আমিরের সুপার ফাইভ

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯

আমিরের সুপার ফাইভ

  স্পোর্টস ডেস্ক

টনটনের আকাশ ঝকঝকে-তকতকে, ছিল না কোনো বৃষ্টির আনাগোনা। বাতাসের আর্দ্রতাও ঠিকঠাক। এমন দারুণ পরিবেশকেই রেকর্ডের মঞ্চ বানিয়ে নিলেন মোহাম্মদ আমির। দুর্দান্ত বোলিংয়ে একদিনের ক্রিকেটে নিজের প্রথম পাঁচ উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন এই বাঁহাতি পেসার। এর আগে ২০০৯ সালে কলম্বোতে শ্রীলংকার বিপক্ষে বল হাতে সেরা দৌড়টাই যেন দিয়েছিলেন আমির। সে ম্যাচে ৯ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৮ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। অভিষেক বছরের আলো ছড়ানো সেই বোলিং বোধ হয় ফিরে এলো নয় বছর পর ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর ইংল্যান্ডে।

১০-২-৩০-৫; রীতিমতো ম্যাজিক্যাল ফিগার। তার চেয়ে বড় কথা, অস্ট্রেলিয়ার রানের স্রোতে বাঁধ দেওয়া। যেভাবে শুরু করেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ- কোনো উইকেট না হারিয়ে রান তখন ১৫০ ছুঁইছুঁই। তখনই আঘাত হানেন আমির। ৮৪ বলে ৮২ রান কার ফিঞ্চকে মিড উইকেটের ওপর হাফিজের তালুবন্দি করেন। এরপর আবারও জুটি গড়ার চেষ্টা করে অসিরা। সেখানেও আমিরের গতি আর সুইংয়ে আটকা পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মিডল অর্ডার থেকে আরও দুই উইকেট তুলে নেন। স্লগ ওভারে তো আরও নিখুঁত আমিরের দেখা মেলে। বিপরীতে পাকিস্তানের বাকিরা দুই-একটা উইকেট নিলেও ছিলেন বেশ খরুচে।

অথচ এই আমিরকে ছাড়াই প্রথম দফায় স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান। যদিও তখন সময়টা তার অনুকূলে ছিল না। ফর্মহীনতায় ভুগছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাজে ফর্মকে বিবেচনার বাহিরে রেখে ফাইনাল স্কোয়াডে ডাক পান আমির। ইংলিশ উইকেটে পেসারদের দাপট দেখানোর সমীকরণটা বোধ হয় মিলিয়ে দেখেছিলেন পাকিস্তানের নির্বাচকরা। আমিরও কাগজে-কলমে তার প্রতিদান দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিন ম্যাচে অংশ নিয়ে ১০ উইকেট দখলে নিয়েছেন তিনি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলমান আসরের সর্বোচ্চ উইকেটটেকার তিনি। আট উইকেট নিয়ে তালিকার দুইয়ে আছেন নিউজিল্যান্ডের লকি ফার্গুসন। টনটনে প্রথম নামে পাকিস্তান। তবে আমিরের জন্য প্রথম নয়। নিষেধাজ্ঞার ঘর থেকে বেরোনোর পর ২০১৬ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখানেই খেলতে নেমেছিলেন তিনি। তাই ভেন্যুটা তার জন্যও এখন আরও বেশি সুখস্মৃতি হয়ে থাকবে। যদিও ইংল্যান্ড অনেক কারণেই আমিরের জন্য আশা-নিরাশার। ২০১০ সালে লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাকার বিনিময়ে ম্যাচ ফিক্সিং করার প্রমাণ মেলায় পাঁচ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজা বন্ধ হয়ে যায় তার। লম্বা একটা সময় দেশের জার্সি ছেড়ে থাকার পর আবারও ২২ গজে ফেরা। এরপর বল হাতে চমক দেখানো নিঃসন্দেহে তার জন্য অনেক বড় পাওয়া। তার ওপর যদি হয় ইংল্যান্ডের মাটি, তাহলে যে পোয়াবারো।

২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতে উঠেছিল পাকিস্তানের। এই ইংল্যান্ডে বিশ্বের বাঘা বাঘা দলকে পরাজিত করে স্বপ্নের শিরোপায় হাত রাখেন সরফরাজ-হাফিজরা। যে টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের পেস আক্রমণের মূল অস্ত্র ছিল আমিরের হাতেই। সে ক্ষেত্রে এবার বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টেও কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নোঙর করতে তার ওপর আস্থা রাখতে চাইবে পাকিস্তান।


মন্তব্য