সমকাল প্রতিবেদক

তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ঘোষণায় আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তাব করেছেন শেয়ারবাজার বিশ্নেষকরা। শেয়ারবাজার সংশ্নিষ্টদের অনেকেই একই মতামত দিয়েছেন। তারা মনে করেন, দেশের শেয়ারবাজার ছোট বিধায় কোনো কোম্পানির বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা ওই কোম্পানির পাশাপাশি সংশ্নিষ্ট অনেক কোম্পানির শেয়ারের দরে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। খুলনা পাওয়ারকে উদারহণ হিসেবে নিয়ে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে এখনই সুস্পষ্ট বিধি-বিধান তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

খুলনা পাওয়ারের (কেপিসিএল) উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সামিট করপোরেশন ১ কোটি ৮০ লাখ (কেপিসিএলের ৫ শতাংশ) শেয়ার সরাসরি পাবলিক মার্কেটে বিক্রির ঘোষণার পর এমন প্রস্তাব করেছেন তারা। এ ঘটনায় গত বুধবার শেয়ারটির লেনদেন স্থগিত করেছে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসই।

সূত্র জানায়, সামিটের এত বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ভালোভাবে নেয়নি। এ কারণে ডিএসইর পদক্ষেপে সমর্থন দিয়েছে। এদিকে ডিএসই সূত্র জানায়, সামিটের পক্ষ থেকে আগের ঘোষণা সংশোধন করে পাবলিক মার্কেটের পরিবর্তে ব্লক মার্কেটে বিক্রির ঘোষণা দিলে খুলনা পাওয়ারের লেনদেনের ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

খুলনা পাওয়ারের মূল উদ্যোক্তা সামিট ও ইউনাইটেড গ্রুপ। উভয়ের মালিকানা সমান ৩৫ শতাংশ করে। কারও কাছেই নিয়ন্ত্রণমূলক শেয়ার (মোটের অন্তত ৫১ শতাংশ) নেই। কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণমূলক শেয়ার অধিগ্রহণে আগ্রহী ইউনাইটেড। গ্রুপটি সামিটের শেয়ারের পাশাপাশি পাবলিক শেয়ারের বড় অংশ কিনে নিতে চায় বলে নানা গুজব বা গুঞ্জন আছে।

সামিটের ঘোষণার নেতিবাচক প্রভাব শুধু খুলনা পাওয়ারের শেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল না, আরও বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারেও পড়ে। অধিকাংশ শেয়ারের দর কমায় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্সেরও পতন হয়। দেখা গেছে, গত রবি ও সোমবারের বাজারে সূচকটির একক কোম্পানি হিসেবে খুলনা পাওয়ারের সর্বাধিক ভূমিকা ছিল। এ দু'দিনে ডিএসইএক্স ৩৪ পয়েন্ট হারায়। খুলনা পাওয়ারের দরপতনেই সূচকটি খুইয়েছিল ১৪ পয়েন্ট।

কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, সামিট বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ঘোষণায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি। তবে এটা সত্য, এমন ঘোষণায় বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী বড় অঙ্কের লোকসানের শিকার হয়েছেন।

অর্থনীতিবিদ এবং শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ সমকালকে বলেন, যখন তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রি করে, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যথেষ্ট সময় দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে পাবলিক মার্কেটে বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা রেখে আইন করা উচিত। কোম্পানি নির্বিশেষে অন্তত সংশ্নিষ্ট কোম্পানির মোট শেয়ারের ৫ শতাংশের বেশি পাবলিক মার্কেটে বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামও এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, পাবলিক মার্কেটের পরিবর্তে ব্লক মার্কেটে বিক্রির শর্ত দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ কত শেয়ার এবং ঘোষণার কতদিন পর বিক্রি করতে পারবে, সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে আইন করা যেতে পারে।

ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমানও এ মতকে সমর্থন করেন। তিনি সমকালকে বলেন, খুলনা পাওয়ারের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, এমন ঘটনা ভবিষ্যতেও হতে পারে। তাই এর পুনরাবৃত্তি রোধে এখনই আইনি বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের অন্তত ১৫ দিন আগে ঘোষণা দেওয়ার এবং শুধু ব্লক মার্কেটে শেয়ার বিক্রির বিধান করার জন্য ডিএসই কাজ করবে বলে জানান তিনি।


মন্তব্য যোগ করুণ

শেয়ারবাজার বিভাগের অন্যান্য সংবাদ