বিসিবির আয়োজনে 'বঙ্গবন্ধু বিপিএল'

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিসিবির আয়োজনে 'বঙ্গবন্ধু বিপিএল'

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিপিএলে এবার বিসিবি নিজের অর্থায়নে করবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আছে আগামী বছর। আমরা চাচ্ছি এবারের বিপিএল বঙ্গবন্ধুর নামে উৎসর্গ করে, বঙ্গবন্ধুর নামে করব। আমরা কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দিচ্ছি না। যারা আর্থিক ক্ষতির কথা বলছিলেন, তারা তো খুশি হবেন। পুরো টাকাটাই বেঁচে যাবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে বিশ্ব ও এশিয়া একাদশের যে ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি তা আগামী বছর যথাসময়েই হবে। বরং এর আগেই বঙ্গবন্ধুর নামে মাঠে গড়াবে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। গতকাল বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, বিপিএল দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন শুরু করে দেবেন তারা। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ বিসিবির অর্থায়নে হবে এবারের টুর্নামেন্ট। মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো রাজস্বের ভাগ চাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত বোর্ডের। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি সভাপতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজিই বিপিএলের রাজস্বের ভাগসহ বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেয়, যেগুলো বিপিএলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে এবার নতুন চুক্তি করবে না বিসিবি। টুর্নামেন্টও হবে ডিসেম্বরে নির্ধারিত সময়ে।'

তবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের শর্তে রাজি থাকলে আগামী বছর থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে চুক্তি হবে বলে জানান পাপন। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চেষ্টা করলে বিপিএলের সপ্তম আসরেও যুক্ত হতে পারবে। কারণ প্রত্যেক দলের জন্যই স্পন্সর আহ্বান করবে বিসিবি। স্পন্সর হলে দলের নামে পরিবর্তন আনার সুযোগ থাকবে। বিসিবি সভাপতি পাপনের মতে, 'যদিও টিম স্পন্সর নেই তাই তারা যদি সরাসরি বিদেশি কিছু খেলোয়াড় আনতে চায়, আনতে পারবে। এ সুযোগ তাদের দেওয়া হবে।'

বিপিএলের ছয় বছরের চক্র শেষ হয়েছে এ বছর। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে নতুন করে চুক্তিও হওয়ার কথা ছিল। এজন্য বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করে। বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজিই সেখানে বিপিএলের রাজস্বের ভাগ দাবি করে। বাইলজের কিছু শর্ত নিয়েও আপত্তি জানায় কোনো কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। এসব পর্যালোচনা করে বিসিবি পরীক্ষামূলকভাবে নিজস্ব অর্থায়নে টুর্নামেন্টের সপ্তম আসর আয়োজন করে দেখাতে চায়। এ ব্যাপারে পাপনের যুক্তি হলো, 'এ বছর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করার কথা। এরই মধ্যে আমরা ওদের সঙ্গে বসে যা বুঝেছি, কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির বেশ কিছু দাবি-দাওয়া আছে, যা বিপিএল মডেলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি আবার বলেছে, এক বছরে দুই বিপিএল তারা চায় না। সবকিছু চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিপিএলে এবার বিসিবি নিজের অর্থায়নে করবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আছে আগামী বছর। আমরা চাচ্ছি এবারের বিপিএল বঙ্গবন্ধুর নামে উৎসর্গ করে, বঙ্গবন্ধুর নামে করব। আমরা কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দিচ্ছি না। যারা আর্থিক ক্ষতির কথা বলছিলেন, তারা তো খুশি হবেন। পুরো টাকাটাই বেঁচে যাবে।'

বিসিবির অর্থায়নে হলেও প্লেয়ার ড্রাফট, বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ, খেলা সম্প্রচার সব ঠিক থাকবে। সাতটি দলের সঙ্গে স্পন্সরও নেওয়া হবে। স্পন্সর প্রতিষ্ঠান চাইলে তিনজন করে ভালো মানের বিদেশি ক্রিকেটার এবং কোচ আনতে পারবে। এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে বিপিএলের বাইলজ পাকাপাকি করা হবে বলেও জানান পাপন, 'আমরা একটা বুক তৈরি করে দেব আইপিএলের মতো। ওই নিয়ম মেনে যারা আসতে চায় আসবে। যাদের মন না চায়, আসবে না। কিন্তু এসে কোনো নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করতে পারবে না।'

বিপিএল থেকে কোনো রাজস্ব ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান পাপন, 'রেভিনিউ শেয়ার করা সম্ভব নয়। আমাদের ৮০ কোটি টাকা দেওয়া হোক, আমরা ৪০ কোটি দিয়ে দেব। বিসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছে থেকে আট কোটি টাকা করে নিত। আমরা সেখানে সাত কোটিই ছেড়ে দিয়েছি। মাত্র এক কোটি নিচ্ছি। আবার কী চায়। আমরা চাই যারা বিপিএলে আসবে, তারা খেলার উন্নয়ন, খেলোয়াড়ের উন্নয়নের জন্য আসবে, ব্যবসা করার জন্য নয়। তবে গতকাল একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিসিবির নতুন নিয়মে খেলতে রাজি আছেন তারা।


মন্তব্য