ট্রেনের ক্রসিং বিড়ম্বনা দুর্ভোগে যাত্রীরা

কুলাউড়া

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯

ট্রেনের ক্রসিং বিড়ম্বনা দুর্ভোগে যাত্রীরা

   কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ট্রেনের বিড়ম্বনায় বেশ কয়েকদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেনের যাত্রীরা। ক্রসিং বিড়ম্বনার ফলে ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে পারছে না। আর এদিকে অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে ধৈর্যহারা হচ্ছেন ট্রেনযাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কখনও আধঘণ্টা, কখনও এক থেকে দুই ঘণ্টাও ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় হয়েছে।

ক্রসিং বিড়ম্বনার অন্যতম কারণ হচ্ছে কুলাউড়ার প্রাচীনতম লংলা স্টেশন আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়া ও বরমচাল স্টেশনে দুর্ঘটনা।

২৩ জুন বরমচাল রেলওয়ে স্টেশনের পাশে বড়ছড়া সেতুতে আন্তঃনগর উপবন ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকে স্টেশনটি চালু থাকলেও রেললাইনের ক্রসিং বডি ও সিগন্যালের যন্ত্রাংশ ভেঙে যাওয়ায় ক্রসিং ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে এক লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। অন্যদিকে, লংলা রেলওয়ে স্টেশনটি মাস্টারের অভাবে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এক লাইন চালু রেখে বন্ধ হয়ে আছে। প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এ স্টেশনটি পুরোপুরি চালু করা হয়নি। স্টেশনটি চালুর দাবিতে এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন কর্মসূচি করেছে। প্রতিদিন এ লাইন দিয়ে আন্তঃনগর, লোকালসহ মোট ১৮টি ট্রেন সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাতায়াত করে থাকে। কুলাউড়া থেকে বরমচাল স্টেশনের দূরত্ব প্রায় ১৫ ও লংলা রেলওয়ে স্টেশনের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। যার কারণে ট্রেনের ক্রসিং বিড়ম্বনায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার পাশাপাশি প্রতিদিন কয়েক সহস্রাধিক ট্রেনযাত্রী অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

একটি স্টেশন বন্ধ, অপর স্টেশনটির কার্যক্রম স্বাভাবিক না থাকায় সিলেটগামী ট্রেনকে ৩৫ কিলোমিটার দূরবর্তী মাইজগাঁও স্টেশনে এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী ট্রেনগুলোকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে শমশেরনগর স্টেশনে ক্রসিং দিতে হয়। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় লোকাল ট্রেন সুরমা মেইল, জালালাবাদ এক্সপ্রেস ও কুশিয়ারা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের। বুধবার বিকেল ৪টার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেস কুলাউড়া স্টেশনে পৌঁছার কথা রাত ৯টা ১৫ মিনিটে। কিন্তু ক্রসিং সমস্যা থাকায় রাত ১১টায় কুলাউড়া স্টেশনে পৌঁছে রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশে ছাড়ে।

কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার মুহিব উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রায় সময় এক সঙ্গে কুলাউড়া স্টেশনের উভয় দিকের স্টেশনগুলোতে একাধিক লোকাল ও আন্তঃনগর ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় লাইন ক্লিয়ার দেওয়া নিয়ে আমাদেরও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তবে বরমচালে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন পুরোপুরি মেরামত কাজ শেষ হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ক্রসিং ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে।


মন্তব্য