গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯

গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

গরমের তীব্রতায় হাঁসফাঁস জনজীবন। একটু শীতল পরশ পেতে পুকুরে দুরন্তপনায় মেতেছে শিশুরা। ছবিটি সিলেট নগরীর সুবিদবাজার এলাকা থেকে তোলা- ইউসুফ আলী

   সিলেট ব্যুরো

রোদ আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সিলেটের জনজীবন। গত কয়েক দিন ধরেই চলছে এ অবস্থা। তবে প্রচণ্ড তাপদাহে বেশি দুর্ভোগে পড়ে খেটে খাওয়া মানুষ। অসহনীয় গরমে হাঁসফাঁস করতে দেখা যায় লোকজনকে। এ ছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরমে মানুষ কাহিল হয়ে পড়ছে।

গতকাল বুধবার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সূর্যের তাপ এত বেশি যে, হাঁটলেই গরম বাতাস অনুভূত হচ্ছে। অনেককে দেখা গেছে যাত্রাপথে ছাতা মাথায় দিয়ে, বাসে কিংবা যানবাহনে হাতপাখার বাতাসে গরম কমানোর চেষ্টা করছে। গরমে সবচেয়ে কষ্টে রয়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। এ ছাড়া শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েছে পরিবারের লোকজন। তীব্র তাপদাহ থেকে বাঁচতে লেবুর শরবত, খাবার স্যালাইন কেনার হিড়িক পড়েছে। ইলেকট্রিক দোকানগুলোতে দেখা গেছে ফ্যান ও এসির বিক্রি অনেকটা বেড়ে গেছে। আর ফুটপাতে দেখা গেছে, হাতপাখাও বেশ বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় সিলেট কাস্টমস অফিসের ভেতরে গাছের ছায়ায় দেখা যায় বেশ কয়েকজন খেটে খাওয়া মানুষ লাইন দিয়ে বসে আছে। কারও গলায় গামছা পেঁচানো। কিছুক্ষণ পরপর গা মুছছে। কেউবা মসজিদের ওজুখানায় গিয়ে মাথায় পানি ঢালছে। সুরমা নদীতীরে ক্বিন ব্রিজের পাশে গিয়ে দেখা যায় পথশিশুরা নদীতে ব্রিজ থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ছে। কেউ কেউ শরীর ডুবিয়ে রেখেছে নদীর পানিতে। তেমনি এক রিকশাচালক আমির মিয়া জানান, সকালে বের হয়েছেন। এত গরমে আর পারছেন না। তাই গাছের ছায়ায় একটু বিশ্রাম নিচ্ছেন।

কাস্টমস অফিসের গাছের ছায়ায় তার পাশেই বসে ছিলেন ঠেলাচালক জুলফিকার আলী। তার সঙ্গে আলাপ করতে চাইলে তিনি অনেকটা ক্লান্ত বলে জানান। নগরীর সিটি সেন্টারের ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ বলেন, প্রচণ্ড গরম, তাই ঘর থেকে বের হইনি। জরুরি কাজ থাকায় সেটি শেষ করে রেখেছি। সন্ধ্যায় দোকানে যাব।

সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, এ সময় গরমের তীব্রতা বেশি থাকে। জ্যৈষ্ঠ শেষ হতে আরও দু'দিন বাকি। এ সময়ে বেড়েছে গরমের তীব্রতা। এ তীব্রতা শুক্রবার বৃষ্টি হলে কমতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী। তিনি জানান, বুধবার সিলেটের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


মন্তব্য