রোদেলা স্বাগতম টনটনে

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯

রোদেলা স্বাগতম টনটনে

  সঞ্জয় সাহা পিয়াল,টনটন থেকে

সমারসেটের মফস্বল শহর বলা যেতে পারে। স্টেশনের পাশে দোকানের সারি নেই, ট্যাক্সিস্ট্যান্ডে কারও অপেক্ষা নেই- কোনো ট্রেন আসার পর খানিকটা আড়মোড়া ভাঙা, তারপরই আবার ঘুম! টনটন- এমনই। ব্র্রিস্টলের ব্যস্ত লোকেরা কেউ খুব বেশি আসে না এদিকটা। ইচ্ছা হলে কখনও গাড়ি চালিয়ে এই শহরের খামারগুলো ঘুরে যাওয়া- টনটনকে বরাবরই একটু গ্রামের বলে ভেবে থাকে ব্রিস্টল! রোদ চুরি করে সেই ব্রিস্টলকেই কাল দেখিয়ে দিল টনটন। সূর্যের হাসিতে টাইগারদের স্বাগত জানাল ইংল্যান্ডের এই ছোট্ট প্রাকৃতিক লাবণ্যে ভরা 'মফস্বল' শহরটিই। দুপুর ১টায় ব্রিস্টল থেকে রওনা দিয়ে বেলায় বেলায় নতুন শহরের ঠিকানায় চলে আসে টাইগাররা। তবে সাকিব, তামিম, লিটন, সাব্বিররা সূর্য দেখতে চলে যান লন্ডনে। দু'দিনের ছুটি- তারপর না হয় তারা আসবেন মফস্বলের টনটনে!

বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের বড় বড় শহরে কোনো উন্মাদনা না থাকলেও টনটনের টনক কিন্তু নড়েছে বেশ। শহরের একমাত্র রেলস্টেশনেই বিশ্বকাপের বিলবোর্ড, সিটি সেন্টারের কাছাকাছি বিশ্বকাপের ছোট ছোট পোস্টার। ক্রিকেটের রঙ বেশ ভালোই লেগেছে এখানে। এবং সবচেয়ে ভালো খবর এই যে আবহাওয়া বার্তা বলছে, আগামী সাত দিন এখানে খানিকটা কালো মেঘ উড়লেও ল্যান্ডিং করার কোনো অনুমতি সে পাচ্ছে না। সোমবার পর্যন্ত মিষ্টি রোদ থাকবে এই শহরে। অথচ ব্রিস্টল থেকে রওনা দেওয়ার আগে টাইগারদের কোচ স্টিভ রোডস নাকি জেনে এনেছেন, টনটনেও বৃষ্টি পিছু নেবে। সে কারণে আজও দলের কোনো অনুশীলন রাখেননি তিনি। বিশ্রাম দিয়েছেন পুরো দলকে। কিন্তু বৃষ্টি-ভয়ে এভাবে অনুশীলন বন্ধ রাখায় খুশি হতে পারছেন না অনেকেই। নাম বললে সমস্যা হবে- দলের সঙ্গে থাকা এমন কিছু ক্রিকেটারের দাবি, 'মনে হচ্ছে ট্যুরিস্ট হয়ে গেছি। এক শহর থেকে আরেক শহরে কিছুদিন পরপর যাচ্ছি। ব্যাগ গোছাচ্ছি, গাড়িতে উঠছি, ছবি তুলছি। শুধু মনের মতো করে অনুশীলনটাই করতে পারছি না। এমনিতে বৃষ্টি, তার ওপর আবার ট্রাভেল ডে থাকলে বিশ্রাম।'

আসলে অনুশীলন করতে চাইলে আগে থেকেই ভেন্যু ম্যানেজারকে বলতে হয়। তিনি তখন কোনো দলের চাহিদামতো নেট সেশনের সামগ্রিক দিকটা ব্যবস্থা করেন। ছোটখাটো একটা আয়োজন থাকে সে জন্য। কিন্তু কোনো দল থেকে যদি আগেই বলে দেওয়া হয় অনুশীলন করব না, সে ক্ষেত্রে তারা কোনো ব্যবস্থা করে না। কেউ হুট করে চাইলেই প্র্যাকটিস করতে পারে না সেখান। ৫ জুন কার্ডিফে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচের পর কেবল একদিনই সবাই মিলে অনুশীলন করেছে টাইগাররা। আজও ছুটি! ১৭ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ম্যাচে নামার আগে হাতে পাওয়া সময়টুকুকেই অনেক মনে করছেন ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডস। কিন্তু তার সামনে নিজেদের অনুশীলনের ঘাটতির কথা অনেকেই বলতে পারছেন না।

এমনিতেই দলের কয়েকজন ক্রিকেটার রানে নেই। কানাঘুষা আছে এ নিয়ে। তবে তারা নিজেরাই সেটা বুঝতে পারছেন। তামিম যেমন নিজে থেকেই একটা তাড়নার কারণে একা একা অনুশীলন করছেন। বাকিদের মধ্যেও সেই খিদা রয়েছে। তবে মাঠে এসে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার মতো কিছু করছেন না।

বৃষ্টিতে সেদিন ম্যাচ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর হোটেলে ফিরেই কেউ কেউ শপিংয়ে বেরিয়েছিলেন। রাত ৮টায় দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তাই সিটি সেন্টারে গিয়ে চটজলদি শপিং করেই হোটেলে ফিরেছেন কেউ কেউ। এ নিয়ে অবশ্য দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন তেমন কিছু মনে করছেন না। তার যুক্তি হলো, লম্বা টুর্নামেন্টে একঘেয়েমি কাটানোর জন্য ক্রিকেটের বাইরেও বিশ্রাম নিতে হয়। নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে হয়। কিন্তু বিশ্বকাপের যে সমীকরণের সামনে এখন দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ, তাতে হাতে থাকা পাঁচটি ম্যাচ পাঁচটি লাইফ লাইনের মতো। সেখানে হয়তো ক্লাস চলবে স্কুলে, কিন্তু তার বাইরেও বোধ হয় হোমওয়ার্কে আরও মনোযোগী হওয়া দরকার। বৃষ্টি বৃষ্টি করে আর বোধ হয় ঘরে বসে থাকার সময় নেই। কেননা টনটনের আকাশ বলছে, এখানে ঘুড়ি ভোঁ কাট্টা হবে না।


মন্তব্য