কঠিন করে জিতল কুমিল্লা

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

কঠিন করে জিতল কুমিল্লা

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

স্কোর বোর্ডে ৭ ওভারেই উঠে গিয়েছিল ৬৫ রান। জয়ের জন্য বাকি ৬০ রান তুলতে হাতে ছিল ১৩ ওভার, উইকেট ছিল পুরো ১০টি। কিন্তু পরের ১০ ওভারে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স নিজেদের এমন জায়গায় নিয়ে গেল যে, জয়ের সম্ভাবনা জেগে উঠল রাজশাহী কিংসেরও। ৭৮ বলে ৬০ রান সমীকরণের ম্যাচ শেষ ১৮ বলে নেমে এলো ১৪ রানে, উইকেটও ততক্ষণে পাঁচটি নেই। তবে দিনের প্রথম ম্যাচের মতো এটিতে আর শেষের বিপর্যয় ঘটতে দেননি লিয়াম ডসন-শহিদ আফ্রিদিরা। সহজ ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত কঠিন করে কুমিল্লা জিতল ৮ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে। তিন ম্যাচ খেলে এটি কুমিল্লার দ্বিতীয় জয়, বিপরীতে রাজশাহী কিংসের তিন ম্যাচে দ্বিতীয় হার।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের এ ম্যাচটি কঠিন করে তোলে কুমিল্লার মিডল অর্ডার। এনামুল হকের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়ার পর এভিন লুইস আউট হন ব্যক্তিগত ২৮ রানে। বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ওপেনিংয়ে খেলা ব্যাটসম্যানের কমতি ছিল না কুমিল্লা স্কোয়াডে। তামিম ইকবাল নামেন তিন নম্বরে, ইমরুল কায়েস চারে। বড় ইনিংস খেলতে পারেননি এদের কেউই। ১১তম ওভারে উদানার সরাসরি থ্রোতে রানআউট হওয়ার আগে এনামুলই কেবল ৪০ রানের ইনিংস খেলে যান। যদিও তার ইনিংস দিয়েই কুমিল্লার ধীর ব্যাটিংয়ের শুরু। ডানহাতি এ ওপেনার প্রথম ২০ বলে নেন ৩৪ রান। সেট হয়ে যাওয়ার পর পরের ৬ রান করতেই খেলেন ১২ বল। তার মতো তাল মিলিয়ে ধীরলয়ে খেলেছেন তামিমও। ১৪তম ওভারের শেষ বলে দলকে ১০১ রানে রেখে তামিম যখন মিরাজের শিকার হন, ততক্ষণে ২১ রান করতেই ২৫ বল খেলে ফেলেছেন। তামিমের পর শোয়েব মালিক আর ইমরুল কায়েসও ফিরে গেলে শেষ মুহূর্তে চাপে পড়ে যায় ভিক্টোরিয়ান্স। তবে ষষ্ঠ জুটিতে ১৪ বলে ২২ রান তুলে চূড়ান্ত বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন ডসন-আফ্রিদিরা। স্টিভেন স্মিথের পরিবর্তে নামা ডসন ৯ বলে করেন ১২ রান, আর টানা তৃতীয় ম্যাচে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়া আফ্রিদি জয়সূচক ছয় নিয়ে ৫ বলে করেন ৯ রান।

এর আগে বল হাতেও দারুণ সফল ছিলেন বয়স ৩৯-এরর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তানি এ অলরাউন্ডার। চার ওভার বল করে মাত্র ১০ রানে নেন ৩ উইকেট। তবে শুরুটা করেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। মুমিনুল হক ও সৌম্য সরকারকে হারিয়ে যে ধসের শুরু করেন, সেটির প্রভাবে রাজশাহী কিংস ১৮.৫ ওভার খেলে অলআউট ১২৪ রানে। রাজশাহীর ইনিংসে ৬৩ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর বাকি ৬১ রান যোগ করায় বড় অবদান জাকির হাসান (২৭) ও ইসুরু ইদানার (৩২)।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রাজশাহী কিংস :১৮.৫ ওভারে ১২৪/১০ (উদানা ৩২, মিরাজ ৩০, জাকির ২৭, হাফিজ ১৬; আফ্রিদি ৩/১০, ডসন ২/১৭, সাইফুদ্দিন ২/২৫, রনি ২/৩৭)।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স :১৮.৪ ওভারে ১৩০/৫ (এনামুল ৪০, লুইস ২৮, তামিম ২১; কায়েস ১/২১, মুস্তাফিজ ১/২৪)।

ফল :কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৫ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা :শহিদ আফ্রিদি।


মন্তব্য যোগ করুণ