হবিগঞ্জে খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন

হুমকিতে ৩টি ব্রিজ

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

হবিগঞ্জে খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন

খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ট্রাক্টরে -সমকাল

   হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নানা রকম পদক্ষেণ নিয়েও খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রকাশ্যে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। এতে হুমকিতে রয়েছে একটি রেলব্রিজসহ তিনটি ব্রিজ।

জানা যায়, বেশ কয়েক বছর ধরেই জেলার শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকার খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বালু উত্তোলন করে আসছে বালুখেকোরা। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করলে কিছুদিন তা বন্ধ থাকে। এর পর আবারও শুরু হয় বালু উত্তোলন।

এদিকে পিলারের গোড়া থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ঢাকা-সিলেট লাইনের একটি রেলব্রিজসহ তিনটি ব্রিজ হুমকির মুখে পড়েছে। ব্রিজের গোড়া থেকে মাটি-বালু সরে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে ব্রিজ তিনটি। যে কোনো সময় ব্রিজ তিনটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, বছর দেড়েক আগে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের লোকজনের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ব্রিজের কাছ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ময়না মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তার ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। এর পর কিছুদিন বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। কয়েকদিন পর আবার ময়না মিয়া ও তার ছেলের নেতৃত্বে রেলের ব্রিজ সংলগ্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন শুরু করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, নিয়মিত ব্রিজের গোড়া থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজনকেও বালু উত্তোলনকারীরা তোয়াক্কা করে না। কোন প্রতিবাদ করলে আমাদের মারপিট করা হয়। প্রশাসনের লোকজনকেও অনেক সময় লাঞ্ছিত করে।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফেরদৌস ইসলাম বলেন, 'এটি একটি নবগঠিত উপজেলা। এখনও এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রশাসনিক কাজ করতে গিয়ে বাইরে নজর রাখা এ মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও বালু উত্তোলনের বিষয়টি যখন শুনেছি, আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।'


মন্তব্য যোগ করুণ