আলিস-চমকে ঢাকার জয়

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

আলিস-চমকে ঢাকার জয়

  দীপায়ন অর্ণব

হাজার পঁচিশেক দর্শক, চার-ছক্কায় রানের বন্যা আর দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা- ঢাকা ডায়নামাইটস আর রংপুর রাইডার্সের গতকালের ম্যাচটা যেন হয়ে রইল আদর্শ এক টি২০ ম্যাচের নমুনা। কিয়েরন পোলার্ড ঝড় তুললেন, সেই ঝড়ের জবাব দিলেন রাইলি রুশো, পোলার্ড-রাসেলের দারুণ এক ক্যাচে ফিরলেন ক্রিস গেইল। তবে দু'দলের বড় তারকাদের ছাপিয়ে ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিলেন ঢাকার নবাগত এক ক্রিকেটার আলিস আল ইসলাম। বিপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করলেন, সুবাদে ব্যাকফুটে থাকা ঢাকাকেও ফিরিয়ে আনলেন ম্যাচে। এরপর আর পথ হারায়নি ঢাকা। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর রাইডার্সকে ২ রানে পরাজিত করে সাকিব আল হাসানের ডায়নামাইটস।

১৮তম ওভারে নিজের তৃতীয় ওভারটা করতে এসে তৃতীয় বলে ফিরতি এক ক্যাচ ছেড়েছিলেন আলিস। এর আগে অষ্টম ওভারেও তিন বলের ব্যবধানে ছেড়েছিলেন মোহাম্মদ মিঠুনের লোপ্পা ক্যাচ। সবচেয়ে বড় কথা, তিনটি ক্যাচই ছেড়েছিলেন মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে। খলনায়ক হওয়ার সব জোগাড়যন্ত্রই তাই সম্পন্ন ছিল। কিন্তু ১৮তম ওভারের শেষ তিন বলেই খলনায়কের বদলে রীতিমতো নায়ক বনে গেলেন 'অপরিচিত' ক্রিকেটার। সেই তিন বলে নিলেন রংপুর রাইডার্সের তিনটি উইকেট। তার সেই হ্যাটট্রিকে যে ধাক্কাটা খেল রংপুর, সেটা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। ঢাকার দেওয়া ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় তারা থামে ১৮১ রানে।

আলিসের হ্যাটট্রিকের পরের ওভারে সোহাগ গাজী ও বেনি হাওয়েলের উইকেট তুলে নিয়ে ঢাকার জয়ের রাস্তা আরও প্রশস্ত করেন সুনিল নারিন। জয়ের জন্য শেষ ওভারে রংপুরের দরকার ছিল ১৪ রান। আলিসের করা শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে দুটি চার মেরে জয়টাকে হাতের নাগালে নিয়ে এসেছিলেন রংপুরের পেসার শফিউল ইসলাম। কিন্তু পরের তিন বল থেকে মাত্র ২ রান আসায় শেষ বলে দরকার ছিল ৪। সেই বলে এক রানের বেশি খরচ করেননি আলিস।

ঢাকার ১৮৩ রানের জবাবে রংপুরের শুরুটা অবশ্য খুব একটা আশাজাগানিয়া ছিল না। তৃতীয় ওভারেই শুভাগত হোমের বলে রাসেল আর পোলার্ডের যুগলবন্দিতে দারুণ এক ক্যাচে ফেরেন গেইল। পরের ওভারে রাসেল ফেরান আরেক ওপেনার মেহেদি মারুফকে। ২ উইকেটে ঢাকার সংগ্রহ তখন ২৫ রান। সেখান থেকে রংপুরকে ম্যাচে ফেরায় রুশো ও মিঠুনের দুর্দান্ত এক জুটি। তৃতীয় উইকেটে মাত্র ১২ ওভারে এই দু'জন স্কোরকার্ডে তোলেন ১২১ রান।

আট চার ও চার ছক্কায় ৪৪ বলে ৮৩ রান করা রুশোকেও স্টাম্পিংয়ের শিকার বানিয়ে ফেরান আলিস। পরের ওভারে নতুন ব্যাটসম্যান রবি বোপারাকে আউট করেন সাকিব। শেষ তিন ওভারে এরপর আলিসের হ্যাটট্রিক আর নারিনের দুই উইকেটেই রংপুরের জয়ের স্বপ্ন মিলিয়ে যায়।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা ঢাকার ব্যাটিংয়ের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। চার ওভারে ৩৩ রানের মধ্যেই তারা হারায় হজরতুল্লাহ জাজাই, নারিন ও রনি তালুকদারের উইকেট। খানিকবাদে ফেরেন মিজানুর রহমানও। শুরুর সেই বিপর্যয়। এরপর দারুণভাবে সামাল দেন পোলার্ড-সাকিব জুটি। ৬.৪ ওভার স্থায়ী এই জুটিতে ঢাকা তোলে ৭৮ রান। পোলার্ডের ২৬ বলে পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কায় ৬২ রানের ইনিংস শেষ হয় হাওয়েলের বলে। আউট হওয়ার আগে ৩৭ বলে ৩৬ রান করেন সাকিব। শেষ দিকে আন্দ্রে রাসেলের ১৩ বলে ২৩ রানের ইনিংসে ঢাকার স্কোর ১৮০ ছাড়ায়।


মন্তব্য