চ্যাম্পিয়ন পদ্মাপাড়ের ছেলেরা

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

চ্যাম্পিয়ন পদ্মাপাড়ের ছেলেরা

সাত বছর পর জাতীয় ক্রিকেট লীগের শিরোপা পেল রাজশাহী। দীর্ঘদিন পর এমন অর্জনে খুশি একটু বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। গতকাল নিজেদের ষষ্ঠ জাতীয় ক্রিকেট ট্রফি সামনে নিয়ে এভাবে ফটোসেশন করেন জহুরুল সাব্বিররা - শরিফুল ইসলাম তোতা

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

শিরোপা রাজশাহীর হাতের নাগালে চলে এসেছিল আগের দিনই। গতকাল সে আনুষ্ঠানিকতা সারলেন জুনায়েদ-জহুরুলরা। ৬ উইকেটে বরিশালকে হারিয়ে সাত বছর পর জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) শিরোপা ঘরে তুলল রাজশাহী। এটি পদ্মাপাড়ের ছেলেদের ষষ্ঠ জাতীয় ক্রিকেট শিরোপা। এত দিন প্রথম শ্রেণির এ টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি শিরোপা ছিল খুলনার। এবার তাদের পাশে বসল রাজশাহী। আর রাজশাহীর কাছে হেরে দ্বিতীয় স্তরে নেমে গেছে বরিশাল। দ্বিতীয় স্তরে সবার ওপরে থাকা ঢাকা বিভাগ প্রমোশন পেয়েছে প্রথম স্তরে।

বুধবার রাজশাহীর সামনে ২৮৪ রানের টার্গেট দিয়েছিল বরিশাল। ২ উইকেটে ১৮২ রান তুলে বুধবারেই কাজ অনেকটা এগিয়ে রেখেছিল তারা। গতকাল শেষ দিনে জয়ের জন্য রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল ১০২ রান, হাতে ছিল ৮ উইকেট। জয়ের গন্ধ পাওয়া রাজশাহী সকালের সেশনে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। জুনায়েদ সিদ্দিকীর সেঞ্চুরি ও জহুরুলের হাফ সেঞ্চুরিতে অতি সহজেই তারা জয় তুলে নেয়। ৬৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা জুনায়েদ সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। শেষ পর্যন্ত তিনি ১২০ রানে অপরাজিত ছিলেন। অধিনায়ক জহুরুল ৬৪ রান করে আউট হন। ডাবল লেগ পদ্ধতির জাতীয় লীগে ছয় ম্যাচে দুটি জয় ও চারটি ড্রতে ৩৪.৮১ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে জায়গা করে নেয় রাজশাহী। ২৪.৫৯ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে উত্তরের আরেক দল রংপুর। আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন খুলনা ১৬.১৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছে। ১৪.৬১ পয়েন্ট পাওয়া বরিশাল নেমে গেছে প্রথম বিভাগে।

এক সময় জাতীয় লীগে পদ্মাপাড়ের ছেলেদের একচ্ছত্র দাপট ছিল। ২০০৮-০৯ থেকে ২০১১-২০১২ -টানা এই চার মৌসুম শিরোপা উঠেছে রাজশাহীর ঘরে। তবে গত ক'বছর খুলনার দাপটের কাছে তারা পাত্তাই পাচ্ছিল না। গত তিন মৌসুম হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতেছিল খুলনা। এবার খুলনার আধিপত্য ভেঙে দেয় রাজশাহী। অথচ গত মৌসুমেও রাজশাহী খেলেছিল দ্বিতীয় স্তরে। ঢাকা মেট্রো, সিলেট ও চট্টগ্রামকে পেছনে ফেলে প্রথম স্তরে উঠে আসে তারা এবং প্রথম স্তরে এসেই শিরোপা জিতে নেয়। মজার ব্যাপার হলো, এবার জাতীয় লীগের শীর্ষ পাঁচ রান সংগ্রহকারীর তালিকায় রাজশাহীর একজনও নেই। জুনায়েদ সিদ্দিকী সপ্তম, জহুরুল নবম ও মিজানুর রহমান আছেন একাদশ স্থানে। বোলিংয়ে অবশ্য ফরহাদ রেজা তৃতীয় ও সানজামুল ইসলাম চতুর্থ স্থানে আছেন। রাজশাহী শিরোপা জিতেছে মূলত দলীয় প্রচেষ্টায়। ব্যাটিংয়ে জুনায়েদ, জহুরুল, মিজানুর ধারাবাহিকভাবে রান করেছেন। কোনো দলেরই তিনজন ব্যাটসম্যান ভালো করতে পারেননি। এ ছাড়া প্রথম দুই রাউন্ড খেলা নাজমুল হোসেন শান্তও ভালো করেছেন। এমনকি সাব্বির রহমান তেমন ভালো করতে না পারলেও প্রয়োজনের সময় ঠিকই অবদান রেখেছেন। দুর্দান্ত বোলিং করা সানজামুলও ব্যাট হাতে দুটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। রাজশাহীর শিরোপা জয়ের মূল কারিগর হলেন দুই বোলার ফরহাদ রেজা ও সানজামুল। উইকেট শিকারে তাদের উপরে থাকা নাইম হাসান ও আরাফাত সানি কিন্তু দ্বিতীয় স্তরের। অভিজ্ঞ মিডিয়াম পেসার ফরহাদ রেজা ধারাবাহিকভাবে এবার ভালো বোলিং করেছেন। আর সানজামুল তো একটি ম্যাচ একা জিতিয়েছেন। দুটি করে ম্যাচ খেলা দুই পেসার শফিউল ও মোহর শেখও চমৎকার বোলিং করেছেন।

দ্বিতীয় স্তরে সেরা ঢাকা বিভাগ

এক মৌসুম পরই প্রথম স্তরে ফিরে এলো ঢাকা বিভাগ। কক্সবাজারে গতকাল শেষ দিনে সিলেটের রাজিন সালেহ, জাকের আলী ও শাহানুর রহমানের মন্থর ব্যাটিংয়ে কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়েই নামা হয়নি ঢাকার। তাই ড্র হয়েছে ম্যাচ। জীবনের শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে নামা রাজিন সালেহ উভয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করায় ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন। আর এ ড্র ম্যাচ থেকে চার পয়েন্ট তুলে নিয়ে দ্বিতীয় স্তরে শীর্ষস্থানটি দখল করলেন আবদন্ধুল মজিদ-শুভাগতরা। ছয় রাউন্ডের জাতীয় লীগে দুটি জয় ও তিনটি ড্রতে ২৯.৩৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ঢাকা। একটি জয় ও তিনটি ড্র করে ২৫.১৩ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পেছনেই আছে ঢাকা মেট্রো। গতকাল চট্টগ্রামের বিপক্ষে জিততে পারলে সুযোগ ছিল ঢাকা মেট্রোর সামনে। কিন্তু ২৪৫ রানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামা চট্টগ্রামের ৪টি বেশি উইকেট ফেলতে পারেনি ঢাকা মেট্রো।


মন্তব্য যোগ করুণ