মুশফিক প্র্যাকটিস ম্যাচে সাকিব সালাউদ্দিনের ক্লাসে

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

আফগানিস্তানের কাছে চট্টগ্রাম টেস্ট হারের পেছনে অন্যতম কারণ সিনিয়রদের ব্যর্থতা। দলের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত মুশফিকুর রহিম প্রথম ইনিংসে রানের খাতাই খুলতে পারেননি, পরের ইনিংসে আউট ১১ রানে। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দুই ইনিংসে অবদান ১১ ও ৪৪। দুয়ারে যখন এবার ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজ, তখন অন্যদের চেয়ে এই দুই সিনিয়রের সিরিয়াসনেস একটু বেশিই। যে কারণে দলে না থেকেও গতকাল ফতুল্লায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের হয়ে মাঠে নেমে গেলেন মুশফিক। আর মিরপুর ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলনে গুরু সালাউদ্দিনের শরণাপন্ন হলেন সাকিব। অধিনায়কের নেট ব্যাটিংয়ের ফল হয়তো পরে বোঝা যাবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাচ অনুশীলন ভালো হয়নি মুশফিকের। শেন উইলিয়ামসের স্পিনে কট অ্যান্ড বোল্ড হওয়ার আগে ২৬ বলে করতে পেরেছেন ২৬ রান। গোটা দলই অবশ্য ভালো করেনি। সফরকারীদের কাছে ম্যাচ হেরেছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে হওয়া প্রস্তুতি ম্যাচটিতে মুশফিক ছাড়াও খেলেছেন জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ সাব্বির রহমান ও সাইফউদ্দিন। এ ছাড়া ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ডাক পাওয়া আফিফ হোসেন আর ইয়াসিন আরাফাত মিশুও ছিলেন একাদশে। কিন্তু এক আফিফের স্পিন বোলিং ছাড়া আর কারও ব্যাটিং-বোলিং প্রত্যাশামতো হয়নি। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪২ রান তোলে বিসিবি একাদশ। তিন নম্বরে নেমে সাব্বির করেন ৩১ বলে ৩০ রান; ইনিংসটিতে একটি ছক্কা থাকলেও কোনো চার নেই। মুশফিকের রান-বল সমান, এর মধ্যে দুটি চারের বাউন্ডারি, কোনো ছয় নেই। আফিফ ব্যাট করেছেন পাঁচ নম্বরে, একটি ছয়সহ ৮ বলে ১০ রান। সাইফউদ্দিন অপরাজিত ছিলেন ৭ বলে ৭ রানে। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট অভিজ্ঞ উইলিয়ামসের। বিসিবি একাদশের পক্ষে ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন অফস্পিনার আফিফ। জিম্বাবুয়ের উইকেট পতন হয়েছে ওই তিনটিই। বাকি যারা হাত ঘুরিয়েছেন, তাদের মধ্যে তিন ওভার করে ২০ রান দিয়েছেন সাইফউদ্দিন, প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ইয়াসিন আরাফাত ২ ওভারে দিয়েছেন ২২ রান। বিসিবি একাদশের বোলারদের এমন হাল হয়েছে ব্রেন্ডন টেলর ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ব্যাটিং সাফল্যে। অভিজ্ঞ এ দুই ব্যাটসম্যান উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৪২ রান। মাসাকাদজা ২৩ বলে ৩১ রান করে আউট হলেও টেলর অপরাজিত ছিলেন শেষ পর্যন্ত। ৪৪ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ে করেন ৫৭ রান। টিমিকেন মারুমা ২৮ বলে অপরাজিত থাকেন ৪৬ রানে। জিম্বাবুয়ে জয় নিশ্চিত করে ১৬ বল নিখরচা রেখে। মোটের ওপর প্রস্তুতিটা ভালোভাবে সারা হয়েছে সফরকারীদেরই। ফতুল্লায় মুশফিকের অনুশীলন ভালো না হলেও ঢাকায় সাকিবের কেমন হয়েছে তা বোঝা যাবে ম্যাচে। এর আগে বিশ্বকাপের পূর্বমুহূর্তেও সালাউদ্দিনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।


মন্তব্য