বন্ধু পিঁপড়া

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

বন্ধু পিঁপড়া

পিঁপড়াদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। যেখানেই পিঁপড়ার দেখা মিলবে সেখানেই তারা দলবদ্ধ হয়ে থাকে। একা একা তাদের দেখা পাওয়া ভার। মজার ব্যাপার হলো- এদের মধ্যে যোগাযোগ হয় দুইভাবে। এক. তারা নিজেদের অ্যান্টেনার সাহায্যে একে অন্যের ঘ্রাণ নেয়। দুই. ফেরোমোন নামে এক ধরনের রাসায়নিক সংকেত ব্যবহার করে। তবে স্পর্শন ও রাসায়নিক উভয় ধরনের উদ্দীপকই ব্যবহার করে বলে অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা। পিঁপড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নানা ধরনের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে তাদের সংখ্যা দমিত রাখে। পিঁপড়া ব্যাঙ, টিকটিকি, পাখিসহ অনেক ধরনের প্রাণীর খাদ্য। এরা কৃষকদের উপকারেও আসতে পারে আবার ক্ষতির কারণও হতে পারে।

পৃথিবীতে এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার প্রজাতির পিঁপড়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। আর বাংলাদেশে রয়েছে মাত্র ২৫০ প্রজাতি। তবে এ দল নিয়ে উল্লেখযোগ্য তেমন গবেষণা হয়নি। আমাদের দেশে পরিচিত প্রজাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে লাল পিঁপড়া, কালো পিঁপড়া, ডেঁয়ো পিঁপড়া, বিষ পিঁপড়া, ক্ষুদে পিঁপড়া ইত্যাদি। পিঁপড়ারা একটি সামাজিক দলে বা কলোনিতে থাকতে পারে কয়েক ডজন থেকে হাজার সদস্য। এদের প্রত্যেকটি কলোনিতে তিন জাতের সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়- রানী, শ্রমিক ও পুরুষ। সাধারণত এক বা একাধিক রানী, বহু স্ত্রী শ্রমিক এবং কতিপয় পুরুষ সদস্য থাকাটাই নিয়ম। বড় আকারের শ্রমিকরা সেনা পিঁপড়া নামে পরিচিত। এদের সাধারণত বড় মাথা এবং বড় ম্যান্ডিবল থাকে। শত্রুর আক্রমণ বা ক্ষতি থেকে কলোনি রক্ষার দায়িত্ব এদের। কোনো কোনো পিঁপড়া মাটির নিচে বাসা বানায়; আবার গাছে বাসা তৈরি করে। কেউ কেউ পাথর বা শিলার তলায়, গাছের ফোঁকরে, গুঁড়ির নিচে অথবা এ ধরনের স্থান বেছে নেয় বাসা তৈরির উদ্দেশ্যে।

লেখা : নাজমুল হক ইমন


মন্তব্য যোগ করুণ

সারাবেলা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ