স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপ এখনও মাঝপথেও পা রাখেনি, অথচ এরই মধ্যে বৃষ্টিতে পণ্ড হয়েছে তিনটি ম্যাচ। এই সপ্তাহে আরও বেশ কয়েকটি ম্যাচের দিনের পূর্বাভাসেও আছে বৃষ্টির শঙ্কা। প্রাথমিক পর্বের ম্যাচগুলোতে রিজার্ভ ডে না থাকায় এরই মধ্যে দর্শকরা নিজেদের বিরক্তি প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। রিজার্ভ ডে না থাকার সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডসও। তবে এক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, সঙ্গত কারণেই সব ম্যাচে রিজার্ভ ডে রাখা সম্ভব হয়নি।

গত ৭ জুন পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার মধ্যকার ম্যাচ বৃষ্টির জন্য মাঠে গড়াতে পারেনি, সম্ভব হয়নি টস করাও। ১০ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচে সাত ওভারের বেশি খেলা হতে পারেনি বৃষ্টির কারণে। আর সর্বশেষ গত ১১ জুন বৃষ্টিতে ভেসে গেছে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্যকার ম্যাচ।

বৃষ্টিবাধায় শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ না হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে রিজার্ভ ডে না রাখা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ রোডস। বলেন, 'ইংলিশ আবহাওয়াই এমন। এখানে কখন বৃষ্টি আসবে, সেটা কেউ জানে না। তবে এটা এখন এক বড় সমস্যা বলে মনে হচ্ছে। আমি জানি, আয়োজকদের জন্য হয়তো রিজার্ভ ডে রাখা কঠিন। কিন্তু আমাদের তো খেলার মধ্যে কয়েকটা দিন বিরতি আছে। আমরা এখন মানুষকে চাঁদে পাঠাতে পেরেছি, তাহলে বিশ্বকাপে রিজার্ভ ডে রাখতে পারব না কেন?'

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন রিজার্ভ ডে না রাখার পক্ষে সংস্থার বক্তব্য তুলে ধরেন। বলেন, রিজার্ভ ডে থাকলে পুরো টুর্নামেন্ট আয়োজনই অনেক জটিল হয়ে দাঁড়াত, 'প্রতিটি ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডের ব্যবস্থা করতে হলে টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য অনেকটা বেড়ে যাবে। আর সেটা হলে পুরো টুর্নামেন্ট ভালোভাবে আয়োজন করার কাজটা বেশ জটিল হয়ে যাবে। পিচ প্রস্তুত করা, দলগুলোর যাত্রা ও বিশ্রামের সময়সূচি, থাকার জায়গা, ভেন্যু প্রস্তুত করা, ম্যাচ অফিসিয়াল ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাপ্যতা, সরাসরি সম্প্রচার- সবকিছুর ওপরই প্রভাব পড়ত। সবচেয়ে বড় কথা, দর্শকদেরও সমস্যা হতো। তাছাড়া, রিজার্ভ ডেতে যে বৃষ্টি হবে না, সেটারও তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে রিজার্ভ ডে রেখেছি আমরা।'

রিজার্ভ ডে রাখার আরও নানামুখী সমস্যা রয়েছে জানিয়ে রিচার্ডসন জানান, ইংল্যান্ডে এ সময়ে এত বৃষ্টিপাত আশা করেনি আইসিসি, 'একটা ম্যাচ আয়োজনে প্রায় ১২০০ মানুষের সম্পৃক্ততা থাকে। রিজার্ভ ডেতে ম্যাচ রাখা মানে আরও বেশি মানুষকে এ প্রক্রিয়ায় যোগ করা। গত দু'দিনে জুনের গড় মাসিক বৃষ্টিপাতের দ্বিগুণেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে এখানে। অথচ এটা ইংল্যান্ডের তৃতীয় শুস্কতম মাস। আবহাওয়া এবার বেশ বিচিত্র আচরণ করছে। আশা করছি গ্রুপ পর্বের অধিকাংশ ম্যাচই ফলাফল দেখবে।'


মন্তব্য