকেল কর্মকর্তা (শিশু) ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় অন্য চিকিৎসকরা নিয়মিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ ছাড়া হাসপাতালে নিউমোনিয়া ও হামের পর্যাপ্ত ওষুধও নেই।

হাসপাতালে ১৭ শয্যাবিশিষ্ট মহিলা ওয়ার্ডে শিশু নিয়ে ভর্তি কালারুকা ইউনিয়নের লামাপাড়া গ্রামের আব্দুস শহিদের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, '৬ দিন ধরে আমার ১৭ মাস বয়সী মেয়ে মরিয়ম নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালে ভর্তি আছি, এখান থেকে শুধু ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। অন্য ওষুধ সবই বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে।' সদর ইউনিয়নের আইন্দারগাঁও গ্রামের গাড়িচালক সেলিম মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, 'আমার ২ মাস বয়সী ছেলে সাইফুল ইসলাম আরিফকে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।' বুবরাপুর গ্রামের রুমান আহমদ বলেন, 'আমার সাড়ে ৫ বছর বয়সের ছেলে মিশকাত আহমদকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার সকালে ভর্তি করিয়েছি। বেড স্বল্পতায় মেঝেতে চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল থেকে একটি স্যালাইন দেওয়া হয়েছে, অন্য ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনলাম।'

উপজেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মাসুম বিলল্গাহ জানান, মূলত চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের সেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মোট ২৪ জনের স্থলে চিকিৎসক আছে মাত্র ৭ জন। ওষুধ সংকটের বিষয়টি সাময়িক, দ্রুতই ওষুধ সংকটের সমাধান হবে।


মন্তব্য