বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

আছমিনা বেগম (২৫)। স্বামীর সঙ্গে তিন বছরের সংসার জীবন। তাদের সংসারে এক পুত্র সন্তান রয়েছে। তিন বছরের এই সংসার জীবনে সুখের মুখ দেখা হয়নি আছমিনার। স্বামী সাহেদ আহমদের কাছ থেকে ভালোবাসার বদলে পেয়েছেন নির্যাতন। সর্বশেষ স্বর্ণালঙ্কার না পেয়ে পাষণ্ড স্বামী তার শরীর আগুনে ঝলসে দিয়েছে। গত ৪ জুন ভোররাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুছেগুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী একই ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামের ছমির উদ্দিনের মেয়ে। অভিযুক্ত সাহেদ আহমদ মুছেগুল গ্রামের আনু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় মামলা করেছেন।

এদিকে আগুনে ঝলসে আছমিনার শরীরের অন্তত ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দরিদ্র বাবার পক্ষে আছমিনার চিকিৎসা করানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। এ অবস্থায় বুধবার হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে আছমিনাকে ঢাকায় ভালো চিকিৎসা করানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিরাও এগিয়ে এসেছেন।

আছমিনার বাবা ছমির উদ্দিন বলেন, 'মাত্র পাঁচ দিন চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়েকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি গরিব। মেয়েকে যে চিকিৎসা করাব, এই সামর্থ্য আমার নেই। মেয়ের উন্নত চিকিৎসা দরকার। উপজেলা চেয়ারম্যান ও পুলিশের সহযোগিতায় রাতে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।'

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। মেয়েটির দ্রুত ভালো চিকিৎসা দরকার। গরিব পরিবার। তাই আমি নিজেই ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানও সহযোগিতা করেছেন। ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


মন্তব্য